টাইগার শ্রফের উপর প্রাণঘাতী হামলা বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনায় বড়সড় সাফল্য পুলিশের। রাজস্থানের কোটা থেকে দু'জন গ্রেফতার। আটক করা হয়েছে এক নাবালককেও। ধৃতদের মধ্যে ১৭ বছরের এক কিশোর এবং রেহান নামে এক যুবক হরিয়ানার বাসিন্দা। অন্যদিকে, হৃতিক কুমার নামে তৃতীয় অভিযুক্তের বাড়ি বিহারে। মুম্বই পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজস্থানের অ্যান্টি-গ্যাংস্টার টাস্ক ফোর্স (AGTF) এবং কোটা সিটি পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে তাঁদের পাকড়াও করে। রেলওয়ে কলোনি এলাকা থেকে তাঁদের আটক করা হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, পুনে-জয়পুর সুপারফাস্ট এক্সপ্রেসে চেপে সকাল ১০টা ১৫ মিনিট নাগাদ কোটা পৌঁছেছিল অভিযুক্তরা।
এই ঘটনায় আরও দু'জনকে আটক করা হয়েছে বলে খবর। তাদের মধ্যে একজনকে মহারাষ্ট্র-গুজরাত সীমান্ত এলাকা থেকে আটক করা হয়। ফলে টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনায় তদন্ত আরও জোরদার করেছে পুলিশ।
খুনের চেষ্টার মামলা, তদন্তভার ক্রাইম ব্রাঞ্চের হাতে
টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনায় তিন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার মামলা দায়ের করেছে মুম্বই পুলিশ। প্রথমে জুহু থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। পরে মামলাটি মুম্বই পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৯(১) ধারা, অর্থাৎ খুনের চেষ্টা এবং ৩(৫) ধারা, অর্থাৎ একাধিক ব্যক্তির অভিন্ন উদ্দেশ্যে অপরাধ করার ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। পাশাপাশি অস্ত্র আইনের একাধিক ধারাও যুক্ত করা হয়েছে।
রবিবার সন্ধ্যায় মুম্বইয়ের জুহু এলাকায় একটি ফুটবল ম্যাচ খেলে ফিরছিলেন টাইগার শ্রফ। সেই সময় তাঁর বিএমডব্লিউ গাড়ি লক্ষ্য করে একাধিক গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। গাড়ির ভিতরে থাকা অভিনেতা অক্ষত থাকলেও আহত হন তাঁর গাড়িচালক ফিরদৌস এবং চৌহান নামে এক অটোচালক। গাড়ির এক পাশে বসেছিলেন টাইগার। গুলি চলার পর তিনি চালকের আসনের দিকে সরে যান বলে জানা গিয়েছে।
গুলি চালানোর দায় স্বীকার লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের
এই হামলার দায় স্বীকার করেছে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং। পাশাপাশি বলিউড অভিনেতা সলমন খানের সঙ্গে কাজ করেন, এমন ব্যক্তিদেরও নতুন করে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে খবর। সলমন খানের সঙ্গে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের শত্রুতার পিছনে রয়েছে রাজস্থানে কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের অভিযোগ। নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে দুটি কৃষ্ণসার হরিণ শিকার করে হত্যার অভিযোগ উঠেছিল অভিনেতার বিরুদ্ধে। বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের কাছে কৃষ্ণসার হরিণ অত্যন্ত পবিত্র বলে বিবেচিত।
এই মামলায় প্রথমে বন্যপ্রাণী সুরক্ষা আইনে সলমন খানকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল একটি আদালত। পরে রাজস্থান হাইকোর্ট তাঁকে বেকসুর খালাস করে।
হামলার আগে প্রকাশ্যে এসেছিল অভিযুক্তদের ছবি
অভিযুক্তদের গ্রেফতারের কয়েক ঘণ্টা আগেই হামলায় জড়িত সন্দেহে দু'জনের একটি ছবি সামনে আসে। ছবিটি ঘটনাস্থলের কাছাকাছি তোলা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। সেখানে দু'জনকে সাদা শার্ট পরা অবস্থায় দেখা যায়। তাদের মধ্যে একজনের মাথায় ছিল পুমা লোগো দেওয়া কালো টুপি। যদিও ছবিটি প্রকাশ্যে আসার সময় তাদের পরিচয় জানা যায়নি।
এদিকে, হামলায় ব্যবহৃত একটি মোটরবাইকও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। হামলার পর আন্ধেরি রেল স্টেশনের কাছে মোটরবাইকটি ফেলে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, বাইকটি মুম্বইয়ে নথিভুক্ত। গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর, নম্বর প্লেট, চ্যাসিস ও ইঞ্জিন নম্বর খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। বাইকটির অতীত সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।
সিসিটিভিতে ধরা পড়েছে গুলি চালানোর ছবি
পুরো ঘটনাটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, এক ব্যক্তি একাধিকবার গুলি চালাচ্ছে। দ্বিতীয় ব্যক্তিকেও গুলি চালানোর চেষ্টা করতে দেখা গিয়েছে। তবে তার অস্ত্র থেকে আদৌ গুলি বেরিয়েছিল কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তৃতীয় অভিযুক্তকে মোটরবাইকের কাছে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। হামলার পর সঙ্গীদের নিয়ে পালানোর জন্য তিনি প্রস্তুত ছিলেন বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। হামলাকারীদের 'কাপুরুষ' বলে উল্লেখ করে তিনি জানিয়েছেন, আড়াল থেকে হামলার চেষ্টা করলেও তাদের পরিকল্পনা ব্যর্থ করা হবে।
অন্যদিকে, হামলার পরপরই টাইগার শ্রফের বাড়িতে যান মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে। তাঁর দাবি, অভিনেতার ডান হাতে বারুদের কারণে পোড়ার চিহ্ন রয়েছে। ঘটনাটিকে গুরুতর বলে উল্লেখ করে শিন্ডে জানান, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মুম্বইয়ে কোনও গ্যাং বা ব্যক্তিকে ফের গ্যাংওয়ার শুরু করতে দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।