ফুলপিসি ও এডওয়ার্ড-এর বক্স অফিস কালেকশনগত কয়েক বছরে উইন্ডোজ প্রোডাকশনের সিনেমা মানেই তা নিয়ে দর্শকদের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে থাকত। শিবপ্রসাদ ও নন্দিতা রায়ের হাত ধরে দর্শকেরা পেয়েছেন একাধিক হিট ছবি। 'ইচ্ছে', 'হামি', 'প্রাক্তন', 'বহুরূপী', 'রক্তবীজ', 'আমার বস' সহ সব ছবিতেই ছক্কা হাঁকিয়েছে এই জুটি। গরমের ছুটিতে উইন্ডোজ-এর ‘ফুলপিসি ও এডওয়ার্ড’ মুক্তি পেয়েছে। পারিবারিক আবেগ সেখানে থাকলেও সপ্তাহান্তের বক্স অফিসে সেরকম ফল করতে পারল না এই ছবি। sacnilk.com-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ছবি উইকেন্ডে ঘরে লক্ষ্মী আনতে বাধ্য হয়েছে।
প্রভাব আইপিএ ফাইনালের
শিবপ্রসাদ ও নন্দিতা রায়ের এই ছবি নারীকেন্দ্রিক বললেও খুব একটা অত্যুক্তি হয় না। সোহিনী সেনগুপ্ত, রাইমা সেন, কনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, অনন্যা রায়, শ্যামোপ্তি মুদলি সহ একাধিক শক্তিশালী অভিনেত্রীদের দেখা গিয়েছে। গত ২৯ মে মুক্তি পায় ফুলপিসি ও এডওয়ার্ড। অনেকেই মনে করেছিলেন যে শনি ও রবিবার এই ছবি বক্সঅফিসে ভাল ফল করতে সক্ষম হবে। কিন্তু বাধ সাধল রবিবারের আইপিএল ২০২৬-এর মেগা ফাইনাল। আরসিবি বনাম গুজরাতের সেই হাই ভোল্টেজ ফাইনাল দেখার জন্য রবিবার এই বাংলা ছবি দেখতে হলে সেভাবে ভিড় হয়নি।
বক্স অফিসে কম কালেকশন
ট্রেড অ্যানালিস্ট ওয়েবসাইট স্যাকনিল্ক (Sacnilk)-এর দেওয়া প্রাথমিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মুক্তির প্রথম তিনদিনে ‘ফুলপিসি’-র মোট কালেকশন দাঁড়িয়েছে মাত্র ৭৯ লাখ টাকা! শনি-রবি বক্স অফিসে সবচেয়ে বেশি আয় হয়, কিন্তু আইপিএল ফাইনালের চোটে রবিবার এই ছবি মাত্র ৩০ লাখ টাকার ব্যবসায় সন্তুষ্ট থাকতে বাধ্য হয়েছে। হল ফাঁকাই ছিল কার্যত। সকলেরই চোখ ছিল এই ফাইনালের দিকে। ‘ফুলপিসি’-র ব্যবসা নিয়ে প্রযোজকরা অবশ্য এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য শেয়ার করেননি। শুধু জানানো হয়েছে, ছবির ৭০ টি শো নাকি রবিবার প্রায় হাউসফুল ছিল। আইপিএল শেষ হওয়ার পর সোম থেকে রবি কী ফল করে এই ছবি এখন সেই দিকেই তাকিয়ে উইন্ডোজ।
ছবির গল্প
জমিদার বাড়ির জমজমাট রহস্য , ছবির ব্যবসার এই জোয়ার আসার পেছনে রয়েছে এর টানটান চিত্রনাট্য। গল্প আবর্তিত হয়েছে এক রাজকীয় জমিদার পরিবারকে কেন্দ্র করে। ছবির গল্প অনুযায়ী, জমিদার মণীন্দ্র চন্দ্র নন্দী (অর্জুন চক্রবর্তী) বেঁচে থাকার জন্য একটি কিডনির খোঁজে চতুর্থবারের জন্য বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর বর্তমান স্ত্রী অদিতি (রাইমা সেন) নিজের কিডনি দিতে অস্বীকার করলে, অদিতির বোন বিনীতার (শ্যামৌপ্তি মুদলি) সঙ্গে জমিদারের বিয়ের তোড়জোড় শুরু হয়। কিন্তু বিয়ের দিনই আচমকা রহস্যজনকভাবে মৃত্যু হয় জমিদারের! এরপরই গল্পে এন্ট্রি নেন এক পুলিশ অফিসার (রজতাভ দত্ত) এবং শুরু হয় খুনের রহস্য উদঘাটন। এই জমিদার বাড়ির অন্দরেই জড়িয়ে রয়েছেন রাজলক্ষ্মী (কোনীনিকা বন্দ্যোপাধ্যায়), পরিবারের বড় সদস্য হাসি দেবী (অনামিকা সাহা) এবং বাঈজি পুতুল বাই (অনন্যা চট্টোপাধ্যায়)। আর এই পুরো জট পাকা রহস্যের সমীকরণ ভেদ করতে পর্দায় অবতীর্ণ হন ফুল পিসি (সোহিনী সেনগুপ্ত)। মিস মার্পল ঘরানার এই পিসির তীক্ষ্ণ বুদ্ধি আর তাঁর কাণ্ডকারখানা দর্শকদের সবথেকে বেশি বিনোদন জোগাচ্ছে।