বিগ বস-এর ঘর ছাড়লেন জয়িতা'বিগ বস' বাংলা সিজন ৩ রীতিমতো জমে উঠেছে। গত সপ্তাহে ওয়াইল্ড কার্ড এন্ট্রিতে শিলিগুড়ির ছেলে রাজবীর দে ঘরে ঢুকেই তুলকালাম বাঁধিয়ে দিয়েছেন। তাঁর একের পর এক কাণ্ড-কীর্তিতে তটস্থ বিগ বস-এর বাকি প্রতিযোগীতারা। এরই মাঝে চলে এল এলিমিনেশন ডে। যেখানে ৬ নমিনেট সদস্যদের মধ্যে রবিবার একজনকে ঘরছাড়া হতে হল। আর এই দ্বিতীয় এলিমিনেশনে ঘর ছাড়লেন ইনফ্লুয়েন্সার জয়িতা চট্টোপাধ্যায়। এই প্রথম অডিয়েন্সের কম ভোট পাওয়া বিগ বসের ঘর থেকে বেরিয়ে যেতে হল জয়িতাকে। এর আগে নির্মাতাদের সিদ্ধান্তে বিগ বস হাউস ছেড়েছিলেন অনিন্দ্য।
শনি ও রবিবার বিগ বস হাউসে দাদার দরবার বসে। শনিবার দিন দর্শকদের ভোট পেয়ে সেফ জোনে চলে যান দীপেন্দু ও ভরত কল। এলিমিনেশনের খাঁড়া ঝুলছিল দুর্নিবার, সৃজলা, আলেকজান্দ্রা ও জয়িতার ওপর। সৃজলা সেফ হয়ে যাওয়ার পর তিন জন সদস্য বেশ চাপেই ছিল। যদিও বাড়ির অন্য প্রতিযোগীরা কেউ চেয়েছিলেন দুর্নিবার চলে যাক আবার কেউ কেউ নাম নিয়েছিলেন অ্যালেক্স (আলেকজান্দ্রা) ও জয়িতার। রবিবার এলিমিনেশন রাউন্ডে সঞ্চালক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় জয়িতার নাম নিতেই গোটা বাড়ি স্তব্ধ হয়ে যায়। পুরো বাড়ির সদস্যদের হাসিমুখে বিদায় জানান জয়িতা। জয়িতার চলে যাওয়ায় চোখে জল দেখা যায় মনামীর চোখে।
সৌরভকে উদ্দেশ্যে করে চোখে জল নিয়ে আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, ‘এত তাড়াতাড়ি চলে যাবো দাদা সত্যি ভাবতে পারিনি।’ তবে নিজের ভেঙে পড়া ভাব সামলে নিয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই ঘর ছাড়েন তিনি। বেরোনোর আগে বিগ বসের বোর্ডে লিখে যান, ‘যদি কোনও ভুল করে থাকি, ক্ষমা করে দিও, লাভ ইউ অল।’ জয়িতাই যে বাদ পড়তে চলেছেন, রবিবার বিকেল গড়াতেই তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। শনিবারের এপিসোডে দীপেন্দু সেফ জোনে চলে যাওয়ার পর বটম থ্রি-তে ছিলেন অ্যালেক্স, দুর্নিবার এবং জয়িতা। নতুন প্রোমোয় অ্যালেক্সকে দেখে দর্শক বুঝেই গিয়েছিল এলিমিনেশনের কোপ পড়বে জয়িতার উপরই।
ঘরে ঢোকার পর থেকেই জয়িতার সঙ্গে কম-বেশি সকলেরই ঝামেলা হয়। বিশেষ করে জয়িতার বাংলা যেহেতু খুব একটা ভাল নয়, তাই সেটা নিয়েও মাঝে মধ্যে তাঁকে সমস্যায় পড়তে হয়। তবে রাজবীরের আসার পর থেকে জয়িতা কিছুটা সাপোর্ট পেয়েছিলেন। ভাল সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল মনামীর সঙ্গেও। কিন্তু বিগ বস শুরু হওয়ার ১৫ দিনের মাথায় ঘর ছাড়লেন জয়িতা। তিনমাসের এই সফরে আর কারা কারা এই কঠিন রাস্তা পেরিয়ে বিগ বস-এর ট্রফি জয় করেন, সেদিকেই সকলের নজর।