অরিজিৎ সিং তাঁর রেস্তোরাঁর কর্মীদের সঙ্গেআট থেকে আশি সকলেই মজে অরিজিৎ সিং-এর কন্ঠের যাদুতে। তাঁর জনপ্রিয়তা যেমন আকাশ ছোঁয়া তেমনি তিনি মাটির কাছাকাছি থাকতেই ভালোবাসেন। মুম্বইয়ের বিলাসবহুল ফ্ল্যাট বা বাংলো, লাক্সারিয়াস গাড়ি অথবা সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে মোটেও ভালোবাসেন না গায়ক। নিজের শিকড় মূর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জেই স্ত্রী কোয়েল ও দুই সন্তানকে নিয়ে বাবার সঙ্গে থাকেন অরিজিৎ। মাঝে মধ্যেই তাঁকে জিয়াগঞ্জের অলিতে গলিতে স্কুটি নিয়ে দেখা যায়। বিশ্বজোড়া নাম-ডাক যাঁর, সেই অরিজিৎ-এর সাদামাটা জীবন দেখে অনেকেই অবাক হন। অরিজিৎ-এর বাবার একটি হোটেল রয়েছে জিয়াগঞ্জে, যার নাম হেঁশেল। সেখানে গায়ককে দেখার জন্য ভিড় যে হয় না এমনটা না। এবার স্বয়ং অরিজিৎ নিজে এলেন তাঁর হোটেলে, কথাব বললেন, ছবি তুললেন হোটেলের কর্মীদের সঙ্গে।
আচমকাই নিজের হোটেলে ঢুঁ মারেন অরিজিৎ। হলুদ পাঞ্জাবি-পায়জামা, কোঁকড়া চুল, পায়ে চটি আর মুখে সেই চেনা হাসি নিয়ে সোজা হাজির হলেন নিজের রেস্তোরাঁ হেঁশেল-এ। হেঁশেলের কর্মীরা তাঁকে আচমকা দেখে হকচকিয়ে গিয়েছিলেন। যাঁর গান শোনার জন্য লক্ষ লক্ষ টাকা টিকিট কেটে কনসার্টে যেতে হয়, সেই অরিজিৎ নিজে হেঁটে এসেছেন হেঁশেলের কর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে। তার পরই সব জড়তা ভেঙে গেল। কারণ, তিনি এলেন বস হয়ে নয়, দাদা হয়ে। বড়দা। একটা কাঠের টেবিলে সবাইকে নিয়ে বসলেন।
রেস্টুরেন্টের ভিতরের ছবিটা ছিল দেখার মতো। একসঙ্গে বসে আড্ডা, হাসি, গান। কর্মীদের সঙ্গে বসে খাবার খাওয়া, তাঁদের সুখ-দুঃখের খবর নেওয়া। কোথাও এতটুকু অভাব ঘটেনি আন্তরিকতার। হেঁশেলের এক কর্মী বলেন, দাদা এসে আমাদের সঙ্গে যেভাবে মিশলেন, মনে হল পরিবারের কেউ এসেছে। শুধু তাই নয়, সবাই মিলে সেলফির আবদার করতেই হাসিমুখে রাজি হয়ে গেলেন অরিজিৎ । কারও সঙ্গে দু'মিনিট দাঁড়িয়ে গল্পও করলেন। তারকাসুলভ কোনও বেড়াজাল ছিল না তাঁর। অরিজিতের সঙ্গে হেঁশেল কর্মীদের সেই সেলফি সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো ভাইরাল। কমেন্ট বক্সে শুধুই অরিজিতের প্রশংসা। তাঁর এই সরল জীবন যাপন কোনও কিছুর সঙ্গেই তুলনা হয় না।
আন্তর্জাতিক মানের গায়ক হওয়া সত্ত্বেও তাঁর এই সাদামাটা জীবন অনেককেই অবাক করেছে। প্রসঙ্গত, জিয়াগঞ্জের হাতিবাগানে অবস্থিত এই ‘হেঁশেল’ রেস্টুরেন্টটি পরিচালনা করেন অরিজিতের পরিবারের সদস্যরা। বাঙালি খাবারের জন্য এই রেস্টুরেন্ট ইতিমধ্যেই জিয়াগঞ্জে বিখ্যাত। তবে এর আসল বিশেষত্ব হল, তারকা পরিবারের রেস্টুরেন্ট হওয়া সত্ত্বেও এখানে খাবারের মূল্য একেবারেই সাধারণের আয়ত্তের মধ্যে। বিশেষ করে কলেজ পড়ুয়া এবং ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য রয়েছে বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা। অল্প টাকায় পেট ভরে ভাল বাঙালি খাবার পান পড়ুয়ারা এখানে। অরিজিতের ইচ্ছাতেই এই ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে তাঁর শহরের কোনও ছাত্রকে খাবারের জন্য বেশি ভাবতে না হয়।