
দেবলীনা নন্দী ও তাঁর মাসোশ্যাল মিডিয়াতেও যেমন পরিচিত মুখ তেমনি তাঁর স্টেজ শো, মাচা অনুষ্ঠানগুলিতেও তিনি বেশ জনপ্রিয়। মিষ্টি গলা এবং সর্বদা হাসিমুখের জন্য পরিচিত দেবলীনা নন্দী। নেট দুনিয়ার গানের ভিডিও, রিলস পোস্ট করার পাশাপাশি তিনি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের একাধিক মুহূর্তকে তুলে ধরেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। গত বছরই বিয়ে করেছেন প্রবাহ নন্দীর সঙ্গে। কিন্তু বিয়ের বছর ঘুরতে না ঘুরতেই আত্মহত্যা করার চেষ্টা করলেন দেবলীনা। গায়িকার বন্ধু তথা অভিনেতা-কনটেন্ট ক্রিয়েটর সায়ক চক্রবর্তীর একটি পোস্ট থেকে জানা যায় যে দেবলীনা হাসপাতালে ভর্তি। তবে তিনি এখন বিপদ মুক্ত। হাসিখুশি থাকা দেবলীনা হঠাৎ করে কেন এই পদক্ষেপ করলেন?
শনিবার গভীর রাতে দেবলীনা তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পেজে একটি লাইভ ভিডিও করেন। কালো রঙের পোশাক পরে তাঁকে সেই ভিডিওতে দেখা যায়। আর সেখানেই তাঁকে বলতে শোনা যায় তাঁর পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনের একাধিক সমস্যার কথা। তবে পেশাগত সমস্যার চেয়েও দেবলীনা তাঁর ব্যক্তিগত সমস্যা নিয়ে রীতিমতো বিধ্বস্ত। আর এই সমস্যাগুলি বেশ অনেকদিন ধরেই চলছিল। গায়িকা এও জানিয়েছেন, বিয়ের পর থেকেই সমস্যা বাড়তে থাকে। যদিও সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর পোস্ট করা ভিডিও দেখে কখনই মনে হয়নি তাঁর দাম্পত্য জীবনে চলছে এমন টানাপোড়েন।

গায়িকা লাইভ ভিডিওতে এসে জানিয়েছেন যে তাঁর মাকে নিয়ে সকলের সমস্যা। তিনি সবসময় সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে চলতেই ভালোবাসেন কিন্তু সকলের মন জয় করার চেষ্টা করলেও তিনি অবশেষে হেরে যান। শ্বশুরবাড়ির নাম না উল্লেখ করেই দেবলীনা বলেন, সংসার করতে গিয়ে তাকে একটা কথা বারবার শুনতে হয় মাকে ছেড়ে দিতে হবে। কাজ নিয়েও একাধিক সমস্যা বাড়িতে। দেবলীনা জানিয়েছেন তিনি বরাবরই সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে চলতে চেয়েছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি হেরে গিয়েছেন বলেই দাবি করেন।

লাইভে বারবার দেবলীনাকে বলতে শোনা যায় তিনি যদি মারা যান, তিনি যদি আর না থাকেন, এই ধরনের কথা। এরপরই গায়িকা লাইভ ভিডিও শেষ করার আগে বলেন, আমি অনেক চেষ্টা করলাম, কিন্তু আর পারলাম না। ভিডিওর ক্যাপশনেও লেখা শেষ কথা। আর তারপরেই অভিনেতা সায়ক চক্রবর্তীর পোস্ট দেখে জানা যায় যে দেবলীনা হাসপাতালে ভর্তি। সায়কের পোস্ট করা ছবিতে দেখা গিয়েছে, দেবলীনার নাকে নল লাগানো, হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছেন তিনি। তবে কীভাবে আত্মহত্যা করেছেন গায়িকা, তা জানা যায়নি। ইতিমধ্যেই এই ব্যাপারটি নিয়ে তদন্ত শুরু করে দিয়েছে পুলিশ। ঠিক কোন পরিস্থিতিতে পড়ে এমন চরম সিদ্ধান্ত নিতে হল গায়িকাকে, সেই সবকিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আপাতত গায়িকা যাতে তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে ওঠেন সেই কামনাই করছেন সকলে।