
তারকাহীন মমতার ধর্না২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সরকারি হোক কিংবা দলের যে কোনও অনুষ্ঠান, ধর্না, মিছিলে দেখা যেত তারকাদের সমাবেশ। ক্রমে ক্রমে সেই তারকাদের ভিড় বাড়তে শুরু করে দিল। রাজনীতির ময়দানে সেলেবদের আসা-যাওয়া নতুন কিছু না হলেও, তৃণমবল আমলে সেটা বাড় বাড়ন্তে পরিণত হয়। গত ১৫ বছরে একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ হোক, কোনও প্রতিবাদী মিছিল হোক বা ধর্মতলায় ধর্না মঞ্চ, সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে প্রথম সারিতে দেখা গিয়েছে দেব, সোহম, সায়নী, জুন, সায়ন্তিকা, রাজ চক্রবর্তী, সৌমিতৃষা, অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়, লাভলি মৈত্র, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌরভ দাস সহ একাধিক টলিপাড়ার চেনা মুখদের। কিন্তু ছাব্বিশের নির্বাচন রাজ্যে ১৫ বছরের তৃণমূলের শাসনের পতন ঘটিয়ে বঙ্গে পদ্মফুল ফুটেছে। আর রাজ্যে এই ব্যাপক পরিবর্তনের পরই মমতার পাশ থেকে একে একে সরে যেতে দেখা যায় টলিউডের চেনা মুখদের। ৪ মে-এর পর যতবারই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনও বৈঠক ডেকেছেন, দেখা গিয়েছে টলিপাড়ার একজনও সেখানে উপস্থিত নেই। উল্টো সুর শোনা গিয়েছে দেব-রূপাঞ্জনাদের গলায়। মঙ্গলবার ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলের ধর্না মঞ্চেও উপস্থিত ছিলেন না কোনও তারকা সাংসদ, টলিপাড়ার চেনা মুখ। কিন্তু দেখা গেল ছোটপর্দার পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করা সুভদ্রা মুখোপাধ্যায়, ময়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর অভিনেতা স্বামী অর্ণবকে।
ছাব্বিশের ভরাডুবির পর একমাসও হয়নি, আর তারই মাঝে তৃণমূল ঘনিষ্ঠ টলিউড তারকাদের গলায় শোনা গিয়েছে উল্টো পুরাণ। একসময় যাঁরা দিদি দিদি বলতে অজ্ঞান হত, তাঁদেরই গলায় শোনা গেল বিজেপি সরকারের প্রশংসা। সোনারপুরে গিয়ে হামলার মুখে পড়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই অবস্থায় হামলা, রিগিং, ভোট পরবর্তী হিংসা, এসআইআর-সহ একাধিক ইস্যুতে রানি রাসমণি রোডে ধর্নায় বসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেখানে যেমন দেখা মেলেনি বহু তৃণমূল সাংসদ-বিধায়কের, তেমনি মমতার আশপাশে দেখা গেল না টলিপাড়ার কোনও মুখদের। এই উল্টো পুরাণের মাঝেও দু-তিনজন তারকাই মমতার পাশে এখনও দাঁড়িয়ে। তাঁরা হলেন ছোটপর্দার চেনা মুখ সুভদ্রা মুখোপাধ্যায়, ময়না বন্দ্য়োপাধ্যায় ও তাঁর স্বামী অর্ণবকে।

সুভদ্রা মুখোপাধ্যায় বাংলা টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রের পরিচিত মুখ। বিশেষ করে মা, কাকিমা বা শাশুড়ির চরিত্রে তাঁর অভিনয় দর্শকদের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। মমতার মিটিং-মিছিল, ধর্নাতেও তিনি নিয়মিত আসেন। ২০২৪ সালে স্বামীকে হারিয়েছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি দিদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রে দীক্ষিত তিনি। বিজেপিতে যোগ দিয়েও পরে ২০২১ সালে তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে নেন সুভদ্রা। আর তারপর থেকেই তিনি নিয়মিতভাবে এই দলটার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। সুভদ্রাকে কখনও প্রথম সারির অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সঙ্গে মমতার পাশে না দেখা গেলেও তিনি সব জায়গাতেই উপস্থিত থেকেছেন।

একাধিক সিরিয়ালে কাজ করে দর্শকদের মনে জায়গা করে নিয়েছেন ময়না বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর স্বামী অর্ণব। এঁরাও প্রথম থেকেই তৃণমূলের জয়গান গেয়ে এসেছেন। রাজ্যে তৃণমূল সরকারের পতনের পরও তাঁরা নিজেদের অবস্থানে অনড় থেকেছেন। এদিন ওয়াই চ্যানেলের ধর্না মঞ্চেও এই জুটিকে দেখা গিয়েছে। এক সংবাদমাধ্যমের কাছে ময়না বলেন যে তাঁদের কাছে তৃণমূল মানে একটাই নাম, তা হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ময়না আরও বলেন যে তাঁরা সব সময়ই রয়েছেন পাশে দিদি ও অভিষেকের পাশে। অভিনেত্রী এও বলেন যে সোনারপুরের ঘটনার দিন তিনি এবং অর্ণব দুজনেই অভিষেকের সঙ্গে ছিলেন এবং অর্ণবও মার খেয়েছেন অল্প। ময়না এও জানান যে তিনি ও অর্ণব যখন সুযোগ পেয়েছেন তখন অবশ্যই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে পায়ে পা মিলিয়ে চলবেন তাঁরা।

এদিনের ধর্নায় দেখা মেলেনি তৃণমূলের ‘দাপুটে’ সাংসদ সায়নী ঘোষের। গরহাজির ঘাটালের সুপারস্টার সাংসদ দেবও। অভিনেতা-প্রযোজক যদিও সদ্য তাঁর পুজোর সিনেমা ‘দেশু ৭’-এর শুটিং শুরু করেছেন। এলেন না নিজেকে তৃণমূলের ‘একনিষ্ঠ সৈনিক’ বলে দাবি করা রাজ চক্রবর্তীও। এদিকে ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে হারের পরই জিমে ব্যস্ত সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। সিনেদুনিয়ায় প্রত্যাবর্তনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে খবর। মমতার ধর্নায় দেখা মিলল না তৃণমূলের দু’বারের বিধায়ক সোহম চক্রবর্তীরও। রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, জুন মালিয়া, শতাব্দী রায়, কাঞ্চন মল্লিক, লাভলি মৈত্র থেকে ভোটপ্রচারের পিচে দাপিয়ে বেড়ানো সৌমিতৃষা কুণ্ডুও অনুপস্থিত।