নচিকেতা চক্রবর্তী (ছবি: ফেসবুক)বাংলা জীবনমুখী গান মানেই যার কথা সবার আগে মাথায় আসে, তিনি হলেন নচিকেতা চক্রবর্তী। নয়ের দশকের তাঁর সব গান আজও হিট। বয়স নির্বিশেষে নচিকেতার গান থাকে সব সময় বাঙালি শ্রোতাদের প্রিয় প্লে-লিস্টে। নচিকেতা, একাধারে গায়ক, গীতিকার, সঙ্গীত পরিচালক হিসাবে মন জয় করেছেন অসংখ্য মানুষের। সঙ্গীত জগতের পাশাপাশি অভিনয় ও ছোট পর্দায় সঞ্চালনাও করেছেন তিনি। এই মুহূর্তে আলোচনায় সঙ্গীতশিল্পী। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছে তাঁর নাম। অভিযোগ, এক মিশরীয় গানের সুর নিয়ে তৈরি হয়েছে তাঁর জনপ্রিয় 'রাজশ্রী' গানটি। এমনকী 'হুবহু টুকে', কোনও কৃতিত্ব দেননি শিল্পী।
এপ্রসঙ্গে bangla.aajtak.in-র তরফে যোগাযোগ করা হয় নচিকেতা চক্রবর্তীর সঙ্গে। অভিযোগ নিয়ে এবার মুখ খুললেন শিল্পী। বিরক্ত হয়ে অভিযোগকারীর দিকে পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন গায়ক। তিনি বললেন, "রবীন্দ্রনাথকেও জিজ্ঞেস করেছেন একই প্রশ্ন? ওঁর 'পুরনো সেই দিনের কথা', 'ফুলে ফুলে ঢোলে ঢোলে' এসব গান নিয়েও নিশ্চয় প্রশ্ন করেছেন! কপি তো হয়েছে বহু গান, তাতে কী হয়েছে? একটি বিদেশি গান থেকে অনুপ্রাণিত হতে পারে না কেউ? 'কৌন হ্যায় যো স্বপ্নো ম্যায় আয়া' এই এভারগ্রিন গানটাও তো একটা বিদেশি গানের থেকে অনুপ্রাণিত। এরকম প্রচুর গান কপি করা হয়।"
নচিকেতা আরও বলেন, "আমি আবারও একই কথা বলছি। এটা ২৫ বছর আগের একটা গান। তাহলে একবার রবীন্দ্রনাথকে জিজ্ঞেস করে দেখলে ভাল হয় না, উনিও কি চুরি করেছেন নাকি অনুপ্রাণিত হয়েছেন?"
নয়ের দশকে 'নীলাঞ্জনা', 'একদিন ঝড় থেমে যাবে', 'অনির্বাণ', 'অ্যাম্বিশন', 'যখন সময় থমকে দাঁড়ায়', 'বৃদ্ধাশ্রম'-র মতো গানগুলি আজও লোকের মুখে মুখে ফেরে। ১৯৯৮ সালে প্রকাশ্যে আসে নচিকেতা চক্রবর্তীর 'আমিই পারি' অ্যালবামটি। 'সরকারী কর্মচারী', 'নীলামে উঠছে দেশ', 'কফি হাউজ', 'বাসবেই ভালো' থেকে শুরু করে 'রাজশ্রী', সেই সময় একের পর এক সুপারহিট গান গেয়ে শ্রোতাদের মন জয় করেন শিল্পী।
প্রায় ২৬ বছর পর হঠাৎ কেন উঠছে 'রাজশ্রী' নিয়ে বিতর্ক? আসলে নয়ন মালেক নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দাবি করা হয়, নচিকেতার 'রাজশ্রী' গানটি কোনও এক মিশরীয় গান থেকে 'হুবহু টোকা'। পোস্টে এও দাবী করা হয় যে, এই মিশরীয় গানের সুর নিয়ে তৈরি করেও 'রাজশ্রী'-র কোনও ক্রেডিট পর্যন্ত দেয়নি নচিকেতা। বিদেশি গানটির লিঙ্কও শেয়ার করেছেন ওই নেটিজেন।