Uttam Kumar Supriya Devi Row: সুপ্রিয়াকে উত্তমের মরদেহ ছুঁতেই দেওয়া হয়নি? সুপ্রিয়া-কন্যা যা বললেন...

সম্প্রতি এক পডকাস্টে এসে নবনীতা জানিয়েছেন যে উত্তমের স্ত্রী গৌরীদেবীর নিষেধের কারণেই নাকি সুপ্রিয়া দেবী, মহানায়কের মরদেহ দেখতে যেতে পারেননি! আর এই ভিডিও ভাইরাল হতেই তা নজরে আসে সুপ্রিয়া দেবী কন্যা সোমার। তিনি ফেসবুকে এক ভিডিও করে গোটা ঘটনাটি নস্যাৎ করেন।

Advertisement
সুপ্রিয়াকে উত্তমের মরদেহ ছুঁতেই দেওয়া হয়নি? সুপ্রিয়া-কন্যা যা বললেন...উত্তম কুমারের মৃত্যু পরবর্তী ঘটনা নিয়ে মুখ খুললেন সুপ্রিয়া-কন্যা
হাইলাইটস
  • মহানায়ক উত্তম কুমারের প্রয়াণের ৪৬ বছর পরও তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে চর্চা কিন্তু কম হয় না।

মহানায়ক উত্তম কুমারের প্রয়াণের ৪৬ বছর পরও তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে চর্চা কিন্তু কম হয় না। মহানায়কের জীবন নিয়ে আজও বাঙালি দর্শকদের মনে কৌতুহল কিন্তু একই রয়েছে। বিশেষ করে উত্তম কুমার-সুপ্রিয়া দেবীর সম্পর্ক এবং মহানায়কের স্ত্রী গৌরীদেবীর মানসিক অবস্থা সেই সময় কেমন ছিল, তা আজও অনেকেই জানতে চান। সম্প্রতি সেই পুরনো দ্বন্দ্বই আবার নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। এক পডকাস্টে এসে মহানায়কের নাতনি নবমিতা চট্টোপাধ্যায় দাবি করেছেন যে উত্তম কুমারের প্রয়াণের পর গিরীশ মুখার্জি রোডের পৈতৃক বাড়িতে সুপ্রিয়া দেবীকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বা শেষ দেখা দেখতে দেওয়া হয়নি। এবার সেই দাবিকেই নস্যাৎ করলেন সুপ্রিয়া-কন্যা সোমা চট্টোপাধ্যায়। ফেসবুকে এক ভিডিওর মাধ্যমে তিনি আসল তথ্য সকলের সামনে তুলে ধরেন।  

সম্প্রতি এক পডকাস্টে এসে নবনীতা জানিয়েছেন যে উত্তমের স্ত্রী গৌরীদেবীর নিষেধের কারণেই নাকি সুপ্রিয়া দেবী, মহানায়কের মরদেহ দেখতে যেতে পারেননি! আর এই ভিডিও ভাইরাল হতেই তা নজরে আসে সুপ্রিয়া দেবী কন্যা সোমার। তিনি ফেসবুকে এক ভিডিও করে গোটা ঘটনাটি নস্যাৎ করেন। তিনি বলেন, ফেসবুকে একটি পোস্ট দেখলাম, যেখানে উত্তম কুমারের এক আত্মীয় বলেছেন যে আমার মা সুপ্রিয়া দেবী সেদিন, যেদিন উত্তম কুমার মারা গিয়েছিলেন, ওঁনার দেহ গিরিশ মুখার্জি রোডে ছিল, সেদিন নাকি আমার মাকে ওই বাড়িতে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। 

সোমা আরও বলেন, এই তথ্য আমার ঘোর আপত্তি রয়েছে। কারণ, সেদিন মায়ের পাশেই ছিলাম আমি। আসল সত্যিটা হল, মা-কে কেউ আটকায়নি, বরং মা নিজেই সেদিন ওই বাড়িতে যাননি। সুপ্রিয়া দেবীর উত্তম কুমারকে শেষবারের মতো দেখতে না যাওয়ার কারণ হিসাবে কন্যা বলেন যে, সেদিন ওই শোকস্তব্ধ পরিবেশেও নানা ধরনের রাজনীতি ও জটিলতা কাজ করছিল। তাঁর কথায়, সেদিন ওখানে অনেক ইস্যু ছিল, অনেক রকম রাজনীতি চলছিল। মহানায়কের মৃত্যুর মতো একটি স্পর্শকাতর মুহূর্তে কোনও রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা ঝামেলা এড়াতেই মা সচেতনভাবে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছিলেন। তাঁকে কেউ বাধা দেয়নি, এটা তাঁর নিজস্ব সিদ্ধান্ত ছিল।

Advertisement

মায়ের বিরুদ্ধে এই ভুল তথ্য ছড়ানোর জন্য ক্ষুব্ধ সোমা। তিনি বলেন, আমার মা ২০ বছর ধরে লিভ-ইন সম্পর্কে ছিলেন উত্তম কুমারের সঙ্গে। ওঁর দেখাশোনা থেকে শুরু করে ভালো রাখার সব দায়িত্ব মা নিজের হাতে পালন করেছেন। উত্তম কুমার মায়ের হাতের রান্না খেতে ভালোবাসতেন বলে, এই মানুষটা নিজের হাতে দিনের পর দিন রান্নাঘরে সময় কাটিয়েছেন। এমনকী, মহানায়কের জন্য মা নিজের কেরিয়ার পর্যন্ত আত্মত্যাগ করেছিলেন। আমি নিজে চোখে মায়ের এই ত্যাগ দেখেছি। তাই আজ যখন কেউ বলে যে মাকে শেষদর্শনে যেতে দেওয়া হয়নি বা তিনি দায়িত্ব পালন করেননি, তখন ভীষণ কষ্ট হয়। শেষে সোমা চট্টোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যিনি এই বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছেন তিনি হয়তো তখন অনেকটাই ছোট ছিলেন, তাই আসল ঘটনা সম্পর্কে তিনি অবগত নন। কেবলমাত্র সাধারণ মানুষকে সঠিক তথ্য জানানোর তাগিদেই ৪৬ বছর পর এই প্রসঙ্গে মুখ খুলতে বাধ্য হলেন তিনি।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি সোশাল মিডিয়ায় উত্তম কুমারের নাতনি নবমিতার একটি সাক্ষাৎকারের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেখানে তিনি দাবি করেন, উত্তম কুমারের মৃত্যুর পর সুপ্রিয়া দেবীকে তাঁর মরদেহের কাছে ঘেঁষতে দেওয়া হয়নি। নবমিতার কথায়, দিদা (উত্তমের স্ত্রী গৌরীদেবী) ভেবেছিলেন, যাঁর ওপর তিনি স্বামীর ভালো থাকার দায়িত্ব দিয়েছিলেন, সেই সুপ্রিয়া দেবী তাঁকে সুস্থ রাখতে পারলেন না। দিদা চেয়েছিলেন, উত্তম কুমার ওখানে গিয়ে একটু ভালো থাকুন, নিজের মতো করে সময় কাটান। কিন্তু সুপ্রিয়া দেবী সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। এই রাগের বশেই নাকি গৌরীদেবী তাঁকে শেষদর্শনে আসতে দেননি।

POST A COMMENT
Advertisement