
রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়সালটা ২০০৮। রাজ চক্রবর্তীর চিরদিনই তুমি যে আমার সিনেমাটি সবেমাত্র মুক্তি পেয়েছে। সিনেমা হলে দর্শকদের মধ্যে ঝড় তুলছেন দুই নবাগত ও নবাগতা নায়ক-নায়িকা। একজন রাহুল মুখোপাধ্যায় ও অন্যজন প্রিয়াঙ্কা সরকার। রাজের ছবিতে তরুণের অসাধারণ অভিনয় দর্শকদের প্রশংসা কোড়াতে সময় নেয়নি। এরপর সেই তরুণকে পিছনে ফেলে তাকাতে হয়নি। একের পর এক সিনেমায় তাঁর অভিনয় ছাপ ফেলেছে বারংবার। ইনি হলেন অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার, ২৯ মার্চ দিঘার তালসারিতে শ্যুটিং করতে গিয়ে জলে ডুবে মৃত্যু হয় তাঁর। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৪২ বছর।

১৯৮৩ সালের ১৬ অক্টোবর জন্ম রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের। রাহুলের পড়াশোনা ও বেড়ে ওঠা এই কলকাতাতেই। তিনি নাকতলা হাইস্কুলে পড়াশোনা করে আশুতোষ কলেজ থেকে স্নাতক হন। তিনি প্রথম তার বাবার সঙ্গে রাজ দর্শন নামে একটি নাটকে বিজয়গড় থিয়েটার দলে অভিনয় করেন। কেরিয়ারের প্রথমে থিয়েটারেই কাজ করতেন রাহুল। ২০০৮ সালে রাজ চক্রবর্তীর চিরদিনই তুমি যে আমার সিনেমার মাধ্যমে টলিউডে ডেবিউ করেন রাহুল। যা বক্স অফিসে ব্যাপক হিট হয়। জি বাংলার জনপ্রিয় অনুষ্ঠান খেলা-তে আদিত্য চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের নজর কেড়ে নেন। এই সাফল্যের পর তিনি একটি চলচ্চিত্রের প্রস্তাব পান, যা তাকে আরও ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়। রাহুলের পডকাস্ট প্রোগ্রাম 'সহজ কথা'ও বেশ জনপ্রিয় হয়েছে।

একাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন তিনি। একটা দীর্ঘ সময়ে দেখা গেছিল ধারাবাহিকেও। এরপর একটা লম্বা সময়ের বিরতি কাটিয়ে ফের ফিরেছিলেন ধারাবাহিকে। বহুদিন পর ধারাবাহিকে ফিরেছিলেন , সম্প্রতি তাঁকে দেখা যাচ্ছিল 'ভোলে বাবা পার করেগা'য়। তাঁর চরিত্র দর্শকদের প্রশংসাও কুড়িয়েছিল। ২০০৮ সালের মুক্তিপ্রাপ্ত তাঁর সিনেমা 'চিরদিনই তুমি যে আমার'-এ রাহুলের বিপরীতে থাকা প্রিয়াঙ্কা সরকারের সঙ্গে প্রেম ও পরে ২০১০ সালে তাঁদের বিয়ে হয়। রাহুল ও প্রিয়াঙ্কার একমাত্র ছেলে সহজ। তবে ২০১৭ সালে তাঁদের দাম্পত্য়ে চিড় ধরলেও তার কয়েক বছর পর তা ঠিকও হয়ে যায়। একসঙ্গেই থাকছিলেন প্রিয়াঙ্কা-রাহুল ও সহজ। সম্প্রতি তাঁকে দেখা যাচ্ছিল ভোলে বাবা পার করেগা সিরিয়ালে। এছাড়াও হরগৌরী পাইস হোটেল সিরিয়ালেও তিনি কাজ করেছেন।

জানা যাচ্ছে ধারাবাহিকের শ্যুটিংয়ের জন্যই তালসারিতে গিয়েছিল গোটা টিম। ফেডারেশনের পক্ষ থেকে দিগন্ত বাগচী খবরটি নিশ্চিত করে বলেন, শ্যুটিংয়ের পর রাহুল ও সিরিয়ালের নায়িকা সমুদ্রে নামেন। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ টেকনিশিয়নরা চিৎকার করতে করতে বলেন, রাহুলদা ডুবে যাচ্ছে। এরপর টেকনিশিয়ানরা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তখনও বেঁচে ছিলেন অভিনেতা। তাঁকে দিঘা হাসপাতালে নিয়ে যেতে যেতেই মারা যান রাহুল। পুলিশ তদন্ত ও ময়নাতদন্তের পরই দেহ ছাড়া হবে। দিগন্ত বাগচী এও জানান যে শ্যুটিংয়ের পর মদ্যপান করেননি রাহুল। তবে সাঁতার না জানলে কিংবা কিছুটা যাওয়ার পর চোরা বালিতে আটকে গেলে, জল খেয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এখনও সঠিক কারণটা জানা নেই। এই বিষয়ে এক সংবাদমাধ্যমকে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অতীশ বিশ্বাস বলেন, ডুবেই মৃত্যু হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। সব খতিয়ে দেখা হচ্ছে।