Laughtersane Niranjan Styling in Cannes: কানের রেড কার্পেটে বাঙালি বাবু নিরঞ্জন! লাফটারসেনের এই স্টাইলিংয়ের রহস্য কী?

Laughtersane Niranjan Styling in Cannes: নিরঞ্জনকে তাঁর আসল নামের থেকে পোশাকি নামেই লোকজন বেশি চেনেন। ফ্রান্সের আন্তর্জাতিক এই চলচ্চিত্র উৎসবের মঞ্চে বাঙালিয়ানাকে সঙ্গী করে, প্রথমবার পা রাখলেন তিনি

Advertisement
কানের রেড কার্পেটে বাঙালি বাবু নিরঞ্জন! লাফটারসেনের এই স্টাইলিংয়ের রহস্য কী?  কানের রেড কার্পেটে নিরঞ্জন মণ্ডল (ছবি: ফেসবুক)

শিরোনামে নিরঞ্জন মণ্ডল। ৭৯তম কান ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের রেড কার্পেটে ধুতি- পাঞ্জাবি পরে হেঁটে নজর কাড়লেন জনপ্রিয় এই কনটেন্ট ক্রিয়েটার। নিরঞ্জন, যিনি লাফটারসেন নামেই পরিচিত। নিরঞ্জনকে তাঁর আসল নামের থেকে পোশাকি নামেই লোকজন বেশি চেনেন। ফ্রান্সের আন্তর্জাতিক এই চলচ্চিত্র উৎসবের মঞ্চে বাঙালিয়ানাকে সঙ্গী করে, প্রথমবার পা রাখলেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে তাঁর ফ্রান্সের বিভিন্ন ছবি, ভিডিও। 

জীবনে প্রথমবার কানের রেড কার্পেটে পৌঁছলেন নিরঞ্জন। বিশ্বের দরবারে বাঙালিকে প্রতিনিধিত্ব করলেন তিনি। বেছে নিয়েছিলেন একেবারে সাবেকি বাঙালি সাজ। তাঁর পরনে ছিল ধবধবে সাদা ধুতি-পাঞ্জাবি, উপরে চাপানো কালো কোট। চোখে সাবেকি ফ্রেমের চশমা। সেই সঙ্গে হাতে চেন দেওয়া একটি পকেট ঘড়ি। 'ভারে'–র মেনসওয়্যার পরেছিলেন তিনি। সব মিলিয়ে তাঁর সম্পূর্ণ লুক নিঃসন্দেহে নজরকাড়া। 

 

Niranjan mondal

এই প্রথম কোনও বাঙালি কনটেন্ট ক্রিয়েটর কানের রেড কার্পেটে হাঁটলেন। নিজের অনুভূতি জানিয়ে সুদূর ফ্রান্স থেকে নিরঞ্জন সংবাদমাধ্যমকে জানান, "প্রচণ্ড ভাল লাগছে, প্রচণ্ড খুশি। দারুণ উত্তেজিত। গোটা বিষয়টা আমার স্বপ্ন মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে, এখনই ঘুম ভাঙবে আর দেখব যে এসব স্বপ্ন ছিল। আমি বাংলা, বাঙালি, আমাদের সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক স্তরে রিপ্রেজেন্ট করার সুযোগ পেয়েছি। আশা রাখি এতদিন সবাই যেভাবে আমাকে সব কিছুতে ভালোবেসে, সাপোর্ট করেছে, সেই ভালোবাসা, সমর্থন এখানেও পাব।" 

পোশাক প্রসঙ্গে নিরঞ্জন সংবাদমাধ্যমকে জানান, "গর্বের সঙ্গে বাংলার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে চেয়েছিলাম, তাই আন্তর্জাতিক মঞ্চের জন্য বাঙালি পোশাক বেছে নিয়েছিলাম। বাংলার শিল্প, আভিজাত্য ও নবজাগরণের যুগ বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতেই বাবু সংস্কৃতির অনুপ্রেরণায় পোশাক বেছে নেওয়া। আমার লক্ষ্য ছিল, কান–র মঞ্চে প্রতিনিধিত্ব মানে শুধু বিশ্বব্যাপী উপস্থিতিই নয়। বরং নিজের শিকড়, ঐতিহ্য ও পরিচয়কে সঙ্গে বহন করা।" 

 

'বাবেশ' কিংবা 'মিষ্টি বাপি'-র ব্যাপারে জানেন না, এই মুহূর্তে এরকম বাঙালি নেটিজেন খুব কমই আছে। ২০২৩-এ হঠাৎই কনটেন্ট ক্রিয়েটার রূপে নিরঞ্জনের জনপ্রিয়তা বিপুল পরিমাণে বেড়ে যায়। নেটিজেনরা দারুণ উপভোগ করেন তাঁর কনটেন্ট। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ঘুরে বেড়ায় তাঁর নানা ভিডিও। নিজে মজার কনটেন্ট বানালেও, নিরঞ্জনের জীবনের লড়াইটা বেশ কঠিন। সমকামি হওয়ায়, অনেক অপমান সহ‍্য করতে হয়েছে তাঁকে। গত বছর অভিনয় জগতেও ডেবিউ সেরে ফেলেছেন। ওয়েব সিরিজে অভিনয় করে সকলের মন জয় করেছেন তিনি। 

Advertisement

প্রসঙ্গত, ইনস্টাগ্রাম বা অন্যান্য সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে নিখুঁত পোস্ট, ট্রেন্ডিং রিলস, দুর্দান্ত ফ্যাশন, সব মিলিয়ে রাতারাতি না হলেও- কিছুটা পরিশ্রম করেই আজকের যুগে যে কোনও কেউ তারকা হয়ে উঠতে পারে। কাটাতে পারেন স্বপ্নের জীবন। ফলে এই ডিজিটাল যুগে, অনেকেই হতে চাইছেন ইনফ্লুয়েন্সার। চলছে লাইক- ভিউয়ের লড়াই। কোভিডের সময় থেকে ক্রমেই বাড়ছে এই ইনফ্লুয়েন্সারদের সংখ্যা। ফলে বাজার এখন আগের থেকে অনেক বেশি প্রতিযোগিতামূলক। বর্তমানের সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার নামটি ব্যাপক ভাবে জনপ্রিয়। বহু মানুষ তাদের অনুসরণ করেন। শহর ছাড়িয়ে গ্রামাঞ্চলেও বর্তমান সময়ে, ইউটিউবার বা ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সারদের খুঁজে পাওয়া যায়। এই সকল ইনফ্লুয়েন্সাররা তাদের পেজ বা চ্যানেল মনিটাইজ করে বিপুল অর্থ উপার্জন করছেন। আগে মূলত ইউটিউবাররা জনপ্রিয় হলেও, যত দিন যাচ্ছে বাড়ছে ইনস্টা ইনফ্লুয়েন্সারদের সংখ্যা। 


 

POST A COMMENT
Advertisement