Bageshwar Baba: 'ঘাস খাওয়া মাথা', 'বাগাড়ম্বর বাবা', বাগেশ্বর বাবার ওপর চটলেন ঋত্বিক-মেখলারা

বাগেশ্বর বাবা ধর্মীয়সভায় প্রশ্ন করেন,'বলুন আপনাদের মধ্যে কারা কারা চান দুর্গাপুজোয় ননভেজ বন্ধ হোক'। অনেকেই হাত তোলেন, এরপর বাবাজি বলেন, ‘নিজের ফোনের আলো জ্বালিয়ে আমাকে জানান, কারা এটা সমর্থন করেন। যাতে সরকারের কান পর্যন্ত এই আওয়াজ যায়’।

Advertisement
'ঘাস খাওয়া মাথা', 'বাগাড়ম্বর বাবা', বাগেশ্বর বাবার ওপর চটলেন ঋত্বিক-মেখলারা বাগেশ্বর বাবার ওপর চটলেন তারকারা
হাইলাইটস
  • মধ্যপ্রদেশের ‘বাগেশ্বর ধাম’-এর বিতর্কিত কথক ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী (বাগেশ্বর বাবা) দুর্গাপূজার দিনগুলিতে সবাইকে সম্পূর্ণ নিরামিষ আহারের পরামর্শ দিয়েছেন।

বাঙালি জাতির কাছে শ্রেষ্ঠ উৎসব মানেই দুর্গাৎসব। এই পুজোকে কেন্দ্র করে বাঙালি ৫ দিন ধরে আমিষ-নিরামিষ খাওয়া-দাওয়ায় মেতে ওঠে। সেখানে লুচি-আলুর দম, খিচুড়ি ভোগ যেমন থাকে, তেমনি মাটন-বিরিয়ানি, রোল, চাউমিনও বাদ যায় না। কবজি ডুবিয়ে পুজোতে খাওয়া-দাওয়া করার রীতি রয়েছে বাঙালিদের মধ্যে। মধ্যপ্রদেশের ‘বাগেশ্বর ধাম’-এর বিতর্কিত কথক ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী (বাগেশ্বর বাবা) দুর্গাপূজার দিনগুলিতে সবাইকে সম্পূর্ণ নিরামিষ আহারের পরামর্শ দিয়েছেন। এক কথায় ফতোয়া জারি করেছেন তিনি। এই নিয়ে বিতর্ক কম তৈরি হচ্ছে না। এবার টলিপাড়ার দুই শিল্পী তীব্র প্রতিবাদ করলেন বাগেশ্বর বাবার এই মন্তব্য নিয়ে। 

কী বলছেন গায়িকা মেখলা
গায়িকা মেখলা দাশগুপ্ত এবার চাঁচাছোলা ভাষায় নিজের ক্ষোভ উগরে দিলেন। সনাতন ধর্মের বিশালতা, উদারতা এবং বাঙালি সংস্কৃতির ঐতিহ্য টেনে বাগেশ্বর বাবাকে কড়া ভাষায় বিঁধালেন তিনি। মেখলা তাঁর ফেসবুক পেজে দীর্ঘ পোস্ট করেছেন। যেখানে তিনি লেখেন, সনাতন ধর্ম কোনও নির্দিষ্ট ছকে বাঁধা বিষয় নয়। তাঁর স্পষ্ট কথা, “সনাতন ধর্ম আসলে এতটাই বিশাল (vast) যে শুধু ঘাস খাওয়া মাথায় পুরোটা ধরা সম্ভব না!” গর্ব প্রকাশ করে গায়িকা বলেন, ‘বুক ঠুকে বলতে পারি এত লিবারেল (liberal) ধর্ম পৃথিবীতে আর দুটো নেই। এখানে রজস্বলা দেবীরও পুজো হয়, একদিকে শিব সর্বত্যাগী তো অন্যদিকে বিষ্ণু সমৃদ্ধির দেবতা।’ মেখলা এও বলেন, কৃষ্ণ অর্জুনকে প্রয়োজনে নিজের গুরু-আত্মীয়ের হত্যার পরামর্শও দিচ্ছেন, মা কালী দিগম্বরী শ্মশানচারিণী তো মা লক্ষ্মী ধনসম্পদের আধার! রাধা-কৃষ্ণের প্রেমের সম্পর্ককে পুজো করা হয়। উপোস করে পুজো, আবার উচ্ছিষ্ট দিয়ে পুজো, মূর্তি পুজো আবার নিরাকার ব্রহ্মসাধনা..সনাতন ধর্মে সবকিছুই সামিল করা হয়, এটা শুধু একটা ধর্ম নয়'।

বিঁধলেন নিরামিষভোজীদের
এখানেই থামেননি মেখলা। বাঙালিদের মাছ-মাংস খাওয়া নিয়ে প্রায়ই কটাক্ষ শুনতে হয়। সেই প্রসঙ্গ টেনে এনে গায়িকা বলেন, এই মাছ-মাংস খেয়েই বাংলা প্রচুর কৃতি সন্তান তৈরি করেছেন। আর একটা অন্য রাজ্য থেকে এত রকম বিষয়ে এত কৃতি পাওয়া মুশকিল। ক্ষমতা থাকলে আরেকটা অন্য রাজ্য থেকে আরেকটা রবীন্দ্রনাথ, নেতাজি, বিবেকানন্দ, কিশোর কুমার তৈরি করে দেখাক। মেখলা এবার সরারসি নিরামিষভোজীদের কটাক্ষ করে জানান যে আমিষ নিয়ে নিরামিষভোজীরা এত বাতেলা মারে, তারপর দেখা যায় গোমাতার ছেলে সন্তান হলে বিফ হয়ে বিদেশে এক্সপোর্ট হয়ে যায়!দেশের মানুষের টাকা চুরি করে বিদেশে পালিয়ে বসে থাকাদের মধ্যেও সম্ভবত ভেজিটেরিয়ানরাই এগিয়ে। নিজেরা ব্র্যান্ডেড জামাকাপড় পরে অন্যকে মোহ-মায় ত্যাগের জ্ঞান দেয়!

Advertisement

ঋত্বিকের পোস্ট
শুধু মেখলা নয়, বাগেশ্বর বাবার পুজোতে মাংস খাওয়ার ফতোয়া নিয়ে সরব হয়েছেন ঠোঁট কাটা ঋত্বিক চক্রবর্তীও। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে নাম না করে বাগেশ্বর বাবা এবং তাঁর অনুগামীদের নিশানা করে ঋত্বিক একটি বিতর্কিত ও রসালো পোস্ট শেয়ার করেন। তিনি লেখেন, ‘বাগাড়ম্বর বাবার বাতেলা শুনতে শুনতে হাতে টুনি জ্বালিয়ে যারা হাত তুললো, তারা যেন এবার পুজোয় শুধু খৈনি আর গুটখা খায় (বিশুদ্ধ ভেজ বলে বলছি)।’

সরব অরিত্র দত্ত বণিক
সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের মতামত জানালেন অভিনেতা অরিত্র দত্ত বণিক। নাম না করলেও তাঁর পোস্টের বক্তব্য যে সাম্প্রতিক বিতর্ককে ঘিরেই, তা নিয়ে নেটমাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা। অরিত্রর বক্তব্য, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দুর্যোগের সময়ে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সন্ন্যাসী সংগঠনগুলির মানবসেবার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, বন্যা থেকে কোভিড- বিভিন্ন কঠিন সময়ে ভারত সেবাশ্রম সংঘ, রামকৃষ্ণ মিশনের মতো প্রতিষ্ঠান সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। অরিত্র লিখেছেন, এঁরা জনহিতে সারাবছর যা করে তার ১০০ ভাগের ১ ভাগও প্রচার হয় না। কারণ রিল মার্কেটিং ইত্যাদিতে বিশ্বাস করে না আসল ত্যাগীরা। তাঁর বক্তব্য, প্রকৃত সেবামূলক কাজ সাধারণত প্রচারের আলোয় আসে না। তাই হঠাৎ কোনও ব্যক্তিকে ঘিরে তৈরি হওয়া সামাজিক মাধ্যমের উন্মাদনায় অতিরিক্ত গুরুত্ব না দেওয়াই শ্রেয় বলে মনে করেন তিনি।

কী বলেছেন ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রী
বাগেশ্বর বাবা ধর্মীয়সভায় প্রশ্ন করেন,'বলুন আপনাদের মধ্যে কারা কারা চান দুর্গাপুজোয় ননভেজ বন্ধ হোক'। অনেকেই হাত তোলেন, এরপর বাবাজি বলেন, ‘নিজের ফোনের আলো জ্বালিয়ে আমাকে জানান, কারা এটা সমর্থন করেন। যাতে সরকারের কান পর্যন্ত এই আওয়াজ যায়’। 'যাঁরা দুর্গাপুজোর সময়ে আমিষ খান, তাঁরা পাষণ্ড। পুজো প্যান্ডেলের পিছনে নোংরা নোংরা খাবার খাওয়া হয়। সেগুলি হওয়া উচিত নয়। আমি আশা করব, এবার হিন্দু বাঙালি জাগবে এবং পুজোর সময়ে আর ননভেজ (মাছ-মাংস-ডিম) খাবেন না।' তবে বাগেশ্বর বাবার এই পরামর্শ বাঙালিদের যে একেবারেই পছন্দ হয়নি, তা কিন্তু বেশ স্পষ্ট। 

POST A COMMENT
Advertisement