
'হোক কলরব'-এর সংলাপ ঘিরে বিতর্ক'প্রলয়', 'আবার প্রলয়'-এর পর পরিচালক রাজ চক্রবর্তী নিয়ে আসছেন 'হোক কলরব'। এই ছবি ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই দর্শকদের মধ্যে তা নিয়ে কৌতুহল ছিল তুঙ্গে। এগারো বছর আগে ঠিক যে শব্দবন্ধের জেরে উত্তাল হয়েছিল রাজ্যের একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সেই স্লোগানকে হাতিয়ার করেই এবার ছাত্র রাজনীতির গল্প বুনেছেন পরিচালক। বড়দিনেই মুক্তি পেয়েছে এই ছবির টিজার। ছবির প্রথম ঝলক দেখার পর টানটান উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও, টিজারের এক সংলাপ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া রীতিমতো তোলপাড়। আর এই নিয়েই নেটিজেনের একাংশের ক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে রাজকে।
'প্রলয়', 'আবার প্রলয়' এই দুই ক্ষেত্রেই পরিচালক রাজ মারকাটারি সংলাপের বন্যা বইয়ে দিয়েছিলেন। বিশেষ করে আবার প্রলয় ছবিতে একের পর এক সংলাপ বেশ ভাইরাল হয়েছিল। হোক কলরব ছবিতেও যে সেরকমই কিছু হবে, এমনটাই আশা করেছিলেন সকলে। এই ছবিতে পুলিশ অফিসারের ভূমিকায় দেখা যাবে শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়কে। যাঁকে আগের দুটোতেও পুলিশের উর্দি গায়েই দেখা গিয়েছে। টিজারে শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়কে যে সংলাপ বলতে দেখা গিয়েছে, তা নিয়েই এখন তোলপাড় নেটপাড়া। টিজারের এক দৃশ্যে আইপিএস-এর ভূমিকায় অভিনেতাকে বলতে শোনা যায়, 'নমস্কার, আমি ক্ষুদিরাম চাকী। না, আমি ঝুলি না, ঝোলাই!'
টিজারে এই সংলাপ শোনার পরই তা নিয়ে নেটপাড়া উত্তপ্ত। এই সংলাপে ক্ষুদিরাম নামের সঙ্গে মানুষের আবেগ জড়িয়ে রয়েছে, সেই শহিদ ক্ষুদিরাম বসুকে এই সংলাপের মাধ্যমে অপমান করা হয়েছে, বলে দাবি করছেন নেটিজেনদের একাংশ। কেউ লেখেন, এখানে ক্ষুদিরাম বোসকে অপমান করা হয়েছে (আমি ঝুলিনা আমি ঝোলাই) এই সংলাপের মাধ্যমে, এটা খুবই লজ্জাজনক। আবার কেউ লেখেন, ঝুলি না মানে...উনি একজন সম্মানজনক শহিদ। আবার কারোর কারোর মতে, এই দেশের জন্য শহিদ হয়েছিলেন ক্ষুদিরাম, এই সংলাপ ব্যবহার করে তাঁকে অপমান করা হয়েছে। কারও বা প্রশ্ন, বাঙালি নিজস্ব শিকড়-সংস্কৃতি ভুলতে বসেছে? সবকিছু নিয়ে হোক কলরব-এর এই সংলাপ বেশ চর্চিত।

সিনেমায় শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়ের চরিত্রের নাম ক্ষুদিরাম চাকী। রাজের পরিচালনায় এর আগেও অভিনেতাকে 'প্রলয়' এবং 'আবার প্রলয়'-এ দুঁদে পুলিশ অফিসারের ভূমিকায় রগরগে সংলাপ আওড়াতে দেখা গিয়েছে। তবে এবার 'হোক কলরব'-এ নাম-সংলাপে ‘শহিদযোগ’ পেয়েই ক্ষুব্ধ দর্শকমহলের একাংশ। গত ২৩ জানুয়ারি এই ছবি মুক্তি পাবে। অবশ্য তার আগেই ছবির কিছু দৃশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার অভিযোগ করেন পরিচালক। তা নিয়ে সাইবার ক্রাইম শাখার দারস্থ হতে হয়েছিল। এই ছবি একেবারে সত্য ঘটনা অবলম্বনে তৈরি। ছবির টিজার ইতিমধ্যেই সাড়া ফেলেছে।