Bengali Industry Politics: '২০১১ থেকে রাজনীতি টলিউডে', যা বললেন চন্দন-সৌরভরা

টলিপাড়ার ইন্ডাস্ট্রির ট্যাগলাইন 'বাংলা সিনেমার পাশে থাকুন'। কিন্তু মজার বিষয় হল বাংলা সিনেমার সঙ্গে যাঁরা বা যে সময় গুণী মানুষেরা যুক্ত, তাঁরাই একে-অপরের সঙ্গে নেই। বেশ কয়েক মাস ধরেই অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্যের সঙ্গে ফেডারেশনের সদ্ভাব না থাকায়, কোপ পড়েছে তাঁর কেরিয়ারের একাংশে।

Advertisement
'২০১১ থেকে রাজনীতি টলিউডে', যা বললেন চন্দন-সৌরভরাটলিপাড়ায় কেমন রাজনীতি চলে?
হাইলাইটস
  • বেশ কয়েক মাস ধরেই অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্যের সঙ্গে ফেডারেশনের সদ্ভাব না থাকায়, কোপ পড়েছে তাঁর কেরিয়ারের একাংশে।

টলিপাড়ার ইন্ডাস্ট্রির ট্যাগলাইন 'বাংলা সিনেমার পাশে থাকুন'। কিন্তু মজার বিষয় হল বাংলা সিনেমার সঙ্গে যাঁরা বা যে সময় গুণী মানুষেরা যুক্ত, তাঁরাই একে-অপরের সঙ্গে নেই। বেশ কয়েক মাস ধরেই অভিনেতা অনির্বাণ ভট্টাচার্যের সঙ্গে ফেডারেশনের সদ্ভাব না থাকায়, কোপ পড়েছে তাঁর কেরিয়ারের একাংশে। ইন্ডাস্ট্রিতে নাকি ব্যান অনির্বাণ ভট্টাচার্য। ফেডারেশনের রাজনীতির ফাঁদে আটকে অভিনেতার হাতে সিনেমা-সিরিজের কোনও কাজই নেই। আর এই নিয়েই bangla.aajtak.in-এ মুখ খুললেন অভিনেতা চন্দন সেন ও পরিচালক সৌরভ পালোধি। 

চন্দন সেন টলিপাড়ার চলা এই রাজনীতি নিয়ে বলেন, 'আগে ছিল না। ২০১১ সালের আগে এই সংস্কৃতি ছিল না। আমি ৮৫ সাল থেকে কাজকর্ম করছি। ২০১১ সালের আগে কোনও রাজনৈতিক নেতা, তাঁরা এসে ঠিক করবেন, কীভাবে কাজ হবে, কীভাবে শ্যুট হবে ইত্যাদি ইত্যাদি এইসব করে ফতেয়া জারি করছে। তাঁদের কথা না শুনলে কাজকর্ম পাওয়া যাচ্ছে না, কাজকর্ম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, একঘরে হয়ে যাচ্ছেন, এরকম কখনও হয়নি। ২০১১ সালের পরবর্তী অধ্যায়ে আমি দেখতে শুরু করলাম একেবারে অন্য দৃশ্য। ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত আমার সঙ্গে কেউ কথাও বলত না, দেখা হলে মুখ ফিরিয়ে চলে যেত, কাজকর্ম হাতে ছিল না।' অভিনেতা আরও বলেন, 'আমি বারবার একটা কথাই বলেছি যে শ্রমিক স্বার্থের জন্য যদি কিছু করতেই হয়, তাহলে সেটা সময়ের সঙ্গে উপযোগী করে, অর্থাৎ আজকে ডিজিটাল ক্যামেরার যুগে অত আলো লাগে না, ক্যামেরা ম্যানের ওপর নির্ভর করে কত লোক লাগবে, নির্দেশকের ওপর নির্ভর করে কত লোক লাগবে পুরো শ্যুটের জন্য। এবার যত বেশি প্রযোজক আসা শুরু করবে, যেহেতু এটা খুব ছোট ইউনিট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, তাহলে কাজ বাড়ার কথা, কিন্তু প্রতি মুহূর্তে যদি ঠিক করে দেওয়া হয় যে কতজন লোক নিতেই হবে, না নিলে আমরা কাজ করতে দেব না, তাহলে সেক্ষেত্রে প্রযোজকের সংখ্যা বাড়বে না, সংখ্যা কমে যাবে। আমরা দেখতে পেয়েছি বড় প্রযোজনা সংস্থাও, যারা শাসক দলের সঙ্গে নেই, তারা ক্রমশঃ বেড়িয়ে যাচ্ছে। শ্রমিক স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে যদি সেই শ্রমিকেরই ক্ষতি হয়, তাঁদের কাজের ক্ষতি হয়, তাহলে তো সেই কাজের কোনও অর্থ নেই।' 

Advertisement

অনির্বাণের নিষিদ্ধ হওয়া নিয়ে অভিনেতা বলেন, 'অনির্বাণ ও তৎসংলগ্ন আরও কিছু ছেলে-মেয়ে যে সিদ্ধান্তটা নিয়েছিলেন এবং যে বিক্ষোভটা দেখিয়েছিলেন তা সঠিক বিক্ষোভ ছিল। এটা তো কোনও অন্যায় বিক্ষোভ ছিল না। যদিও আমার সব সময় মনে হয় যে এই প্রতিবাদ প্রযোজকদের দেখানো উচিত ছিল, কিন্তু দেখালেন না। তাদের বদলে কিছু পরিচালকরা দেখালেন, যাঁদের কাছে জীবন-জীবিকাটা সমস্যার জায়গা, হঠাৎ করে তাঁদের মধ্যে থেকে অধিকাংশ জনই সরে দাঁড়ালেন, অন্ধকারে ফেলে রেখে দিয়ে চলে গেলেন, এখন বলছেন আমি ওঁর হয়ে ক্ষমা চাইছি। আমি জানি না, অনিবার্ণ কি আদৌও তাঁদের অনুমতি দিয়েছে তাঁর হয়ে ক্ষমা চাইতে। আমার মনে হয় না অনির্বাণ অনুমতি দিয়েছে। যাইহোক এই অবস্থা খুব একটা ভাল নয়, আর আমার মনে হয় না তা ভাল হবে।' অনির্বাণের কাজ না পাওয়ার ঘটনায় কষ্ট পেয়েছেন অভিনেতা। চন্দন সেন আরও বলেন, 'সংগঠনের অসন্তুষ্টির কথা সকলেই জানেন। তবে যারা যারা চুপ করে থাকেন, তারা হয়তো মনে করতে পারেন যে আমি তো আপাতত বাঁচালাম কথা না বলে, কিন্তু যত চুপ করে যাচ্ছেন, তত যে যার বিরুদ্ধে চুপ করে যাচ্ছেন তার যে ক্ষমতা বাড়ছে, এটা নিয়ে কখনও ভাবছেন তা তারা। আর একটা সময়ে এসে সেই ক্ষমতাই আপনার চুপ করে থাকা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করবে। প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ছিল না। আজকে যাঁরা হস্তক্ষেপ করছেন, তাঁরাও ভাল করে জানেন যে ছিল না।' 

ক্ষোভ উগরে দিয়ে 'অঙ্ক কি কঠিন' পরিচালক সৌরভ পালোধি বলেন, 'অনির্বাণ ভট্টাচার্যকে ব্যান করার অধিকার কে দিয়েছে? এই টলিপাড়াই তো এদের হাতে ব্যান করার অধিকার তুলে দিয়েছে। আদালত থেকে কি কোনও অর্ডার এসেছে যে অনির্বাণ কোনও কাজ করতে পারবেন না? এই সময়ে দাঁড়িয়েও অভিনেতার হাতেও কিন্তু একটা-দুটো সিনেমার প্রস্তাব এসেছে, কিন্তু সেটা তিনি করছেন না নাকি প্রযোজকেরা করাতে সাহস পাচ্ছেন না জানি না। আজ যদি আমি সেই 'ব্যান' অভিনেতাকে নিয়ে কাজ করি, তাহলে কী হবে? টেকনিশিয়ানরা আসবেনা কাজে? তাহলে বাইরের টেকনিশিয়ান নিয়ে শ্যুটিং হবে। আমি বুঝতে পারছি না, ব্যান শব্দটা অনির্বাণ ভট্টাচার্য কী করে মেনে নিচ্ছেন, সেটাও বুঝতে পারছেন না। এই ব্যান শব্দটা কে দিল, উনি একজন শিল্পী। তিনি চাইলেই একগাদা থিয়েটারে কাজ করতে পারেন, ইন্ডাস্ট্রি মানে তো শুধু সিনেমা নয়।' 

হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া আর কেউ কেন প্রতিবাদে নেই? পরিচালক বলেন, 'আমি প্রতিবাদ কী করে করব? আমি তো রাজনৈতিক মানুষ নই, শিল্পকে বেছে নিয়েছি কাজের জন্য। আমরা সিনেমা ও থিয়েটারের মাধ্যমে গল্প বলব। আমি আমার শিল্পের মাধ্যমে এই গল্পকে তুলে ধরব। সিনেমাতেও এমন বিষয় বাছার চেষ্টা করি, যেখানে সমাজের কাহিনীকে তুলে ধরা হবে। আমি আমার ধরনে বলব, আমি তো সত্যি গিয়ে ট্রেড ইউনিয়নের আইনে কী লেখা আছে তা দেখব না, আমার সত্যি সেই বিষয়ে পড়াশোনা নেই। এটা তো এমনি বিরোধ করা যায় না, পড়ে বিরোধ করতে হবে। আমার গিল্ডের লোক নিতে আপত্তি নেই। আমার যতজন প্রয়োজন ততজনকে নেব, কিন্তু গিল্ড থেকে নেব। কিন্তু তুমি আমাকে দাগিয়ে দিতে পার না যে কতজনকে নেব, আমার তাতে আপত্তি। আমার বিরোধ আমার কাজে থাকবে। আমার এই নেক্সাসের বিরুদ্ধে কথা বলতে হলেও কাজটাই প্রয়োজন। কাজের বাইরে কথা বলতে পারব না।'

Advertisement

প্রসঙ্গত, কমবেশি প্রায় ৬ মাস ধরে অভিনয়, পরিচালনা কোনও কিছুতেই দেখা যাচ্ছে না অনির্বাণকে। ফেডারেশনের সঙ্গে আলোচনায় বসেও সুরাহা বের হয়নি অভিনেতার। তবে শোনা যাচ্ছে, অবশেষে নাকি বরফ গলছে। অভিনয়ে ফিরতে চলেছেন অভিনেতা-পরিচালক। যদিও তাঁর তরফ থেকে এ বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। তার পরেও গুঞ্জন, ফেডারেশন সভাপতির সঙ্গে নাকি তাঁর কথা হয়েছে। মুখোমুখি বসেওছিলেন তাঁরা। তার পরেই বিষয়টি সম্ভবত ইতিবাচক দিকে গড়াতে চলেছে। শোনা যাচ্ছে, মার্চের মাঝামাঝি ফেডারেশন-অভিনেতার উপস্থিতিতে নাকি অনির্বাণের ‘ঘর ওয়াপসি’র ঘোষণা হতে পারে। ১৫ জন পরিচালক ফেডারেশনের বিরুদ্ধে কলকাতা হাই কোর্টে গিয়েছিলেন, অনির্বাণ তাঁদের মধ্যে অন্যতম। সেই সময়ে ওই ১৫ জন পরিচালক ‘নিষিদ্ধ’ হয়ে গিয়েছিলেন। অনির্বাণ ছাড়া বাকিরা পরে নাকি নানা ভাবে ‘সমঝোতা’য় আসেন। কাজে ফেরেন। হাইকোর্টে মামলা খারিজ হয়ে যায়। এরপরই নাকি ফেডারেশনের সঙ্গে অভিনেতার মান-অভিমান মিটেছে।    


 

POST A COMMENT
Advertisement