রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে রাজ্যে প্রত্যাবর্তনের পর থেকেই তৃণমূল ভেঙেচুরে চৌচির। যে সব তারকা বিধায়ক-সাংসদদের একসময় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশপাশে দেখা যেত, বিজেপি সরকার আসার পর থেকেই ভোল বদল শুরু। ‘আসল তৃণমূল’ কারা, তা নিয়ে চলছে টানাপোড়েন। তৃণমূল ছেড়ে সায়নী-জুনদের মতো হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ও দল বদলে ফেলেছেন। তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্কের ঝড়। এই পরিস্থিতিতে দলবদল নিয়ে অকপট স্বীকারোক্তি রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
চুঁচুড়ার বিজেপি বিধায়ক সুবীর নাগের ‘ভারতমাতার পুজো’য় অংশ নেন হুগলির সাংসদ। আর সেখানেই রচনা নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন, তৃণমূল জিতলে দলেই থাকতাম। আর এরপর পুরনো দলের বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক দাবি করেন হুগলির সাংসদ। সেখানে দলবদলের কারণ স্পষ্ট করে তারকা সাংসদ বলেন, অনেক কাজ করেছি। আরও তিন বছর সাংসদে আছি। আরও কিছু কাজ করতে হবে। আমি বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম বুঝি না। মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গে মিলে সেই কাজ করব। রচনা এও জানিয়েছেন যে তৃণমূলে থাকাকালীন কাজ করতে গিয়ে বারংবার টাকার সমস্যার মুখে তাঁকে পড়তে হয়েছিল। কখনও কেন্দ্র টাকা দিচ্ছে না, রাজ্যের টাকা নেই-এমন কথাই শুনেছেন রচনা। এবার সেই ‘অভিযোগের রাজনীতি’ ছেড়ে সরাসরি কাজের রাজনীতিতে থাকতে চান তিনি। আর সেই কারণেই বিজেপির সঙ্গে হাত মেলানো।
রচনার কথায়, “আমি অনেকের কাছে গিয়েছি। বলাগড়ের নদী ভাঙন থেকে রেল সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছি।” তাঁর আরও দাবি, কেন্দ্র-রাজ্য দড়ি টানাটানির সমস্যা থেকে রেহাই পেতে ডবল ইঞ্জিন সরকারের দরকার রয়েছে। না হলে উন্নয়ন কার্যত অসম্ভব। রচনা এও বলেন, বিজেপি সরকার না এলে তিনি তৃণমূলেই থাকতেন। তৃণমূল জিতলে দলেই থাকতেন। কিন্তু দল হেরে যাওয়ার পর তিন বছর বসে থাকার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। তাই কাজ করার তাগিদেই ছেড়েছেন পুরনো দল। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঢালাও প্রশংসাও করেন রচনা। তাঁর দাবি, এই অল্প সময়েরমধ্যে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে যথেষ্ট ভালো কাজ করেছেন শুভেন্দু। রচনার এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পরই তাঁকে নিয়ে ফের চর্চা শুরু হয়েছে।
তবে দলবদলের মাঝেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধার কথা ভুলতে চাননি রচনা। তাঁর কথায়, মমতাই তাঁকে হাত ধরে রাজনীতিতে নিয়ে এসেছিলেন। কেন লকেট চ্যাটার্জিরর বিরুদ্ধে তাঁকে প্রার্থী করা হয়েছিল, সেই প্রশ্নের উত্তরও নিজের মতো করে ব্যাখ্যা করেন তিনি। অর্থাৎ পুরনো সম্পর্কের জায়গায় শ্রদ্ধা থাকলেও রাজনৈতিক পথ এখন সম্পূর্ণ আলাদা। মমতা ব্যানার্জী আমাকে হাত ধরে নিয়ে এসেছিলেন। আমি সাধারণ মেয়ে নই। মমতাদি বুঝেছিলেন। এদিন ‘আরবানা’ বিতর্ক নিয়েও মুখ খোলেন রচনা। খানিকটা আফসোসের সুরে তিনি বলেন, আমাকে এক সাংসদ আক্রমণ করেছিলেন। তাই জবাব দিয়েছি। একটা ছোট ফ্ল্যাটে থাকতাম। স্বপ্ন দেখতাম আরবানায় থাকার। মা-বাবাকে রাখার। সেই স্বপ্নপূরণ হয়েছে। আগে কোনওদিন কাউকে বলিনি। আমিও গড়িয়াহাট থেকে কাপড় কিনি। আমার মা গড়িয়ায় থাকেন। আমার মন্তব্য নিয়ে বন্ধুরা কিছু বলেনি। তবে কিছু লোক সমাজমাধ্যমে বলেছে। এখন মনে হয়, আরবানা মন্তব্য না করলেই ভালো হত। বলে রাখা ভালো, রাজনীতিতে ময়দানে পা রাখার পর থেকেই একাধিক বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন রচনা। তাঁর ধোঁয়া মন্তব্য নিয়েও বিতর্ক কম হয়নি। তৃণমূল ছাড়া নিয়ে অকপট স্বীকারোক্তি নিয়ে কাটাছেঁড়া চলছে বিস্তর।
রিপোর্টার- পার্থ রাহা