অপরাজিতা আঢ্য ছবি সৌজন্যে: ফেসবুকবয়স একটু বাড়লেই মেয়েদের সাজগোজ নিয়ে ট্রোল-কটাক্ষ হওয়া নতুন কিছু নয়। বিশেষ করে মহিলারা চল্লিশের কোঠা পেরোলেই তাঁদের নিয়ে কটাক্ষ একটু বেড়েই যায়। সেই তালিকায় তারকারাও রয়েছেন। বয়স বাড়লে মহিলাদের সাজ-পোশাক কেমন হওয়া উচিত, তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পাঠ শেখানোর জন্য নেটিজেনদের সংখ্যা নেহাত কম নয়। এবার সেই নেটিজেনদের একহাত নিলেন অভিনেত্রী অপরাজিতা আঢ্য। লাল টুকটুকে শাড়ি পরে বুঝিয়ে দিলেন তিনি বুড়ি নন, তিনি পূর্ণ।
সম্প্রতি অপরাজিতা আঢ্য তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পেজে শিমারি লাল রঙের শাড়ি ও লাল লিপস্টিক পরা বোল্ড ছবি পোস্ট করেন। তবে এই ছবি পোস্ট করার সঙ্গে তিনি সমাজের তথাকথিত বয়সের খোঁচা, ব্যাঁকা নজর ও বয়স হলেই মহিলাদের অন্য চোখে দেখার বিষয়ে একহাত নিলেন অপরাজিতা। অপরাজিতা তাঁর পোস্টের মাধ্যমে খোঁচা দিয়েছেন সমাজের সেই অংশকে, যাঁরা ভাবেন বুড়ি হলেই মহিলাদের সব শখ-আহ্লাদ শেষ। আর সেখানেই অপরাজিতা চিরাচরিত বস্তা পচা চিন্তাধারার বিপক্ষে গিয়ে রুখে দাঁড়িয়েছেন। অপরাজিতা লিখেছেন, চল্লিশ ছুঁলেই সবাই বলে উফ! বুড়ি হয়ে গেলে! আমি বলি, বেশ তো ভাই, বয়সটা কি ফ্রিজে রেখে দেব নাকি?
অভিনেত্রী তাঁর পোস্টে অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও আটপৌরে জীবনের রসদ দিয়ে সমাজের দিকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘বয়স বাড়লে কি সংসারের দায়িত্ব কমে? EMI-এর কিস্তি কি কমে যায়? কিংবা সকালের রান্না কি নিজে নিজেই হয়ে যায়? যদি দায়িত্বের বেলায় বয়সের কোনও ছাড় না মেলে, তবে সাজগোজ, লাল শাড়ি পরা কিংবা প্রেমের গান শোনার বেলায় সমাজ কেন উপদেশের ঝুলি নিয়ে হাজির হয়? বয়সের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ আরও গভীর হয়। অপরাজিতার কথায় পরিণত। এই পোস্টটি আসলে বয়সের বেড়াজালে বন্দী হতে অস্বীকার করা এক লড়াকু মনের ইস্তাহার।
অপরাজিতার কথায়, কুড়িতে ছিলাম কুঁড়ি, ত্রিশে হয়েছি নদী, চল্লিশে এসে বুঝেছি— আমি আসলে সমুদ্র! আমার ঢেউ আছে, আমার গভীরতা আছে, আমার ঝড় আছে, আর আছে নিজের মতো বাঁচার সাহস। এবার অপরাজিতা সমাজকে স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিলেন বয়স বাড়া কোনও অপরাধ নয়। অভিনেত্রী বললেন, তিনি বুড়ি নন, তিনি পরিণত, তিনি পূর্ণ। তাঁর কথায়, ‘নারী বুড়ো হয় না, নারী শুধু প্রতি বছর আরও একটু গল্প হয়ে ওঠে।’ কিন্তু সমাজের অপরাধ হলো একজন নারীর বয়স দেখে তার রঙিন মনটাকে জোর করে অবসর দিয়ে দেওয়া।