দেবলীনা ও প্রবাহ (ছবি: ইনস্টাগ্রাম)শিরোনামে দেবলীনা নন্দী। রবিবার মধ্যরাতে তাঁর একটি লাইভ ভিডিও সামনে আসার পর থেকে শুরু হয় আলোচনা। সোমবার সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে রয়েছেন গায়িকা তথা ইউটিউবার। তাঁর জন্য চিন্তার ভাঁজ পড়েছে নেটিজেনদের কপালে। দ্রুত সুস্থ কামনা করে পোস্ট করেছেন বহু মানুষ। সকলের মনে একটাই প্রশ্ন, কীভাবে, কখন হল এসব? কারণ এতদিন নিজের ভ্লগিংয়ের মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়ায় একেবারে ভিন্ন চিত্র তুলে ধরতেন। ধীরে ধীরে সামনে আসছে পর্দার পিছনের সত্যি।
এদিকে নেটিজেনরা একহাত নিচ্ছেন দেবলীনার স্বামী প্রবাহ নন্দীকে। তাঁর সঙ্গে শেয়ার করা দেবলীনার ছবিতে নেতিবাচক মন্তব্য করছেন অনেকেই। একজন লিখেছেন, "বাইরে থেকে এতটা ভাল মানুষের মুখোশ আর ভিতরে পঁচা নর্দমার মতো, এবার শান্তি তো মেয়েটাকে শেষ করে, এক্কেবারে দুমড়ে-মুচড়ে, মেয়েটার দিকে তাকানো যাচ্ছে না...।" অন্য একজন লিখেছেন, "খুব ভাল ছেলে ভেবেছিলাম, ছিঃ...।"
আরও পড়ুন: বিয়ে নিয়ে ট্রোলিংয়ের বড় প্রভাব পড়েছিল! মুখ খুললেন পরম
সোশ্যাল মিডিয়ায় কটাক্ষ
এমনকী প্রবাহর সোশ্যাল পেজে গিয়েও নিন্দুকরা কটাক্ষ করছেন। ইউনিফর্ম পরা তাঁর একটি ছবিতে এক নেটিজেনের মন্তব্য, "প্লেন চালাও আর মানসিকতা এত নিচু কেন উড়ে বেরও তো উপর দিয়ে...।" আরও একজনের মন্তব্য, "আপনার বাবাও আপনার মাকে মারত আর সেখান থেকেই শিক্ষা নিয়েছেন, নাকি কোনও কোর্স করেছিলেন ফুল ফ্যামিলি মিলে? অশিক্ষিত পিশাচ একটা...।" একজন মন্তব্য করেছেন, "ভাল চাকরি করলেই ভাল মানুষ হওয়া যায় না...তার জন্য শিক্ষার দরকার।"
বছর খানেক আগে প্রবাহর সঙ্গে সাত পাকে বাঁধা পড়েন দেবলীনা। পেশায় বিমানচালক প্রবাহর সঙ্গে প্রেম করেই বিয়ে করেন গায়িকা। বাগদান, বিয়ের অনুষ্ঠান, এমনকী বিয়ের আগে- পরের নানা খুঁটিনাটি ভ্লগিংয়ের মাধ্যমে সকলের সঙ্গে ভাগ করে নিতেন দেবলীনা। সেই ভিডিওতে ধরা পড়ত তাঁদের প্রেমের মুহূর্তও। চন্দননগরে শ্বশুরবাড়ির নানা মুহূর্তও তিনি শেয়ার করেছেন বারবার। যার জেরে শ্বশুর, শাশুড়ি, দেওর, স্বামীর সঙ্গে পরিচিত সকলেই। সবটা দেখে নেটিজেনদের ধারণা ছিল 'হ্যাপি ফ্যামিলি'। সকলেই ভাবতেন খুব ভাল আছেন দেবলীনা। তবে সোশ্যাল মিডিয়ার যা দেখা যায়, তার সবটা যে সত্যি না, তা আবারও প্রমাণিত হল।
আরও পড়ুন: মান, অভিমান অতীত! ভরপুর রোম্যান্স নিয়ে ফের জুটিতে দেব ও শুভশ্রী
কী হয়েছে দেবলীনা নন্দীর?
দেবলীনা আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনা নিয়ে তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া। ফেসবুক লাইভে এসে দেবলীনা তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের কিছু সমস্যার কথা সকলের সামনে তুলে ধরেন। এরপরই তিনি ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তড়িঘড়ি তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলে। সোমবার, কলকাতার হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। দেবলীনার কাছের বন্ধু তথা অভিনেতা সায়ক চক্রবর্তীর ভ্লগে, হাসপাতালে থেকে দেবলীনা জানান ঠিক কী কী ঘটেছিল সেই রাত্রে তাঁর সঙ্গে।
সায়কের লাইভ ভিডিওতে এসে দেবলীনা বলেন, "আমি হাফ কাজ করতে চাইনি, পুরো কাজ করতে চেয়েছিলাম। দরকার ছিল না এই সেকেন্ড চান্সের। মরে গেলে সব ল্যাটা চুকেই যেত।" এরপর গায়িকা বলেন, তিনি গাড়িতে বসে ঘুমের ওষুধ খান। এরপর যখন তাঁর চোখ বন্ধ হয়ে আসছিল, তখন গায়িকার প্রথমে মনে হয়েছিল, স্বামী প্রবাহকে মেসেজ করার কথা। কিন্তু দেবলীনা জানতেন বরের থেকে কোনও পাল্টা উত্তর পাওয়া যাবে না। তারপর তিনি সায়ককে মেসেজ করে জানান যে তিনি ঘুমের ওষুধ খেয়েছেন।
আরও পড়ুন: বছরের শুরুতে শোভন, সোহিনীর রোম্যান্স! আর কারা ছিলেন বর্ষবরণের পার্টিতে?
প্রসঙ্গত, দেবলীনা এবং তাঁর পরিবারের তরফে জানা যায়, গায়িকার মাকে নিয়ে আপত্তি ছিল তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির। সেই সঙ্গে কেরিয়ারেও বাঁধা আসা শুরু হয়। অভিযোগ ওঠে, দেবলীনাকে মারধর করতেন তাঁরা। একবার বাড়ি থেকেও বের করে দিয়েছিলেন। গায়িকার দিদি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, থানায় অভিযোগ দায়ের করা চেষ্টা করেন তাঁরা, তবে হেনস্থার শিকার হতে হয়। ভবিষ্যতে দেবলীনার মত থাকলে, ফের অভিযোগ দায়ের করা হবে এবং আইনের পথে হাঁটবেন তাঁরা। এখন শারীরিকভাবে অনেকটাই সুস্থ আছেন দেবলীনা। তবে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত তিনি। সব ঠিক থাকলে, আর ১-২ দিনের মধ্যেই তিনি হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরবেন।