
শুভেন্দুর সঙ্গে সোহেলএকুশ সালে গেরুয়া শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন ছোটপর্দার অভিনেতা সোহেল দত্ত। শোনা যায়, সেই সময় শুভেন্দুর সঙ্গে ভাল সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল তাঁর। কিন্তু ২ বছর পর তাঁকে তৃণমূলে দেখে অনেকেই অবাক হয়েছিলেন। তৃণমূল সরকারের আমলে সোহেলকে একাধিক অনুষ্ঠানে দেখা গিয়েছিল। সেই সময় সোহেল বলেছিলেন 'দিদিতেই শান্তি'। ২১ জুলাইয়ের মঞ্চেও তাঁর উপস্থিতি নজর কেড়েছিল। ছাব্বিশের নির্বাচনেও তাঁকে বহু জায়গায় তৃণমূল প্রার্থীদের হয়ে প্রচারে দেখা গিয়েছিল। হেঁটেছিলেন মমতার ভবানীপুরের রোড শোতেও। কিন্তু বঙ্গে বিজেপি ঝড় তুলতেই সোহেলের সুরও গেল বদলে। শুক্রবার বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নাম ঘোষণা হতেই পাল্টি খেলেন ছোটপর্দার এই অভিনেতা।
ফেসবুকে শুভেন্দুকে শুভেচ্ছা জানিয়ে অভিনেতা লিখেছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে অভিনন্দন! এবং আশা করছি, তিনি বাংলা ও বাংলার সিনেশিল্পের উন্নতিসাধনের জন্য সবকিছু করবেন।’ এই পোস্টের সঙ্গে সোহেল তাঁর ও শুভেন্দুর একটি পুরনো ছবি শেয়ার করেছিলেন। যেখানে অভিনেতার পোশাকের সঙ্গে বিজেপির পদ্মফুলও রয়েছে। সেই ছবি দুরন্ত গতিতে ভাইরাল হওয়ার পর ট্রোল-কটাক্ষের মুখে পড়তে হয় অভিনেতাকে। বাধ্য হয়ে সেই ছবি সরিয়ে দেন অভিনেতা। তবে শুভেন্দুকে শুভেচ্ছা জানানোর পোস্টটি রয়ে গেছে তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পেজে।

পঁচিশ সালে তৃণমূলের ২১ জুলাইয়ের সমাবেশে হাজির ছিলেন সোহেল দত্ত। শিশুশিল্পী হিসেবে সোহেলের পরিচিতি ছিল দর্শকমহলে। ২০২১ সালে যখন ঝাঁকে ঝাঁকে টলিউডের তারকা বিজেপিতে যোগ দিচ্ছিলেন এবং ভোটে লড়ছিলেন, সেসময়ে সোহেলও যোগ দেন বিজেপিতে। তবে মাত্র বছর দুয়েকের মধ্যেই মোহভঙ্গ হয়! সোহেল দাবি করেছিলেন, বিজেপির নীতিগত আর্দশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে তাঁর অসুবিধা হচ্ছিল। মন থেকে কখনও তাদের নীতি সমর্থন করে উঠতে পারেননি। শুধু তাই নয়, শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধেও বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। বলেছিলেন, 'উনি আমার বাড়িতে এসে মা-বাবাকে বলে যান, আপনার ছেলের দায়িত্ব আমার। যদিও বাবা-মা বারণ করেছিল। কিন্তু আমি একটা ভুল করে বসি শুভেন্দু অধিকারীকে বিশ্বাস করে। আমি আসলে বিজেপিতে গিয়েছিলাম রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সুসম্পর্কের কারণে। গিয়ে বুঝলাম, বড় ভুল করেছি। ওই দলের নীতিগত আর্দশ কোনও দিনও মন থেকে মেনে নিতে পারিনি। এছাড়াও ওঁরা শিল্পীদের সম্মান করতে পারেন না।' সেসময়ে সোহেল এও বলেন যা, তৃণমূলে ফিরতে পেরে স্বস্তি পেয়েছেন তিনি।
সোহেলের প্রেমিকা তথা অভিনেত্রী তিয়াসা লেপচাও তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। গত বছর মুখ্যমন্ত্রীর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির কালীপুজোতেও দেখা গিয়েছিল তিয়াসাকেও। সেই সময় এটাও শোনা যাচ্ছিল যে ছাব্বিশের বিধানসভায় লড়তে পারেন তিয়াসা। কিন্তু এখন পরিস্থিতি আলাদা। অনেক তারকাই এখন তাঁদের সুর বদলাচ্ছেন। তার নমুনাও মিলছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।