ফেডারেশনের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চায় পরিচালক গিল্ডরাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে টলিপাড়াকে যেমন এক করেছে তেমনই একাধিক সমস্যাও সামনে এসেছে। যার মধ্যে অন্যতম হল ব্যান কালচার। গত বেশ কয়েকদিন ধরে অভিনেতার মৃত্য়ু নিয়ে তোলপাড়ের পাশাপাশি বাংলা ইন্ডাস্ট্রির এই 'থ্রেট কালচার' তথা 'ব্যান সংস্কৃতি' নিয়েও কম আলোচনা হয়নি। মঙ্গলবার ‘টেকনিশিয়ান স্টুডিয়ো’য় সাংবাদিকদের সামনে প্রযোজক-অভিনেতা এবং সাংসদ দেব ঘোষণা করলেন, “আর কোনও ‘ব্যান কালচার’ নয়। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় বৈঠকে জানিয়েছেন, যে সমস্ত পরিচালক, অভিনেতা এই ‘সংস্কৃতি’র কারণে দীর্ঘ দিন বসে রয়েছেন, স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে বৈঠক করে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তাঁদের কাজে ফেরাবেন তিনি। এই ঘোষণার পরে তিন দিন কাটেনি। তার আগেই এল পরিচালকদের গিল্ড, অর্থাৎ ‘ডিরেক্টরর্স অ্যাসোসিয়েশন অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া’র (DAEI) চিঠি।
এই চিঠির মাধ্যমে প্রসেনজিৎ ও দেবকে জানানো হয়েছে পরিচালকদের গিল্ড এই সমস্যার সমাধান করতে রাজি। এক সংবাদমাধ্যমকে গিল্ডের পক্ষ থেকে সভাপতি শৈবাল মিত্র বলেন, ব্যান উঠে গেল, সেটা বলা যায় না। তবে যে সমস্যা তৈরি হয়েছিল, তা সমাধান হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হল। ফেডারেশনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আলোচনার মাধ্যমে মধ্যস্থতায় আসা যায়, তারই উদ্যোগ নিচ্ছে গিল্ড। ইতিমধ্যেই এই ব্যান নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন দেব।
এদিন দেব স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে তিনি চান না কেউ কাজ হারাক। ব্যন শব্দটাকে ব্যান করতে হবে। অভিনেতা আরও বলেন যে টেকনিশিয়ানদের কী দোষ, তাঁদের কর্মসংস্থান কী করে হয়, সেই কথা ভাবতে হবে। ব্যান কালচারের বদলে কীভাবে কাজের পরিমাণ বাড়ানো যায় তা নিয়ে ভাবার পরামর্শ দিয়ে অভিনেতা বলেন, এটা নিয়ে কিছু পদক্ষেপ প্রয়োজন। যেহেতু সামনে নির্বাচন, তিনি এবং ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত তাই এখনই এ বিষয়ে বেশি কথা বলতে চাননি। তবে ৪ মে ভোটের রেজাল্ট বেরনোর পর এবিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে বলে আশাবাদী দেব।
এদিনের বৈঠকেও দেব-স্বরূপ সংঘাত ধরা পড়ে। অভিনেতা-সাংসদের স্পষ্ট কথা, যাঁরা ব্যান কালচার নিয়ে আসছে আমরা তাঁদের ব্যান করতে রাজি আছি। কেউ যদি কাজ করতে চায় তাঁকে কাজ করতে দেওয়া হোক। কয়েকদিন আগে আর্টিস্ট ফোরামের বৈঠক শেষে সাংবাদিক বৈঠকে অনির্বাণ ভট্টাচার্যর মতো অভিনেতার ব্যান হওয়া নিয়ে দেব-স্বরূপ বিশ্বাসের ভিন্ন মন্তব্যের 'ঠান্ডা লড়াই' দেখা গিয়েছিল। সেই প্রসঙ্গে প্রশ্ন উঠলে দেব বলেন, "অনির্বাণ যখন ব্যান ছিল, আমি কাজ করেছি ওর সঙ্গে। রঘু ডাকাত ওর শেষ ছবি।
বৃহস্পতিবারই ডিরেক্টরদের সংগঠনের তরফে এক গুরুত্বপূর্ণ চিঠি পাঠানো হয় প্রসেনজিৎকে। চিঠিতে স্পষ্ট জানানো হয়, তাঁরা সিসিআই-তে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করতে প্রস্তুত। শুধু তাই নয়, পৃথকভাবে দায়ের হওয়া ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে মানহানির মামলাগুলিও তুলে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সদস্যদের সঙ্গে কথা বলবেন তাঁরা। তবে এই সিদ্ধান্ত শর্তসাপেক্ষ—যে সব নিষেধাজ্ঞা এতদিন ধরে পরিচালক ও অভিনেতাদের কাজের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল, সেগুলি সম্পূর্ণভাবে তুলে নেওয়ার নিশ্চয়তা চাইছেন তাঁরা। যদিও ফেডারেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তাদের কাছে এখনও কোনও চিঠি এসে পৌঁছায়নি। চিঠি আসলে আলোচনায় বসবে কিনা তা ভেবে দেখবে তারা।