টলিপাড়ার ৪ মহিলা পরিচালকআজ আন্তর্জাতিক মহিলা দিবস। বর্তমানে সমাজের সব স্তরেই নারীরা পুরুষদের সমতুল্য কাজই করে থাকেন। এখন সময় এবং চিন্তাভাবনা দুইয়েরই পরিবর্তন ঘটেছে। এখন নারীদের সাফল্যকেও সমানভাবে উদযাপন করা হয়। ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে একাধিক মহিলা পরিচালকেরা রয়েছেন, যাঁরা সফলভাবে কাজ করছেন। যদিও মুম্বই ইন্ডাস্ট্রির তুলনায় বাংলা ইন্ডাস্ট্রিতে পরিচালকের অনুপাত হিসাবে খুবই কম। তবে সেই সংখ্যা বিগত কয়েক বছরে কিছুটা হলেও বেড়েছে। অপর্ণা সেনের পরে বহু বছর দর্শক কোনও ভাল মহিলা পরিচালক পাননি। তার পরে এলেন সুদেষ্ণা রায়, নন্দিতা রায়। যদিও তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন এক জন করে পুরুষ পরিচালক। লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রেও তাই। আন্তর্জাতিক মহিলা দিবসে আসুন চিনে নিন সেই সব মহিলা পরিচালকদের।
পৃথা চক্রবর্তী
পরিবারের সঙ্গে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির কোনও যোগাযোগ তো ছিলই না, রানাঘাটের একটি মেয়ে কলকাতা শহরে এসে গোটা একটা বাংলা ছবি বানিয়ে ফেলবেন, এটাও অলীক ছিল! পৃথা চক্রবর্তীর প্রথম ছবি ‘মুখার্জিদার বউ’। মীরের সঙ্গে একটি শর্ট ফিল্ম করেছিলেন। সেটিই তাঁকে অনেকটা এগিয়ে দেয়। ডাক আসে নন্দিতা রায়-শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের কাছ থেকে। পৃথা ভালবাসেন সম্পর্কের গল্প বলতে। তাঁর ছবির গল্পে রয়েছে নিজের মায়ের জীবন থেকে পাওয়া অনুপ্রেরণা। এরপর প্রিয়াঙ্কা সরকার ও ঋত্ত্বিক চক্রবর্তীকে নিয়ে পৃথা ফেরা তৈরি করেন, সেই গল্পের বুননও ছিল একেবারে অন্যরকম।
বিদুলা ভট্টাচার্য
বিদুলার প্রথম ছবি প্রেম আমার টু। ছোট থেকেই কী করতে চান, তা নিয়ে নিশ্চিত ছিলেন বিদুলা ভট্টাচার্য। পরিবার থেকেও সমর্থন পেয়েছিলেন। জার্নালিজম-মাস কমিউনিকেশন পড়ার পরে চ্যানেলে কাজ করতে শুরু করি। প্রোগ্রাম ডিরেক্ট করতেন তিনি। রাজ চক্রবর্তীকে অ্যাসিস্ট করতে শুরু করেন। বিদুলা ডকুমেন্টারি-শর্ট ফিল্মও পরিচালনা করেছেন আগে। তার পরে একটি চ্যানেলের জন্য ‘লাভ লেটার’ ছবিটি করেন। রোম্যান্টিক এবং ক্রাইম, এই দুটো ঘরানাই তাঁর বেশি পছন্দের।
দেবারতি গুপ্ত
পুরুষ পরিচালকদের ভিড়ে একটু হটকে ছবি তৈরি করেন দেবারতী গুপ্ত। তাঁর পরিচালিত হইচই, ফিল্টার কফি লিকার চা, অনেক দিনের পরে, কুহেলি একেবারে অন্য ঘরানার ছবি। বিভিন্ন ঘরানার ছবি নিয়েই কাজ করেছেন দেবারতি। কেরিয়ারের শুরুর দিকে বাপ্পাদিত্য বন্দ্যোপাধ্যায়কে অ্যাসিস্ট করতেন।
অদিতি রায়
কেরিয়ারের শুরুতে ডিরেক্টরের চেয়ার পাননি তিনি। অগত্যা মেঝেয় বসেই কাজ করতে হয়েছিল তাঁকে। এখন ওয়েব সিরিজের দুনিয়ায় তাঁরই দাপট। অদিতি রায় কথা বলেন মেয়েদের নিয়ে। তাঁর তৈরি অনুসন্ধান, শাখা প্রশাখা, লজ্জা, পরিণীতা, বোধন, নষ্টনীড়...সব ওয়েব সিরিজেই তিনি মহিলাদের লড়াইকে তুলে ধরেছেন। তাঁর কাজ বরাবরই প্রশংসিত।