অনিন্দ্য বসু'চুপ করে কেন একি বেলা তুমি কাঁদছো
চাকরিটা আমি পেয়ে গেছি সত্যি
কান্নাকাটির হল্লাহাটির সময় গেছে পেরিয়ে
হ্যালো তুমি শুনতে পাচ্ছো কি?'
যাঁরা ১৯৯০-এর দশকে বেড়ে উঠেছেন তাঁদের কাছে এই গানটির সঙ্গে আলাদা করে পরিচয় করানোর প্রয়োজন নেই। যাঁরা পরবর্তীকালে শুনেছেন তাঁদের মনেও বেলা বোস কোথাও না কোথাও ঠিক রয়ে গিয়েছেন। কিন্তু বেলা টেলিফোনে কেন কোনও কথা বলেননি? কেন চুপ করে শুধু কেঁদে গিয়েছেন? কেন স্বল্প বেতনের চাকুরে প্রেমিকের ডাকে সাড়া দিতে পারেননি? প্রশ্ন গুলো সঙ্গত কারণেই এত দিন ধরে সকলের মনে ঘুরপাক খেয়েছে। এ বার সেই প্রশ্নের উত্তর নিয়ে আসছেন শিল্পী অনিন্দ্য বসু। বেলা বোসকে নিয়ে একটি মিউজিকাল ফিল্ম তৈরি করেছেন তিনি, 'বেলা শুধু জানে'। আগামী ৮ এপ্রিল মুক্তি পাচ্ছে তাঁর ইউটিউব চ্যানেলে। বেলা বোস-কে নিয়ে আজতক বাংলার সঙ্গে কথা বললেন অনিন্দ্য।
বেলা বোস কেন?
উত্তরে অনিন্দ্য বলেন, 'বেলা বোস কেন আমি জানি না। এর কোনও উত্তর নেই আমার কাছে। ইট কেম সাডেনলি ইন মাই মাইন্ড। একদিন সন্ধেবেলা ছাদে পায়চারি করছিলাম। হঠাৎ করে যেন আকাশ থেকে দুটো লাইন মাথায় পড়ল। নীবিড় কেবিনে মুখোমুখি পর্দা টানা, বেলা বোস খুঁজছে আজও সেই ঠিকানা। বেলা বোসের সঙ্গে ঠিকানার খোঁজে বেরিয়ে পড়লাম আমিও। এ ভাবেই তৈরি হল বেলা শুধু জানে। আমার মাথায় এটা স্ট্রাইক করল, সত্যি তো। বেলার কথা তো আমরা কেউ জানতে চাইনি। একটি বেকার ছেলের চাকরি পাওয়া, প্রেম এ সব নিয়ে রোম্যান্টিসাইজ করেছি, সিম্প্যাথাইজ করেছি। নারী পুরুষ নির্বিশেষে করেছি। কিন্তু বেলা কেন শুধুমাত্র টেলিফোন ধরে ওপাশ থেকে কেঁদে গেল? কেন বেলা কোনও কথা বলল না? এই প্রশ্ন গুলো সকলের মনেই ছিল। কিন্তু উত্তর ছিল না। এখান থেকেই বোধহয় এই গানের সৃষ্টির সূত্র গাঁথা হয়ে গিয়েছিল। চুপ করে থাকা বেলা এবার কথা বলবেন। এ বার তাঁর কথা বলার পালা।'
যিনি এই চরিত্রের স্রষ্টা, যিনি এই গানটি লিখেছেন, গেয়েছেন, সেই অঞ্জন দত্তকে গানটা শুনিয়েছেন? কোনও প্রতিক্রিয়া এসেছে?
অনিন্দ্য বলেন, 'হ্যাঁ অঞ্জন দত্তকে হোয়াটসঅ্যাপে গানটা আমি পাঠিয়েছি। তবে তাঁর কাছ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও পাইনি। তবে আশা করি ওনার ভালোই লাগবে, খারাপ লাগবে না। ধরতে পারো আমার তরফ থেকে মূল স্রষ্টা অঞ্জন দত্তকে একটা শ্রদ্ধাঞ্জলী। আরও একটা কথা এখানে না বললেই নয়। বনলতা সেনকে আমরা দেখিনি। বেলা বোস আদপে কে তাও আমরা জানি না। কিন্তু ৮ এপ্রিল সকলে জানতে পারবেন বেলা বোস কে, এবং তাঁকে দেখতে পারবেন। এটা একটা সারপ্রাইজ এলিমেন্ট। যা ক্রমশ প্রকাশ্য।'
অনিন্দ্য মনে করেন, এখন ইন্ডিপেন্ডেন্ট গানকে শ্রোতার কান পর্যন্ত পৌঁছে দিতে চায় না এফ এম রেডিও। তিনি বলেন, 'তুমি নিজে ভেবে দেখো, ওই সময়টায় সমস্ত এফ এমে ব্যান্ড হোক বা একক শিল্পী, প্রত্যেকটা বাংলা গান বাজত। এখন শুনতে পাও? বিশেষ কিছু প্রোডাকশন হাউস এবং সিনেমার কিছু বাংলা গান এখন শোনা যায়। এ ছাড়া ইন্ডিপেন্ডেন্ট গান বাজানো হয় না। এ ভাবেই অনেক সৃষ্টির গলা টিপে দেওয়া হয়েছে।'