ট্রোলের মুখে নুসরতট্রোলিং-কটাক্ষের অপর নাম নুসরত জাহান। নায়িকা কিছু পোস্ট করলেই নেটিজেনের একাংশ তাঁকে খারাপ কথা বলতে ছাড়েন না। তবে এইসব কিছুকে একেবারেই পাত্তা দিতে নারাজ নুসরত। নিজের মতো করেই বাঁচতে তিনি ভালোবাসেন। মুসলিম হলেও নুসরত সব ধর্মের উৎসবেই মেতে থাকেন। আর তা নিয়ে তাঁকে বার বারই সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। সরস্বতী পুজোর দিনও ছবি পোস্ট করতেই হিন্দু ও মুসলিম দুই তরফের পক্ষ থেকেই ট্রোল করা শুরু হয়।
নুসরত ও যশের বন্ধু শ্রেয়া পাণ্ডের বাড়িতে খুব বড় করে সরস্বতী পুজোর আয়োজন করা হয়ে থাকে। প্রতিবছরই টলিপাড়ার এই জুটি পুজোয় অংশ নিয়ে থাকেন। এই বছর যস-নুসরতের সঙ্গে গিয়েছিলেন ছেলে ঈশানও। সরস্বতী পুজো আর ছবি না তুললে হয়? যশ-নুসরত ও ছেলে ঈশান তিনজনেই গলুদ রঙের পোশাক পরেছিলেন। নুসরত পরেছিলেন হলুন রঙের শাড়ি। খুব মিষ্টি লাগছিল। বেশ অনেক ছবি তুলেছিলেন তাঁরা। তবে সব ছবিতেই সরস্বতী মায়ের মুখ ছিল ঝাপসা আর ঠাকুরকে পিছনে রেখে তোলা হয় ছবি।
সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় নুসরত পোস্ট করতেই ট্রোলের ঝড় ওঠে। হিন্দু এবং মুসলিম দুই সম্প্রদায়ের মানুষই নায়িকার তুলোধনা করতে ছাড়েন না। একদিকে যেমন নুসরতের ধর্ম টেনে তাঁকে ট্রোল করা হয় অপরদিকে হিন্দুদের কটাক্ষের মুখেও পড়েন নায়িকা। কেউ লেখেন, 'তুই মরলে যে কি করব আল্লাহ ভাল জানে।' আবার কেউ লেখেন, 'ছিঃ লজ্জা।' কেউ কেউ লিখেছেন, 'ঠাকুরকে যখন ব্লার করবে তখন ওনার সামনে ছবি না তুলতে পারেন আপনারা।' আবার কেউ লেখেন, 'তমি না মুসলিম', আবার কেউ লেখেন, 'বোন তুই আসলে কোন ধর্মের।' আবার অনেকে লেখেন, 'ঠাকুরের পিছনে বসে ছবি তুলতে নেই, সব সময় এটাই করে।'
নুসরত এইসব ট্রোলের কোনও উত্তর দেননি। এর আগেও জন্মাষ্টমী, দশমীর সিঁদুর খেলা নিয়ে নায়িকাকে একাধিকবার ট্রোলের মুখে পড়তে হয়েছিল। নুসরত মুসলিম হলেও তিনি সব ধর্মের উৎসবকেই সমানভাবে সম্মান করেন এবং সেই উৎসবে মেতে ওঠেন। নিষ্ঠাভরে যেমন রোজা রেখে ঈদ পালন করেন তেমনি তাঁকে দুর্গাপুজোর অষ্টমীতে অঞ্জলি দিতেও দেখা যায় আর সরস্বতী পুজোয় ভোগও খান। তাই এইসব ট্রোলিং তাঁকে স্পর্শ করতে পারে না। এই মুহূর্তে বড়পর্দায় দেখা যাচ্ছে না যশ ও নুসরতকে। নিজেদের প্রযোজনা সংস্থা রয়েছে, খুব শীঘ্রই নতুন কিছু নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে।