কোথায় নিখোঁজ ছিলেন পরিচালক?গত ২ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন টলিপাড়ার পরিচালক তথা চিত্রনাট্যকর উৎসব মুখোপাধ্যায়। নিমতার এক ব্যাঙ্কে কাজে গিয়ে হঠাৎই আর কোনও খোঁজ মেলে না তাঁর। স্ত্রী মৌপিয়া বন্দ্যোপাধ্যায়ের সোশ্যাল মিডিয়া পেজ থেকে এই ঘটনা সামনে আসে। মিসিং ডায়েরি করা হয় আনন্দপুর থানায়। তাঁর হদিস পেতে মরিয়া চেষ্টা করতে থাকেন স্ত্রী। কিন্তু কোনও খোঁজই মেলে না। হঠাৎ করেই ২৪দিন নিখোঁজ থাকার পর খোঁজ পাওয়া যায় উৎসবের। দিল্লিতে এক বন্ধুর বাড়িতে রয়েছেন তিনি। স্ত্রী মৌপিয়া গিয়ে তাঁকে নিয়ে আসেন কলকাতায়। এরপরই উৎসব তাঁর ফেসবুক পেজে এসে তাঁর নিখোঁজ থাকার কারণ জানিয়ে দিলেন।
পরিচালক ফেসবুকে এসে জানান যে অনেক দিন ধরেই তিনি সাইবার হামলার শিকার হচ্ছিলেন। উৎসব বলেন, আমি বহু দিন ধরে সাইবার ক্রাইমের শিকার। কোনও ছবি দিতাম বা আমার সঙ্গে কেউ ছবি পোস্ট করলে নানা ধরনের কুমন্তব্য সহ্য করতে হত। এইসব ঘটনায় তিনি রীতিমতো মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিলেন। উৎসব জানান বিভিন্ন ফেক প্রোফাইল থেকে তাঁর পোস্টে মন্তব্য করা হতো, কদর্য ভাষায় চলতো আক্রমণ। এমনকী তাঁর প্রোফাইল হ্যাক করে ভুলভাল পোস্ট করা হতো। এই বিষয়ে উৎসব বলেন, 'এই জিনিসটা হতে হতে বিষয়টা এমন জায়গায় দাঁড়ায় যেখানে আমার অনেক বন্ধু এবং সহকর্মীর সঙ্গে আমার মনোমালিন্য হতে আরম্ভ করে। গোটা বিষয়টা আমার উপর একটা সাংঘাতিক মানসিক চাপ তৈরি করতে থাকে। এই চাপের কাছে নতিস্বীকার করে আমি সব কিছু থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিতে শুরু করি।'
পরিচালক জানান, পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল যে তিনি কোনও আড্ডা,সিনেমার প্রিমিয়ার, সোশ্যাল গ্যাদারিং সহ কোথাও যেতেন না। তাঁর কথায়, 'যেখানে গেলে আমার ছবি উঠতে পারে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় আসতে পারে সেখানে আমি যেতাম না।' এই গোটা ঘটনায় উৎসবের কাজ ব্যাহত হতে থাকে। নতুন কাজ করতে পারেন। তার মধ্যেই ২০২৫ সালে কয়েক মাসের ব্যবধানে পরিচালক তাঁর বাবা মা, উভয়কে হারান। আরও ভেঙে পড়েন। সেই সময় তাঁর বর্তমান স্ত্রী তাঁর পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়ান। তাঁকে আগলে রাখেন। এরপর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তাঁরা বিয়ে করেন। তারপর পুনরায় এই সাইবার আক্রমণ শুরু হয়। তবে এবার টার্গেট আর উৎসব নন, হন তাঁর স্ত্রী। উৎসব এদিন ভিডিওতে বলেন, তিনি জানেন এই ঘটনার পিছনে কে আছেন এবং তার উদ্দেশ্য কী। কিন্তু তিনি এটা জানেন না যে সেই ব্যক্তি একাই এই জিনিস করছেন না একটা সংগঠন জড়িত।
উৎসব এদিন আরও জানান গত ২৪ দিন যখন তিনি নিখোঁজ ছিলেন তাঁর অধিকাংশ সময়টাই তিনি একা ছিলেন। একদম শেষ পর্যায় তিনি তাঁর এক বন্ধুর কাছে গিয়ে ওঠেন। তাঁর সেই দিল্লি নিবাসী বন্ধুই মৌপিয়া এবং পুলিশকে খবর দেন। তখন তাঁরা গিয়ে তাঁকে নিয়ে আসেন। উৎসব জানান যা ঘটেছে সেটা তিনি চাপে পড়ে ঘটিয়েছেন। কিন্তু এটার বিরুদ্ধে তিনি লড়াই করবেন। তবে এর থেকে বেশি কিছু প্রকাশ্যে বলতে চাননি পরিচালক।