আইনি পথে হাঁটবেন পিয়াগত শুক্রবার EIMPA-র অফিসে একপ্রকার ঝড় বয়ে গিয়েছে। ইমপার বর্তমান সভাপতি পিয়া বনাম প্রযোজক-পরিবেশকদের একাংশের মধ্যে অশান্তি-ঝগড়া চরমে ওঠে। একাধিক অভিযোগ আনেন ইমপা সভাপতি। বৈঠক চলাকালীন অসুস্থও হয়ে পড়েন তিনি। এরপরই ধ্বনিভোটে নাম উঠে আসে প্রযোজক রতন সাহার। ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স অ্যাসোসিয়েশন-এর অস্থায়ী সভাপতির চেয়ারে বসেন তিনি। কিন্তু রতন সাহাকে সভাপতি ভাবতে নারাজ ইমপার বর্তমান সভাপতি পিয়া।
সোমবার প্রেস ক্লাবে ডাকা এক সাংবাদিক সম্মেলনে পিয়া স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি রতন সাহাকে সভাপতি মেনে নিচ্ছেন না। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে না হওয়ায় এই নির্বাচন অবশ্য মানতে রাজি নন পিয়া সেনগুপ্ত। সোমবার ইমপার অফিসে নতুন অন্তবর্তীকালীন সভাপতি রতন সাহাকে ফুলের মালা পরিয়ে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অপরদিকে সাংবাদিক বৈঠক ডেকে পিয়া জানান যে শুক্রবারের অশান্তির মাঝেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। পরিবার তাঁকে ইমপার অফিসে যেতে নিষেধ করেছে। তাই তিনি অন্যত্র বৈঠকের বন্দোবস্ত করেন।
পিয়া সেনগুপ্ত এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানিয়ে দেন যে তিনি রতন সাহাকে সভাপতি পদে মানতে নারাজ। কোনও নির্বাচন ছাড়াই কীভাবে একজন মানুষ নির্বাচিত হয়ে গেলেন তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন পিয়া। এছাড়াও স্বজনপোষণ প্রসঙ্গ তুলে শতরূপ সাহাকে এক হাত নেন পিয়া সেনগুপ্ত। পিয়ার বক্তব্য অনুযায়ী, এতদিন যখন সকলে বনি সেনগুপ্তকে তুলে স্বজনপোষণ করার অভিযোগ এনেছিলেন তাহলে এখন কেন সেই অভিযোগ কার্যকরী হচ্ছে না? এমনকি পিয়া সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁকে নিয়ে করা ট্রোলিং নিয়েও মুখ খোলেন।
২০২৭ সাল পর্যন্ত ইমপার সভাপতির মেয়াদ রয়েছে। তার আগেই সরিয়ে দেওয়া হয় পিয়াকে। এ প্রসঙ্গে পিয়া বলেন, হাইকোর্টের জাস্টিস অরিন্দম মুখোপাধ্যায় বলে দিয়েছেন, এই বছরের ইলেকশনে উনি হাত দেবেন না। উনি তিনজন আইনজীবীকে সম্পূর্ণ দায়িত্ব দিয়ে দিয়েছেন ২০২৭ সালের যে ভোট হবে তখন একটা ভোটার তালিকা তৈরি করা হবে। পিয়ার কথানুযায়ী, তিনি আইন মেনেই ইমপার পদে রয়েছেন। আগামীদিনেও আইন মেনে চলবেন তিনি। অস্থায়ী সভাপতি পদে রতন সাহাকে বসানোর পর বলা হয় পিয়া সেনগুপ্ত হার স্বীকার করে নিয়েছেন তাই তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না এই কথা বলায় পিয়া স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কোনও ভোট হয়নি তাই হার স্বীকার করার কোনও প্রশ্নই আসে না এখানে।
অস্থায়ীভাবে ইমপার সভাপতির পদে রতন সাহাকে নিয়ে আসা হলেও তাঁকে সেই পদে মেনে নিতে রাজি নন পিয়া। আগামীদিনে তিনি আইনের পথেই যাবেন বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন। প্রসঙ্গত, ৪ মে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশ বদলে দিয়েছে রাজ্য রাজনীতি। পরাজিত তৃণমূল কংগ্রেস। পশ্চিমবঙ্গের শাসনভার বিজেপি সরকারের হাতে। সেই দিনই বিকেলে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিতে দিতে গঙ্গাজল ছিটিয়ে ইমপা অফিস শুদ্ধ করেন শতদীপ সাহা, রতন সাহা, পীযূষ সাহা, কৃষ্ণ দাগা, মিলন ভৌমিক-সহ একদল প্রযোজক। এঁরা কমিটির বর্তমান সভাপতি পিয়ার বিরোধীপক্ষ।