
বিগ বস থেকে বেরিয়ে কী বলছেন ভরত কল?দীর্ঘ দু'মাসের সফর শেষ করে বিগ বস বাংলার বাড়ি ছেড়েছেন ভরত কল। তাঁর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে থাকা সত্ত্বেও এভাবে এত তাড়াতাড়ি অভিনেতা বাড়ি ছাড়বেন, তা অনেকেই মেনে নিতে পারেননি। যাঁরা প্রতিনিয়ত তাঁর খেলা দেখেছেন, তাঁকে সমর্থন করেছেন, তাঁদের কাছে এই বিদায় নিঃসন্দেহে মন খারাপের। তবে বিগ বস থেকে বেরিয়েই ঘরের অন্দরের সব গোপন কথা ফাঁস করলেন ভরত। bangla.aajtak.in-কে জানালেন বিগ বস বাংলার অন্দরে কে কীভাবে খেলছেন।
গত দু'মাস ভরত কলকে দেখা যায়নি কোনও গ্রুপে, বরং সব জায়গাতেই ছিল আপনার উপস্থিতি। অভিযোগ উঠেছে ভরত কল সেফ গেম খেলেছেন, সত্যিটা কী?
ভরত কল: উল্টোটাই ছিল। আমি যদি গ্রুপ তৈরি করে খেলতাম, তাহলে ৭-৮ জন আমার দিকে থাকত, আমরা যখন মনামীকে ভোটে হারালাম ক্যাপ্টেনসি টাস্কে, আমার গ্রুপ করা খুব সহজ ছিল, কিন্তু আমি সেটা করিনি, কারণ আমি দল করে খেলায় বিশ্বাসী নই। তাই আমি সবচেয়ে আনসেফ প্লেয়ার ছিলাম। আমি কোনওদিন না ঝিলম-দুর্নিবারের গ্রুপে গেছি না জিতু-রাজবীর নন্দিনীদের গ্রুপে গেছি। আমি বিশ্বাস করি যে যতদিন আমার মেয়াদ লেখা আছে, বাংলার দর্শক যতদিন ভোট করবে, ততদিন থাকব। আমি ভাগ্যে খুব বিশ্বাসী। এই বয়সে এসে আমি কাউকে অশ্রদ্ধা করিনা, মেয়েদেরও যথেষ্ট সম্মান দিয়ে কথা বলি। এগুলো যদি সেফ খেলা হয়, তাহলে আবারও আমি সেফ খেলব। আমার মনে হয় না আমি সেফ খেলেছি।

এত জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও খুব তাড়াতাড়ি বিগ বস থেকে এভিক্টেড হলেন বলে মনে হয় না?
ভরত কল: প্রাথমিকভাবে জানতে হবে এই খেলাটা একটা বয়স পর্যন্ত ঠিক আছে। ৪০-৪২ বছর পর্যন্ত ঠিক আছে, ওই বয়সের ভরত কল যদি সুযোগ পেত, তাহলে অন্য মানুষকে দেখা যেত, যে রূপটা অনেকের পছন্দ হতো না। কিন্তু যাঁর ৫৭ বছর বয়স, এই খেলা তাঁর জন্য নয় বলে আমি এখনও মনে করি। তবে আমি যতটা পেরেছি, ততটা চেষ্টা করেছি। আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই স্টার জলসাকে, যারা আমায় এই বয়সে এই সুযোগ দিল। ৫৬ দিন আমি ওখানে ছিলাম, কিছুটা হলেও দর্শকদের বিচারে পাস করেছি।

'বিগ বসে'র বাড়িতে রাজবীর-নন্দিনীর সম্পর্ক আদৌও আসল?
ভরত কল: রাজবীর-নন্দিনীর সম্পর্ক রিয়্যাল হতে পারে না। ওঁদের বাইরে বেরিয়ে একে-অপরকে চিনতে হবে, এখন তো কোনও উপায় নেই। বাড়ির বাইরে বেরিয়ে এরপরে ওঁদেরকে প্রমাণ করতে হবে। আপাতত তো ফেক বলেই মনে হচ্ছে।
ঘরের মধ্যে রাজবীর-নন্দিনীর কার্যকলাপে বিরক্ত ছিলেন সৌরভ, আপনার চোখে কি কখনও অশালীন লেগেছে?
ভরত কল: আমি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে আপগ্রেড করেছি, তাই আমার চোখে অশালীন লাগেনি। দুজনেই প্রাপ্তবয়স্ক এবং তাঁদের যদি মনে হয় এই আচরণ করা যায়, পাশাপাশি বাইরে বেরিয়ে দেখলাম যে নন্দিনীর মা-বাবাও সমর্থন করছেন, যেটা ওঁদের মেয়ে করছে ভালই করছে। সেখানে আমার বিচার করার কিছুই নেই। ৫৬ দিনের মাথায় সৌরভ এই কথাগুলো বলেছে, ৩৫দিনের মাথায় এই কথাগুলো কেন তোলেননি তিনি। এটা তো আজকে শুরু হয়নি। আমার কোনটাই খারাপ বা অশালীন লাগেনি। নন্দিনীর মা-বাবা এতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন, তাহলে আমরা বলার কে?
বিগ বস-এর সবচেয়ে স্ট্রং প্রতিযোগী কারা?
ভরত কল: আমার মতে সোনামণি, জিতু, দুর্নিবার ও রাজবীর এই চারজনই সবচেয়ে স্ট্রং প্রতিযোগী। তবে এই বাড়িতে আরও একজন রয়েছে, যাকে বলা হয় ডার্ক হর্স, সে হল নিরঞ্জন মণ্ডল।
বাইরের দুনিয়া থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন, প্রিয়জনদের ছেড়ে বিগ বস-এর বাড়িতে এতদিন সারভাইভ করা কতটা কঠিন?
ভরত কল: বিগ বস আমাদের এমন একটা জোনে নিয়ে গিয়েছিল, যেখানে এটা একটা মাইন্ড গেম ছিল আমাদের কাছে। একে তো পুরো ঘর কনকনে ঠান্ডা, কারণ এতগুলো ক্যামেরা রাখা রয়েছে, খাবার কম, প্রোটিন খুব কম পেয়েছি, আমার ৮ কিলো ওজন কমেছে। এই জায়গা থেকে আমাদের এতটাই বিরক্ত করে দেবে যে ছোট ছোট কথাতেই প্রতিক্রিয়া বেরিয়ে আসছে। তার মধ্য়েও প্রতিযোগীরা ঠিকঠাক আছে, টাস্ক করছে। হিন্দি বিগ বস আরও ভয়ানক। আমাদের মধ্য়ে বাঙালিয়ানা যেহেতু আছে, আমরা অনেক সময়ই দর্শক কী ভাববে এই ভেবে চুপ করে যাই।

সৃজলা-জিতুর মধ্যে কী কিছু চলছে?
ভরত কল: সৃজলা ও জিতু ভাল বন্ধু। একটা ভাল বন্ডিং আছে তাঁদের মধ্য়ে।
বিগ বস-এর ঘরে জিতু কমল কি তাঁর রিয়্যাল ফেসটা দেখাচ্ছে?
ভরত কল: জিতুর অ্যাঙ্গার ইস্যু আছে। আমি এটা জানতাম। কিন্তু জিতু সেটার সঙ্গে লড়ছে। মেডিটেড করে ওহ। করছে, আর একটু সময় লাগবে। তবে জিতু কমল খুব স্ট্রং প্রতিযোগী।
বিগ বস থেকে বেরিয়ে এবার ভরত কল কাকে ভোট দেবেন?
ভরত কল: আমার তো অনেকেই আছে। রাজবীর-নন্দিনী, তনুশ্রী, সৃজলা এদেরকেই ভোট দেব। তবে আমার আর সবচেয়ে বেশি লয়্যালিটি রাজবীরের দিকেই যাবে, কারণ রাজবীর আমাকে একবার বাঁচিয়েছিল।
ভরত কলের চোখে বিগ বস বিজয়ী কে?
ভরত কল: আমি বিগ বস বিজয়ী হিসাবে সোনামণি বা জিতু বা দুর্নিবার, এই তিনজনের মধ্যে একজনকে দেখতে চাই।
কবে থেকে আবার টিভির পর্দায় দেখা যাবে আপনাকে?
ভরত কল: বিগ বস-এর ফাইনালটা হয়ে যাক, তারপরে ফিরব আবার কাজে। একটা চোখের অপারেশন রয়েছে আর কিছু ব্যক্তিগত কাজও আছে, সেগুলো মিটিয়ে আবার কাজে ফিরবো।