
কুণাল ঘোষসালটা ২০২৪। ৯ অগাস্টের পর থেকেই আরজি কর কাণ্ড নিয়ে ধুন্ধুমার কলকাতা সহ গোটা রাজ্য। রাত দখল থেকে শুরু করে আন্দোলন-অবরোধ চলছে সবকিছুই। সেই সময় রাজ্যের মসনদে তৃণমূল সরকার। আরজি কর কাণ্ডের আন্দোলনে প্রথম থেকেই সরব হয়েছিলেন অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। রাত দখল হোক কিংবা নন্দন চত্ত্বরে রাত জেগে স্লোগান তোলা, ঘটনার প্রতিবাদে সোচ্চার হয়েছিলেন অভিনেত্রী। আর এর জেরে তাঁকে ট্রোলড, কটুক্তি ও সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল। সেই সময় স্বস্তিকার 'টেক্কা' ছবিটি মুক্তির মুখে। আর সেটা নিয়েই তৃণমূলের কুণাল ঘোষের কটাক্ষের পাত্র হতে হয়েছিল স্বস্তিকাকে। কিন্তু বছর দুয়েকের মধ্যেই ৯০ ডিগ্রি ঘুরে গেলেন TMC বিধায়ক কুণাল ঘোষ। স্বস্তিকাকে পাশে নিয়ে সবাইকে অনুরোধ করলেন 'দিদি নম্বর ১' দেখার।
'দাদাগিরি সিজন ১১'-এর নতুন পর্বে দেবের সঙ্গে খেলতে আসবেন রাজনৈতিক নেতারা। হাজির হচ্ছেন তৃণমূল নেতা তথা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব কুণাল ঘোষ। তবে এর চেয়েও বড় চমক দেখা গেল দাদাগিরির মঞ্চে দিদি স্বস্তিকাকে সঙ্গে নিয়ে একফ্রেমে বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। এক সময় যিনি স্বস্তিকার নিন্দায় সরব হয়েছিলেন আজকে সেই কুণাল ঘোষের মুখেই অভিনেত্রীর ভূয়সী প্রশংসা। বরাবরই ঠোঁটকাটা বলেই পরিচিত স্বস্তিকা। কোনও রাজনৈতিক ট্যাগ তার ওপর আসুক, একেবারেই তা অপছন্দ। আরজি কর কাণ্ডে অভিনেত্রীর প্রতিবাদ ছিল অরাজনৈতিক। কিন্তু তা সত্ত্বেও তাঁকে ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছিল।

কুণাল ঘোষ স্বস্তিকাকে পাশে নিয়ে হাসিমুখে ছবি তুললেন আর ফেসবুকে সেই ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে লিখলেন, 'দিদি নম্বর ওয়ান-এর সঙ্গে। তবে ওই অনুষ্ঠানে নয়। স্বস্তিকা দারুণ অভিনেত্রী। মেধাযুক্ত বুদ্ধিদীপ্ত অভিনয়ে অন্যতম সের। অন্য ইস্যুতে মতের মিল বা অমিল এখানে বিবেচ্য নয়। আমারও সকলকে অনুরোধ থাকল, স্বস্তিকার 'দিদি নাম্বার ওয়ান' দেখুন।' স্বস্তিকার দিদি নম্বর ১ দেখার জন্য তৃণমূলের বিধায়ক সকলকে অনুরোধ করলেন। প্রসঙ্গত, রাজ্যে পালা বদল হতেই দিদি নম্বর ১ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এই শোয়ের দীর্ঘদিনের সঞ্চালিকা তথা হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। যা নিয়ে জলঘোলা কম হয়নি। তবে নতুন দিদি হিসাবে স্বস্তিকার পারফর্মও সকলের পছন্দ হচ্ছে।
আরজি কর কাণ্ডের সময় কুণাল ঘোষ নিজের এক্স হ্যান্ডলে স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের ছবি দেওয়া 'টেক্কা' র একটি ছবি পোস্ট করেন। পাশে লেখা আমার মেয়েকে ফেরাবে কে?' এই ছবি পোস্ট করে কুণাল সেই সময় লিখেছিলেন, 'যদিও ছবিটির বিষয়বস্তু অপহরণের, তবু, এই RG Kar আবহে ট্র্যাজেডিকে কাজে লাগিয়ে সিনেমার প্রমোশনের কৌশল, একটু চোখে লাগছে। 'উৎসবে ফিরব না' অথচ 'সিনেমার পোস্টারে ফিরব', এটাও দ্বিচারিতা। সৃজিতের ছবি আমার প্রিয়। কিন্তু, যতই ছবির থিম হোক, সবাই বুঝবেন, কোন আবেগকে প্রচারে ব্যবহার করা হল। সেই সময় কুণালকে পাল্টা দিতে ছাড়েননি স্বস্তিকাও। অভিনেত্রী লেখেন, উনি হয়তো জানেন না সিনেমার দুনিয়াটায় কীভাবে কাজ হয়। যাইহোক, বর্তমানে সব মান-অভিমান ভুলে একফ্রেমে স্বস্তিকা-কুণাল।