কী হয়েছিল গায়ক রথীজিতের?বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে গায়ক ও সুরকার রথীজিৎ ভট্টাচার্য এখন বেশ পরিচিত নাম। খাদান ছবিতে কিশোরী গানটি গেয়ে রাতারাতি লাইমলাইটে চলে আসেন রথীজিৎ। তবে সম্প্রতি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন গায়ক। জানা যায়, কথা বলতে গেলে তাঁর ঠোঁটটা হালকা বেঁকে যাচ্ছিল। এরপরই তাঁকে তড়িঘড়ি নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। রথীজিৎ নিজেই জানিয়েছেন সোশ্যাল মিডিয়া পেজে যে তাঁর TIA হয়েছে।
রথীজিৎকে পরীক্ষা করার পর চিকিৎসকেরী জানান যে তাঁর TIA বা Transient Ischemic Attack। এটাকে অনেক সময় মিনি স্ট্রোকও বলা হয়, কারণ এখানেও স্ট্রোকের উপসর্গ দেখা দেয়। হাসপাতালে ভর্তি থাকাকালীন গায়ককে পর্যবেক্ষণে রাখা হয় এবং চিকিৎসার পর বর্তমানে রথীজিৎ অনেকটাই সুস্থ বলে জানা গিয়েছে। সুস্থ হওয়ার পরই রথীজিৎ তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পেজে একটি পোস্ট শেয়ার করে জানিয়েছেন যে তিনি এখন অনেকটাই সুস্থ আছেন।
এই কঠিন সময়ে তাঁর পাশে ছিলেন গায়কের স্ত্রী। গায়ক জানিয়েছেন যে তিনি আগের তুলনায় ভাল আছেন এবং TIA থেকে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। কিছুদিনের মধ্যেই তিনি কাজে ফিরবেন বলেও জানান। রথীজিৎ সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেও ভোলেননি। এক সংবাদমাধ্যমকে রথীজিতের স্ত্রী জানিয়েছেন যে এখন গায়ক হাসপাতাল থেকে বাড়ি এসেছেন। দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন। আপাতত তাঁকে নিয়মমাফিক জীবন কাটাতে হবে। বাইরের খারাপ খাওয়া যাবে না। ৮ ঘণ্টা ঘুমাতেই হবে। এছাড়া ওষুধও চলবে।
জানা গিয়েছে, একটি ছোট রক্ত জমাট বা চর্বির আস্তরণ যা অল্প সময়ের জন্য মস্তিষ্কের ধমনী অবরুদ্ধ করে। হাই প্রেশার (সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকির কারণ), হাই কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস এবং পারিবারিক স্ট্রোকের ইতিহাস থাকলে TIA হতে পারে। এর উপসর্গও স্ট্রোকের মতো৷ মুখ, হাত বা পায়ের একপাশে দুর্বলতা, অসাড়তা বা পক্ষাঘাত। অস্পষ্ট কথা বলা অথবা অন্যদের সঙ্গে কথা বলতে ও বুঝতে অসুবিধা হওয়া৷ এক বা উভয় চোখে হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি হারানো, মাথা ঘোরা, বা হাঁটতে অসুবিধা।
বাংলা গানের দুনিয়ায় উল্লেখযোগ্য নাম রথীজিৎ ভট্টাচার্য। বাংলা সারেগামাপা-এর তিনি অ্যারেঞ্জার এবং গ্রুমার। এই শো থেকেই রথীজিতেরও উত্থান। এছাড়াও বহু বাংলা গানের সুরকার তিনি, যার মধ্যে অবশ্যই উল্লেখযোগ্য হল 'কিশোরী' গানটি।