দেবশ্রী রায়একসময় দেবশ্রী রায় ছিলেন টলিউডের প্রথম সারির অভিনেত্রী। তাঁর অভিনীত যে কোনও ছবি মানেই তা হিট হবেই। তাঁর অভিনয় থেকে শুরু করে তাঁর নাচ, মিষ্টি হাসি, সেই সময় বহু পুরুষের ঘুম উড়িয়েছিলেন তিনি। প্রসেনজিৎ-দেবশ্রীর জুটি মানেই সেই সিনেমা হিট হতে বাধ্য। তবে বহু বছর আগেই দেবশ্রী বড়পর্দা থেকে বিদায় নিয়েছেন। এরপর তাঁকে কামব্যাক করতে দেখা গিয়েছিল ছোটপর্দায়। সেই সিরিয়ালও বেশ জনপ্রিয় হয়। তবে দেবশ্রীকে রাতারাতি জনপ্রিয়তা এনে দেয় কলকাতার রসগোল্লা গানটি। কিন্তু জানেন কী দেবশ্রী রায় নিজে কোন মিষ্টি খেতে সবচেয়ে বেশি পছন্দ করেন?
১৯৯২ সালে মুক্তি পায় রক্তে লেখা ছবিটি। তাতে নায়িকা ছিলেন দেবশ্রী। আর পরিচলক ছিলেন নায়িকার জামাইবাবু অর্থাৎ বলিউড অিনেত্রী রানি মুখোপাধ্যায়ের বাবা রাম মুখোপাধ্যায়। এই ছবিতে প্রসেনজিৎ ও চিরঞ্জিৎ দুজন হিরো ছিলেন। আর সেখানে পকেটমারের চরিত্রে দেখা গিয়েছিল দেবশ্রী রায়কে। আর এই ছবিতেই তিনি রাস্তায় নাচতে নাচতে লোকের পকেটমারি করতেন। দেবশ্রীর লিপেই বসানো হয়েছিল আমি কলকাতার রসগোল্লা। এই গান রাতারাতি জনপ্রিয়তা দেয় দেবশ্রীকে। কলকাতার রসগোল্লা-র তকমা পেয়ে যান নায়িকা। আর এই তকমাতেই তিনি আজও ভূষিত।
কলকাতার টালিগঞ্জেই এই গানের শ্যুটিং হয়। কখনও হলুদ ঘাগরা, কখনও লাল পাড় সাদা শাড়িতে কোমর দুলিয়ে নেচেছিলেন ছিপছিপে দেবশ্রী। আর তাঁর সেই নাচ সেই সময় গোটা বাঙালি জাতিকে নাচিয়েছিল। দেবশ্রীর এই গানে কিলার ভঙ্গীমায় ফিদা হয়ে গিয়েছিলেন সবাই। রসগোল্লা যেন দেবশ্রীরই সমনাম হয়ে গিয়েছিল। এখনও পর্যন্ত কোনও নায়িকাই সেই তকমা দেবশ্রীর কাছ থেকে ছিনিয়ে নিতে পারেননি। দর্শক তো বটেই দেবশ্রী রায় নিজেও এই কথা মানেন যে কলকাতার রসগোল্লা তিনি ছাড়া আর কেউ হতে পারবে না। কিন্তু দেবশ্রী রায় কি রসগোল্লা খেতে পছন্দ করেন?
এক সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে দেবশ্রী রায়কে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে তিনি কি রসগোল্লা খেতে পছন্দ করেন? দেবশ্রী রায় বলেন, ও মা খাবো না কেন? ওটা তো আমার প্রিয় মিষ্টি। আমি তো আমার পোষ্যদেরও খাইয়েছি। দেবশ্রী এও জানান যে তিনি একসঙ্গে অনেক রসগোল্লা খেতে পারেনয তবে কলকাতার চেয়ে কলকাতার বাইরে থেকে আসা রসগোল্লা খেতে বেশি ভালোবাসেন তিনি।
সম্প্রতি কেমিস্ট্রি মাসি-র মাধ্যমে ওয়েব সিরিজে পা রেখেছেন দেবশ্রী। সেখানেও তাঁর অভিনয় প্রশংসিত। মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে বহু বছর পর জুটিতে দেখা যাবে অভিনেত্রীকে শাস্ত্রী ছবিতে। সেই ছবির শ্যুটিংও শেষ হয়েছে কিছুদিন আগেই।