রাজা-মধুবনীদুজনেই ছোটপর্দার খুবই চেনা মুখ। যদিও একজন এখন পর্দার বাইরে আর একজন টেলিভিশনে অভিনয় করছেন। একটা সময় বাস্তবের স্বামী-স্ত্রী টেলিভিশনের জনপ্রিয় জুটি ছিলেন। কথা হচ্ছে ছোটপর্দার অন্যতম প্রিয় জুটি রাজা ও মধুবনী গোস্বামীর। যদিও বহু বছর তাঁদের একসঙ্গে দেখা যায়নি। এবার সেই খরা কাটিয়ে জুটি বাঁধছেন ওম-তোড়া। তবে তাঁদের টেলিভিশনের পর্দায় দেখা যাবে না।
ওম-তোড়া জুটি তথা মধুবনী ও রাজাকে দেখা যাবে যাত্রামঞ্চে। ভারতরত্ন অপেরার ‘কুঁড়েঘরে রাজকন্যা’ যাত্রাপালায়। পরিচালনায় মঞ্জিল বন্দ্যোপাধ্যায়। অগাস্ট থেকে এই যাত্রার মহড়া শুরু। নায়কের ভূমিকায় দেখা যাবে রাজাকে। ইতিমধ্যেই তাঁদের সোশ্যাল মিডিয়া পেজে এই যাত্রার পোস্টার শেয়ার করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, রাজা ধারাবাহিকে অভিনয় করলেও মধুবনী বেশ কয়েক বছর দূরে ছিলেন বিনোদন দুনিয়া থেকে। মাঝে ছোটপর্দায় কামব্যাক করলেও, সেটা বেশিদিনের জন্য নয়।
কেন যাত্রামঞ্চকেই বেছে নিলেন মধুবনী? এক সংবাদামাধ্যমকে অভিনেত্রী জানিয়েছেন যে যাত্রায় এটা তাঁর ষষ্ঠ বছর। করোনার সময় তাঁদের ছেলে কেশব জন্মায়। আর রাজা বা মধুবনী কেউই চাননি বাইরের কারোর কাছে তাঁদের ছেলে বড় হোক। তাই সেই সময় মধুবনী সব ছেড়ে ছেলেকে বড় করার কাজে লেগে পড়েছিলেন। সঙ্গে ছিলেন রাজা ও দুই পরিবার। এখন কেশব পাঁচ। স্কুলে যাচ্ছে। তার পরেও তার মায়ের যত্নের প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন মধুবনী। তাঁর মতে, ছোটপর্দায় কাজ করলে অনেকটা সময় দিতে হয়। তাই টেলিভিশন থেকে একাধিক প্রস্তাব পাওয়ার পরও তিনি ও রাজা যাত্রামঞ্চকেই বেছে নিয়েছেন।
আসলে যাত্রার সিজন শুরু হয় অক্টোবর থেকে। শেষ হয় মার্চ মাসে। মহড়ার জন্য সারা দিন থাকতে হয় না। শো শুরু হয় সন্ধ্যায়। অর্থাৎ পুরো সকাল মধুবনী কেশবকে দিতে পারবেন। কিছুদিন আগেই মাঝপথে বন্ধ হয়েছে চিরসখা। অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পরই টেলিভিশনের ডামাডোল অবস্থা দেখা যায়। যদিও রাজা ও মধুবনী টেলিভিশন দুনিয়ার উপরে নির্ভর করেন না।
অনেক বছর ধরেই মধুবনী ও রাজা নিজেদের ভ্লগিং-এর পাশাপাশি ব্যবসাও শুরু করেছেন। টেলিভিশনে ফিরতেই হবে, এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই তাঁদের। 'ভালোবাসা ডট কম' মেগার হাত ধরে পথ চলা শুরু করেছিলেন মধুবনী। তারপর বহু জনপ্রিয় ধারাবাহিকে তাঁকে নজর কাড়তে দেখা গিয়েছে। তবে ছেলের জন্মের পর টেলিভিশন থেকে নিজেকে গুটিয়েই রেখেছিলেন তিনি।