
ইমন চক্রবর্তীসোশ্যাল মিডিয়ায় ভীষণভাবে সক্রিয় থাকেন গায়িকা ইমন চক্রবর্তী। পেশাগত জীবনের পাশাপাশি নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও একাধিক পোস্ট করেন তিনি। ইমন ও তাঁর কাকুর মজাদার ভিডিওগুলো ভীষণভাবে জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ তথা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্নেহধন্যা হওয়ার পর থেকেই গায়িকার ট্রোলড কিছুতেই থামছে না। যে কোনও পোস্ট করলেই সেখানে নেটিজেনের একাংশ এসে তাঁকে কটাক্ষ করছেন। এর আগে বহুবার ট্রোলের সপাটে জবাব দিয়েছেন গায়িকা। এবারেও তার ব্যতিক্রম হল না। সম্প্রতি ইমন তাঁর বাড়ির সুন্দর বারান্দার ছবি পোস্ট করেছেন। আর সেই পোস্টেও তাঁকে একাধিক ট্রোলের মুখে পড়তে হয়। যদিও পাল্টা জবাবও দিয়েছেন গায়িকা।
ইমনের বারান্দার ছবি দেখলে মন ভাল হয়ে যাবে। বারান্দার একটি সুন্দর কোণে বসে আলোর মালায় সেজে ওঠা গাছেদের মাঝে একটি ছবি পোস্ট করেন ইমন। নিয়ন আলো আর সঙ্গে গোলাপি রঙের ফুলের গাছের টব, বারান্দাটি দেখলে চোখ জুড়িয়ে যাবে আপনার। গায়িকা ক্যাপশনে লেখেন, বারান্দা। কিন্তু ব্যক্তিগত পোস্টেও আছড়ে পড়ল রাজনৈতিক কটাক্ষ। অনেকেই ইমনকে এই ছবিতে ট্রোলড করেছেন। ট্রোলড করে একজন লেখেন, ‘তৃণমূলের দালালি করেই তো এই সুখ! দিদির (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) আঁচলের তলায় থাকলে বারান্দাও স্বর্গ হয়ে যায়, তাই না?’ আবার কেউ লিখলেন, বারান্দায় জোড়া ফুল, ফ্ল্যাগ, দিদির ছবি কই? এই মন্তব্যের পাল্টা ইমন লেখেন, ‘একদম, ওটা বেডরুমে আছে’।
ইমন এর আগেও তাঁর বিরুদ্ধে ট্রোলড ও কটাক্ষের মোক্ষম জবাব আগেও দিয়েছিলেন। ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে থেকেই গায়িকা তৃণমূল ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়েন। একাধিক সরকারি অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি কারোরই চোখ এড়ায়নি। তবে কটাক্ষ চরমে ওঠে, যখন ইমনকে বঙ্গবিভূষণ দেওয়া হয়। গায়িকার কমেন্ট বক্স ভরে ওঠে চটিচাটা, তৃণমূলের দালাল সহ একাধিক কুরুচিকর মন্তব্যে। এমনকী গায়িকার মাকে নিয়েও খারাপভাবে ট্রোলিং করা হয়। আর তখনই ইমন সিদ্ধান্ত নেন যে তিনি শুধুমাত্র পেশাদার বিষয়গুলো ছাড়া আর ব্যক্তিগত বিষয়ে পোস্ট করবেন না। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে বিদায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও পরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরামর্শে আবারও ফেরেন ইমন।

ছাত্রীজীবনের এসএফআই করেছেন ইমন চক্রবর্তী, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের নেত্রী ছিলেন গায়িকা। সিপিআইএমের ছাত্র সংগঠনের কলকাতা জেলা কমিটিরও সদস্য ছিলেন জাতীয় পুরস্কার জয়ী শিল্পী। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে অনেক কিছুই। বদল এসেছে ইমনের ভাবনাতেও। ছাব্বিশের নির্বাচনেও তাঁকে ভোটে দাঁড় করানো নিয়ে জল্পনা ছিল তুঙ্গে। কিন্তু পরবর্তীকালে দেখা যায় যে তাঁকে প্রার্থী করা হয়নি।