ঊষসী-প্রতীক উর রহমানইন্ডাস্ট্রিতে তিনি জুন আন্টি বলেই পরিচিত। টেলিভিশনের পর্দায় তাঁকে খলনায়িকার চরিত্রেই দেখা যায় বেশি। প্রয়াত সিপিএম নেতা শ্যামল চক্রবর্তীর মেয়ে ঊষসীর রক্তে ছোট থেকেই বইছে বাম রক্ত। তাই পার্টির যে কোনও খারাপ-ভাল সময়ে পাশে থাকতে পিছুপা হননি প্রয়াত বাম নেতার কন্যা। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বঙ্গ রাজনীতি তোলপাড়। চলছে দলবদলের খেলা। আর এরই মাঝে সিপিএমের তরুণ তুর্কি প্রতীক উর রহমান দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকেও অব্যাহতি নেওয়ার কথা জানিয়ে মঙ্গলবার চিঠি দিয়েছিলেন। তারপর থেকেই জলঘোলা শুরু। দলের প্রবীণ নেতা সহ বামেদের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগও এনেছেন তিনি। এবার নাম না করে প্রতীক উর রহমানকে একহাত নিলেন ঊষসী।
প্রয়াত সিপিএম নেতার মেয়ে হওয়া সত্ত্বেও পার্টির সদস্য কোনওকালেই ছিলেন না তিনি। ঊষসী তাঁর পোস্টের প্রথমেই সেই কথা উল্লখ করেছেন। এরই সঙ্গে জুন আন্টি লেখেন, কিন্তু তবুও ঝকঝকে যুবনেতা, যাকে এতদিন অ্যাসেট বলে জেনে এসেছি-শ্রদ্ধার আসনে বসিয়েছি, ওর মতো, ওদের মতো লড়াকু হতে পারিনি বলে আত্মগ্লানিতে ভুগে নিজের মধ্যবিত্ত জীবনকে ঘেন্না করেছি বরাবর, তাঁকে হঠাৎ পচে যেতে দেখে ভিতরটা কেমন খালি হয়ে যাচ্ছে। ঊষসী তাঁর দীর্ঘ পোস্টে এও লেখেন, জানি লড়াইটা কঠিন। মধ্যবিত্ত জীবনের ঘেরাটোপে বসে পার্টি কর্মীদের নিরন্তর লড়াই নিয়ে কথা বলার আমি কেউ নই, তবুও এক অদৃশ্য বেদনা নিয়ে গত কয়েকদিন বেঁচে আছি। আমি জানি কমরেডরা যারা সত্যি সত্যিই অ্যাসেট, তারা এতো সহজে হার মানছেন না। বিনোদের মতোই অনুকরণীয় ভঙ্গিতে বলবে, 'হাম গরিব হায় গাদ্দার নেহি'।
উষসী নিজের পোস্টে আরও লেখেন, নিজের পচনকে জাস্টিফাই করার জন্য, পার্টির প্রতি অভিমান থাকা সত্ত্বেও যারা নিরন্তর পার্টির সঙ্গে থেকে কাজ করে চলেছেন তাদেরকে ঢাল না করাই ভালো। আমারও সেটাই মনে হয়। তবে যাই হোক, একটা কথা তো ঠিক যে সব কিছুরই ভালো খারাপ আছে । ভালো দিকটা হলো এই যে এত দিন মিডিয়া মারফত জানতাম রাজ্যে দুটি দল। বিজেপি আর টিএমসি। আর তৃতীয় দলটি শূন্য পায়। তাই তারা এখন অপ্রাসঙ্গিক। কিন্তু হটাৎ করে শুনছি শূন্য পাওয়া দলের যুব নেতৃত্বের সবাই বাকি দুটো চূড়ান্ত রেলিভেন্ট দল থেকে প্রতিদিন অফার পাচ্ছে। ব্রো, শূন্য পাওয়া দল থেকে এত নেতা ধার নিতে হছে কেন? কুসুম কুসুম তোমার যুবনেতা নেই?
বিধানসভা ভোটের আগে প্রতীক উর রহমানের দল ছাড়ার ঘটনায় রীতিমতো ব্যাকফুটে আলিমুদ্দিন। দলের ‘বিদ্রোহী’ যুবনেতা পার্টির রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমকে নিশানা করে দলের বিরুদ্ধে একের পর এক বোমাবর্ষণ করেছেন। কীভাবে তাঁকে কোণঠাসা করা হয়েছিল, তাঁর কথা শোনার জন্য কেউ সময় দেয়নি তা সামনে এনেছে প্রতীক। CPIM-এর হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে প্রকাশ্যে চলে আসা একটি চিঠি ঘিরে শুরু হয়েছিল জলঘোলা। দলের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে দল ছেড়ে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেন প্রতীক উর রহমান। তারপর থেকে নানা সংবাদমাধ্যমে দলের রাজ্য সম্পাদক সম্পর্কে নানাবিধ মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছিল জল্পনা। সঙ্গে জুড়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় SIR নিয়ে লড়াই এবং লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ভূয়সী প্রশংসা। প্রতীক উরের তৃণমূলে যোগ নিয়ে জল্পনা চলছে বহুদিন ধরেই। জানা যাচ্ছে, আজই আমতলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগদান করতে পারেন তিনি।