সায়ক-অনন্যাপার্কস্ট্রিটের এক রেস্তোরাঁয় মাটনের বদলে গোমাংস পরিবেশন করা নিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন জনপ্রিয় ইউটিউবার সায়ক চক্রবর্তী। বেশ কয়েকদিন ধরেই তাঁকে নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত ছিল। এই কাণ্ডে রেস্তোরাঁর এক কর্মী গ্রেফতার হয় এবং একই সঙ্গে সায়কের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক হিংসা ছড়ানোর অভিযোগ এনে পুলিশের কাছে এফআইআর দায়ের হয়। তবে সেদিনের ঘটনায় সায়ক একা ছিলেন না, তাঁর সঙ্গে ছিল তাঁর দুজন খুব ভাল বন্ধু তথা ভ্লগার অনন্যা গুহ ও সুকান্ত কুণ্ডু। ঘটনা যখনই অন্যদিকে মোড় নিয়েছে সায়কের সেই ভাল বন্ধুর তকমা আঁটা অনন্যা সোশ্যাল মিডিয়ায় সরাসরি বলেই দেন, কারও ভুলের জন্য আমি দায়ী নই। এই ঘটনার পর সায়ককে অনন্যা ও সুকান্তর সঙ্গে কোনও ভিডিওতেও দেখা যায়নি। তাহলে কি সায়ক-অনন্যার বন্ধুত্বে চিরকালের মতো চিড় ধরল?
আগামী মাসেই বিয়ে অনন্যা ও সুকান্তর। গোমাংস কাণ্ডের আগে পর্যন্ত তাঁদের তিনজনকে একসঙ্গেই দেখা যাচ্ছিল। বিয়ের কেনাকাটি থেকে আয়োজন, সায়কের উপস্থিতি সকলের নজরেই পড়েছে। কিন্তু হঠাৎ করে ঘটে যাওয়া এক ঘটনার পরই তাঁগের তিনজনের বন্ধুত্বের সমীকরণটাই যেন পাল্টে যায়। এই নিয়ে সুকান্ত, সায়ক কিছু না বললেও মুখ খুলেছেন অনন্যা। এর সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছেন গোাংস কাণ্ডের রেশ তাঁর ও সায়কের বন্ধুত্বে প্রভাব ফেলেনি।
অনন্যার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের পর অনেকেই বলেছিলেন বন্ধুর পাশ থেকে সরে গেলেন অনন্যা। এ প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, আমি বলেছিলাম যে জিনিসগুলো অন্যেরা করেছে তার দায়িত্ব অবশ্যই আমার নয়, কিন্তু বন্ধুর পাশ থেকে আমি সরে যাইনি। সায়ক আমার বন্ধু এখনও আছে আর আশা করছি সারাজীবন থাকবে। অনন্যা এও বলেন যে একে-অপরের সঙ্গে যোগাযোগ এখনও আছে তাঁদের। সামনেই অনন্যার বিয়ে। কিন্তু অনন্যা বা সুকান্ত কারোর সঙ্গেই সায়ককে দেখা যাচ্ছে না।
প্রসঙ্গত, গোমাংস কাণ্ডের পর পরই অনন্যা তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পেজে পোস্ট করে লেখেন, "যেটা ভুল সেটা ভুল এই নিয়ে সেই মুহূর্তে ওখানে দাঁড়িয়েই প্রতিবাদ করেছি। কিন্তু কোনও ভিডিও বানাইনি। সুতরাং আমাকে আমার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ভাল থাকতে দিন। এসবের মধ্যে আমাকে জড়াবেন না। ফুটেজ খাওয়ার ব্যক্তি আমি নই এবং রাজনীতি নিয়েও কিছু বুঝি না। আমি ভিডিওতে মাত্র বলেছি যে আমাদের ভুল ডিস্ সার্ভ করা হয়েছে। সেটা চিকেনের জায়গায় পনির দিলেও একই কথা বলতাম। আমি কাউকে কারও ধর্ম নিয়ে আক্রমণজনক কোনও কথা বলিনি। কারও ভুলের জন্য আমি দায়ী নই। আমাকে এই বিতর্ক থেকে বিরতি দিন...।" অনন্যা, সুকান্ত ও সায়ক তিনজনের বন্ধুত্ব সব সময়ই চোখে পড়ে। কিন্তু গোমাংস কাণ্ডের পর এই বন্ধুত্ব কতটা অটুট রয়েছে তা সময়ই বলবে।