পিয়া সেনগুপ্তবাংলা ইন্ডাস্ট্রির দুই গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন হল আর্টিস্ট ফোরাম ও ইমপা। ২০২৬-এর আগে পর্যন্ত ইমপা ও আর্টিস্ট ফোরাম, ফেডারেশন এদের হাতেই ছিল বাংলা ছবির সমগ্র ভবিষ্যৎ। তবে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে প্রত্যাবর্তনের পর টলিপাড়ার হাল-হকিকৎ একেবারে বদলে গিয়েছে। এরপরই ইমপা ও ফেডারেশন নিয়ে ধুন্ধুমার কাণ্ড বাঁধে। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ, থানা-পুলিশ একেবারে যাচ্ছেতাই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এরই মাঝে ইমপার দায়িত্বে সাময়িক কালের জন্য বসানো হয় প্রযোজক রতন সাহাকে। যদিও সেই সময় ইমপার বর্তমান সভাপতি পিয়া জানিয়েছিলেন যে তিনি সভাপতির পদ থেকে সরবেন না। তবে এবার শোনা যাচ্ছে, গত মাসে পদত্যাগ করেছেন পিয়া।
এই বিষয়ে এক সংবাদমাধ্যমকে অ্যাক্টিং প্রেসিডেন্ট' রতন সাহা জানিয়েছেন যে গত ১৬ জুন সংগঠনের অফিসে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন পিয়া। তাঁর সঙ্গে ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছেন সম্পাদক, সহ-সম্পাদক, সহ-সভাপতি এবং ইসি কমিটির আট সদস্য। তার আগে থেকেই নাকি তালাবন্ধ ছিল ইমপার সভাপতির ঘর। তালাচাবি সম্পাদক এবং সহ-সম্পাদকের ঘরেও। পিয়া একেবারে নিঃশব্দে পদত্যাগ করেছেন। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। প্রসঙ্গত, পিয়ার অনুস্থিতিতে গত দু'মাস ধরে বন্ধ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স আসোসিয়েশন (ইমপা)-র যাবতীয় সাংগঠনিক কাজ। তাঁর ঘর তালাবন্ধ।
রাজ্যে বিজেপি সরকার আসার পর থেকেই ইমপা সভাপতি পিয়াকে নিয়ে নানান জটিলতার সৃষ্টি হয়। সভাপতির পদত্যাগও চান প্রযোজক-পরিবেশনার দায়িত্বে থাকা একাংশরা। ইমপায় ঘন ঘন বৈঠক-প্রতিবাদ এমন জায়গায় পৌঁছায় যে শেষে থানা-পুলিশের দ্বারস্থ হতে হয়েছিল দুই পক্ষকেই। পিয়া সেনগুপ্তের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজন-পোষণের গুরুতর অভিযোগও ওঠে। জানা গিয়েছে, গত ১৩ জুলাই ইমপা-তে একটি সাংবাদিক বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানে জানানো হয়েছে, শেষ দু’ মাস ধরে ইমপা-র কাজ প্রায় বন্ধ! ইমপা-র প্রেসিডেন্ট মানে পিয়া সেনগুপ্ত, সঙ্গে দুই সহ-সভাপতি, আর আটজন কমিটির সদস্য পদত্যাগ করেছেন। বাকি কমিটির সদস্যরা নাকি প্রায় দু’ মাস ধরে অফিসে আসছেন না। ইমপা সংক্রান্ত মিটিং, ইমপা-র বাইরে সংগঠিত করেছেন কিছুজন, এমন অভিযোগ উঠছে। এই পরিস্থিতিতে কীভাবে ইমপা তার কাজ চালাবে আগামী দিনে, কবে হবে ইমপা-র পরবর্তী নির্বাচন, তা দেখার অপেক্ষা। কারণ পিয়া সেনগুপ্তর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর, নতুন সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার আগে পর্যন্ত, কাজ চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন রতন সাহা।
ইতিমধ্যেই রতন সাহা ও এবং কমিটির দায়িত্বে থাকা বাকি সদস্যরা কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। রতন সাহাদের পক্ষের আইনজীবী এ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন যে পুরোনো কমিটি ভেঙে দিয়ে নতুন নির্বাচিত কমিটি গড়ার আবেদন জানানো হয়েছে আদালতে। তার আগে অন্তরবর্তীকালীন কমিটিও যদি গড়ে দেয় আদালত তাতেও কিছুটা সমাধান হবে, বক্তব্য তাঁর।