
সাম্প্রতিককালে বিতর্কে জড়িয়েছেন এই ইউটিউবাররাসোশ্যাল মিডিয়া এখন এমন একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মানুষের ব্যক্তিগত জীবন আর গোপনে থাকে না। বিশেষ করে যাঁরা ডেইলি ভ্লগ করে থাকেন, তাঁদের জন্য নিজেদের ব্যক্তিগত জীবনকে তুলে ধরাটাই প্রধান কাজ। আর সেটা করার চক্করেই অনেক সময় এমন কিছু ভিডিও তাঁরা বানিয়ে থাকেন, যেটা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট হওয়ার পর তাঁদের ট্রোলের মুখে পড়তে হয়। সম্প্রতি এরকম একাধিক সোশ্যাল ইনফ্লুয়েন্সারদের দেখা গিয়েছে যে নিজেদের কনটেন্ট বানানোর কারণে তাঁরা রীতিমতো সমালোচিত কিংবা ট্রোলড। সেই তালিকায় নাম রয়েছে বেশ কিছু জনপ্রিয় ইউটিউবারদের নাম।
'প্রবাসে ঘরকন্না' মহুয়া গঙ্গোপাধ্যায়
সোশ্যাল মিডিয়ায় 'প্রবাসে ঘরকন্না' চ্যানেলটি দারুণ জনপ্রিয়। প্রবাসী বাঙালিদের কাছে মহুয়া গঙ্গোপাধ্যায়ের সরল ও সাধারণভাবে কথা বলার ভঙ্গিতে নিজের দৈনন্দিন জীবনের রোজনামচা বেশ প্রশংসা পেয়েছে। বিশেষ করে তাঁর গলায় 'নমস্কার, কেমন আছেন সবাই...', এই অভ্যর্থনা খুবই জনপ্রিয়। সেই মহুয়া গঙ্গোপাধ্যায় শাশুড়ির মৃত্যুর ভ্লগ বানিয়ে রীতিমতো ট্রোলড। পরিবারের এমন দুঃখের সময়েও তিনি কেন এরকম ভিডিও বানালেন, নেট দুনিয়ায় প্রশ্নের মুখে এই ইনফ্লুয়েন্সার। প্রবাসে ঘরকন্না নামের এই চ্যানেলটির সাবস্ক্রাইবার ও ফলোয়ার্স সংখ্যা নেহাত কম নয়। মহুয়া মূলতঃ তাঁর দৈনন্দিন জীবনের সাতকাহন তুলে ধরেন নিজের পেজে। কিন্তু হঠাৎ করেই প্রবাসে ঘরকন্নার চ্যানেলে এরকম ভিডিও দেখে সকলেই বেশ হতচকিত। কয়েকদিন আগেই মহুয়ার শাশুড়ি প্রয়াত হন। সেই খবর পেয়ে পরিবারকে নিয়ে দ্রুত দেশে ফিরে আসেন। বিশেষ করে তিনি তাঁর এই ভ্লগিং ভিডিওতে চুল্লির সঙ্গে কেক বেক করার উদাহরণ টেনে আনায় আরও বেশি করে ট্রোলড হন। সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন একজনই চর্চার কেন্দ্রে, তিনি হলেন প্রবাসে ঘরকন্নার মহুয়া।

সায়ক চক্রবর্তী
চলতি বছরের গোড়ার দিকেই আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন আর এক জনপ্রিয় ইউটিউবার সায়ক চক্রবর্তী। পার্কস্ট্রীটের এক রেস্তোরাঁয় বন্ধুদের সঙ্গে ডিনার করতে গিয়ে অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটে তাঁর সঙ্গে। মাটনের পরিবর্তে তাঁকে পরিবেশন করা হয় গোমাংস। এই নিয়ে সায়ক সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভ ভিডিও করে গোটা ঘটনাটি তুলে ধরেন। শুধু তাই নয়, ধর্মকে টেনে আনেন তাঁর ভ্লগে। এই ঘটনায় মুসলিম রেস্তোরাঁ কর্মী গ্রেফতার হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। নেটপাড়ায় সায়ককে পাঠ পড়াতে নীতি পুলিসরা বসে যায়। এফআইআর হয় তাঁর বিরুদ্ধেও। এইসব কাণ্ডের জেরে সায়ক বেশ কিছুদিন ভ্লগ বানানো থেকে বিরত থাকেন। তবে এখন পরিস্থিতি কিছুটা ঠান্ডা হওয়ার পর আবার স্বাভাবিক স্রোতে ফিরছেন সায়ক।

দেবলীনা নন্দী
ফেসবুকে লাইভ ভিডিও করে নিজের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে বিস্ফোরক তথ্য জানিয়ে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেন গায়িকা দেবলীনা নন্দী। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই গায়িকা বেশ জনপ্রিয়। নিজের দাম্পত্য জীবনের খুঁটিনাটি নেট দুনিয়ায় তুলে ধরতেন তিনি। কিন্তু হঠাৎ করে লাইভে এসে শ্বশুরবাড়ি ও স্বামীকে নিয়ে বিস্ফোরক কথা বলেন দেবলীনা। লাইভ শেষে ৭৮টি ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেন। দেবলীনা ঘুমের ওষুধ খেয়ে তা সবার প্রথম সায়ক চক্রবর্তীকে জানিয়েছিলেন। আর এই ঘটনার পরই দেবলীনা সমবেদনা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ট্রোলের মুখেও পড়েন। বেশ কিছুদিন ধরেই চর্চার কেন্দ্রে ছিলেন এই গায়িকা। তাঁর বিবাহিত জীবনের সমস্ত বিষয় সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্যে চলে আসে। সেই নিয়েও তাঁকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। তবে এখন তিনি একেবারে সুস্থ, নিজের কেরিয়ারে মনোযোগ দিয়েছেন।

শমীক অধিকারী
ছাব্বিশের ভোটের আগে অন্য ধরনের কনটেন্ট করে এমনিই শমীক অধিকারীকে নিয়ে চর্চা ছিল তুঙ্গে। এবার তাঁর বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগও ওঠে, যে কারণে শমীককে গ্রেফতারও করা হয়। শমীক নেট পাড়ায় 'ননসেন' নামে পরিচিত। জনপ্রিয় ইনফ্লুয়েন্সারের বান্ধবী তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আনেন। একাধিক ধারায় মামলা হয়েছে শমীকের বিরুদ্ধে। এই ইউটিউবার এখন জেল হেফাজতে রয়েছে। এখনও জামিন পায়নি তিনি। প্রসঙ্গত, মজার ভিডিও বানানোর জন্যই পরিচিত শমীক। সম্প্রতি 'বাটন' নামের একটি স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবিতে অভিনয়ও করেন। ওই ছবিতে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূলকে তিনি আক্রমণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

সোহিনী গঙ্গোপাধ্যায়
সোশ্যালমিডিয়ায় পরিচিত মুখ সোহিনী গঙ্গোপাধ্যায়। ইনিও ডেইলি ভ্লগ করে থাকেন। গত বছর রথের ঠিক আগে নিজের বেবিবাম্পে জগন্নাথ দেবের ছবি এঁকে তীব্র কটাক্ষের মুখে পড়েছিলেন তিনি। তাঁকে বিশ্রি ভাষায় আক্রমণ করা হয়। তাঁর ওই পোস্টের স্ক্রিনশট নিয়ে নেটপাড়ায় চলে তুমুল চর্চা। তবে এই ঘটনার পরই সবচেয়ে দুঃখের বিষয় তাঁর গর্ভপাত হয়ে যায়। এই ঘটনার পরই যাঁরা সোহিনীকে সেভাবে চিনতেন না, তাঁরাও চিনে যান। নিজেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে তাঁর অনেকটাই সময় লেগেছিল। তবে এখন সোহিনী আবার আগের মতো ভ্লগিং শুরু করেছেন।
