
অদিতি মুন্সিস্বামী দেবরাজ চক্রবর্তী গ্রেফতারের পর তাঁর স্ত্রী কীর্তন গায়িকা অদিতি মুন্সির ব্যক্তিগত জীবনেও ঝড় উঠেছে। তৃণমূল নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করেছে বিধাননগর কমিশনারেটের পুলিশ। দুর্নীতি ও সম্পত্তির হিসাব নয়ছয় ও তোলাবাজির অভিযোগে অদিতি মুন্সির স্বামীকে গ্রেফতার করা হয় পুরুলিয়া থেকে। তারপর থেকেই শিরোনামে রয়েছেন কীর্তন গায়িকা। ইতিমধ্যেই অদিতির বিরুদ্ধে বিস্ফোরক সব তথ্য সামনে নিয়ে এসেছেন তাঁরই বন্ধু তথা সারেগামাপা ২০২৫-এর বিজয়ী সৌম্য চক্রবর্তী। দুজনের মধ্যে বন্ধুত্ব থাকলেও এখন তাঁদের মধ্যে সেভাবে যোগাযোগ নেই। অদিতির বেশ কিছু বিষয় নিয়ে একেবার চাঁচাছোলা ভাষায় তাঁকে কটাক্ষে করেছেন সৌম্য।
অদিতি ও সৌম্য দুজনেই সারেগামাপা ২০২৫-এর প্রতিযোগী ছিলেন। তবে সৌম্য সেবার জয়ী হলেও অদিতির কীর্তন গানে মজে গিয়েছিলেন বিচারক থেকে শ্রোতা সকলেই। এটা বলতে কোনও দ্বিধা নেই যে বর্তমানে অদিতি মুন্সির জনপ্রিয়তা সৌম্যর চেয়ে অনেকাংশেই বেশি। সম্প্রতি সৌম্য এক সংবাদমাধ্যমকে অদিতির বিষয়ে বলতে গিয়ে জানান যে ২০১৫-এর সা রে গা মা পায়ের প্রতিযোগীদের সঙ্গে একটি গেট টু গেদার ছিল গত বছর। সকলের সঙ্গে অদিতিও এসেছিলেন। সকলের সঙ্গে দেখা হয়, খাওয়া-দাওয়া হয়।

সৌম্য বলেন, সেদিনের ওই গেট টু গেদারে বিল হয়েছিল ৮ হাজার টাকা। অদিতি তখন বিধায়ক। অন্যরা সকলে উঠতি গায়ক। ফলে অনেকেই ভেবেছিলেন হয়তো অদিতি পুরো বিল মিটিয়ে দেবেন কিংবা সকলের সঙ্গে বিলটি ভাগ করে নেবেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত অদিতি নাকি সেইসব কিছুই করেননি, বরং একটা টাকা না দিয়ে তিনি বেরিয়ে যান বলে দাবি করেন সৌম্য়। সারেগামাপা বিজয়ী অদিতিকে কটাক্ষ করে বলেন যে সেদিন প্রাক্তন বিধায়ক কফি খেয়ে চলে গেছিলেন, কিন্তু একটা টাকাও দেননি। এতে সকলেই খুব অবাক হয়েছিলেন। দক্ষিণ কলকাতার একটি জনপ্রিয় মলের উল্টোদিকে একটি ক্যাফেতে ঘটেছিল এই ঘটনা। সৌম্যর কথায়, ১০০ কোটি টাকা থেকে কি ২০০০ টাকা দেওয়া যেত না?

তবে পুরনো সব অভিমান ভুলে সৌম্য তাঁর বন্ধু অদিতিকে ভাল পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি চান আবার গানে ফিরুক কীর্তন শিল্পী। শুধু তাই নয়, অদিতির এখন নিজেকে একঘরে করে অন্তত একটা বছর সন্তানকে সময় দিক। সৌম্য এরই সঙ্গে বলেন, 'আমার সব সময়ই মনে হয় যে অদিতি রাজনীতিতে নিজেকে জড়িয়ে বিরাট বড় ভুল করেছে, রাজনীতিতে আসা উচিত হয়নি। শিল্পী হিসাবে ওঁর আরও শেখা উচিত ছিল, অন্য আরও গানের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করতে পারত, অনেক ঘরানাতে কাজ করতে পারতো।' এখন সৌম্য চান অদিতি আবার তার পুরনো জায়গায় ফিরুক।