scorecardresearch
 

Tagore-Ocampo Relationship: 'রবীন্দ্রনাথ-ওকাম্পোর মাঝে কখনও শরীর আসেনি,' Exclusive ভিক্টর

১৯২৪ সালে জলপথে পেরুর উদ্দেশে যাচ্ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় মাঝপথে আর্জেন্টিনায় নামানো হয় কবিকে। আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস এয়ারেসের অভিজাত পরিবারের মেয়ে ওকাম্পোর সেই খবর পেয়ে নোবেলজয়ী সাহিত্যিককে নিজের ঘরে তোলেন। গীতাঞ্জলির ফরাসি অনুবাদ পড়ে আগেই কবির প্রতি তাঁর ভাললাগা ছিল। ওকাম্পোর সেবায় সুস্থ হয়ে ওঠেন রবীন্দ্রনাথ।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ভিক্টোরিয়া ওকাম্পো। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও ভিক্টোরিয়া ওকাম্পো।
হাইলাইটস
  • কবি এবং তাঁর বিদেশি বান্ধবী 'বিজয়া' এবার সেলুলয়েডে।
  • নেপথ্যে আর্জেন্টিনার পরিচালক পাবলো সিজার।
  • ছবিতে রবীন্দ্রনাথের ভূমিকায় অভিনয় করছেন বাঙালি অভিনেতা ভিক্টর বন্দ্যোপাধ্যায়।

কবি এবং তাঁর বিদেশি বান্ধবী 'বিজয়া' এবার সেলুলয়েডে। নেপথ্যে আর্জেন্টিনার পরিচালক পাবলো সিজার। যে ছবিতে রবীন্দ্রনাথের ভূমিকায় অভিনয় করছেন বাঙালি অভিনেতা ভিক্টর বন্দ্যোপাধ্যায়। আর ওকাম্পো আর্জেন্টিনার অভিনেত্রী এলিওনোরা ওয়েক্সলার। কবি ও তাঁর বান্ধবীকে নিয়ে চর্চার শেষ নেই। ওকাম্পোকে বিজয়া নামে ডাকতেন রবীন্দ্রনাথ। উৎসর্গ করেছিলেন 'পূরবী' কাব্যগ্রন্থ। আমৃত্যু বিজয়ার আসল পরিচয় গোপন রেখেছিলেন। ১৯৬১ সালে রবির জন্মশতবার্ষিকীতে তাঁকে নিয়ে লেখা বইয়ে সবটা ফাঁস করেছিলেন ওকাম্পো। আদতে কী সম্পর্ক ছিল দুজনের? সেই কৌতূহল হল কি মিটবে 'থিংকিং অব হিম' ছবিতে? ইন্ডিয়া টুডে ডট কমকে এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে রবি-ওকাম্পোর সম্পর্ক নিয়ে খোলাখুলি উত্তর দিলেন ভিক্টর বন্দ্যোপাধ্যায়।

প্রশ্ন- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভূমিকায় অভিনয় কি চাপের? 

ভিক্টর- অসাধারণ। দুর্দান্ত অভিজ্ঞতা বলতে পারেন। বিশ্বের শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিকের মননে প্রবেশের সুযোগ করে দিয়েছে এই চরিত্র। আর দু'জনের সম্পর্ক নিয়েও কৌতূহলের অন্ত নেই। চিত্রনাট্য অনুসরণ করেই কাজটা করছি।

প্রশ্ন- চরিত্রের জন্য কি কোনও প্রস্তুতি নিয়েছেন? 

ভিক্টর- না, কোনও ওয়ার্কশপ করিনি। তবে হোমওয়ার্ক যথেষ্ট করেছি। ওকাম্পোকে নিয়ে বই পড়েছি। কারণ কবির প্রতি ওকাম্পোর আবেগই ছবির মূল বিষয়। গবেষণা করে জানতে পেরেছি, রবীন্দ্রনাথের কবিতার চেয়েও তাঁর দর্শন আর্জেন্টিনাবাসীকে বেশি ভাবায়। 

প্রশ্ন- সেই ২০১৮ সালে তৈরি হয়েছে ছবি। এত দেরি করে মুক্তি পাওয়ার কারণ কী? 

ভিক্টর- মুক্তির ব্যাপারটা দেখেন প্রযোজক। আসলে ঠিকঠাক ডিস্ট্রিবিউশনের জন্য সময় লেগেছে।      

প্রশ্ন- কোনও বিশেষ মুহূর্ত? 

ভিক্টর- যখন ছবির শ্যুটিং চলছিল তখন একটা খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলাম। ৪০ জন কলাকুশলী আমার জন্য হাঁটু মুড়ে প্রার্থনা করেছিলেন। 

প্রশ্ন- রবীন্দ্রনাথ ও ওকাম্পোর 'নামহীন সম্পর্ক' নিয়ে রয়েছে নানা মত। এটা কীভাবে দেখেন? 

ভিক্টর- সত্যিই মুগ্ধ হয়েছে দেখে যে এই লোকটির সাহিত্যকর্ম এবং রোমান্টিকতা সারা বিশ্বে আলোচিত। এ দেশ থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে আর্জেন্টিনার এক মহিলাও বাদ যাননি। মনপ্রাণ দিয়ে কবির প্রেমে পড়েছিলেন ওকাম্পো। কীভাবে বিষয়টি সামলেছিলেন রবীন্দ্রনাথ সেটা নিয়ে আমার কৌতূহল ছিল। গীতাঞ্জলির ফরাসি অনুবাদ পড়েছিলেন ওকাম্পো। তাঁর দর্শনকে বোঝার পর গুরু হিসেবে পুজো করেছেন। এমনকি এলিওনোরা, যিনি ওকাম্পোর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন, তাঁর চোখেও সেই ভক্তি ধরা পড়েছে। ছবিতে অভিনয়ের সময় আমি বুঝেছি, দু'জনের সম্পর্কের মধ্যে শরীর বা কামেচ্ছার কোনও জায়গাই ছিল না। ওকাম্পো আসলে কবির কাছে নিজেকে সমর্পণ করেছিলেন।

প্রশ্ন- বঙ্গসমাজে কি বিরূপ প্রতিক্রিয়া হবে? 

ভিক্টর- এটা (নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া) হওয়াটাই স্বাভাবিক। আসলে আমরা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আর রবীন্দ্রনাথকে ঈশ্বরের জায়গায় বসিয়ে দিয়েছি। আর এটা তো সবার দেখার ছবি নয়। নির্দিষ্ট মননশীল দর্শকদের কথা ভেবেই তৈরি। তবে মা-বাবাদের বলব, দশম ও তার বেশি শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে ছবিটা দেখতে যান। রবীন্দ্রনাথ আর ওকাম্পোর সম্পর্কের জটিলতা শিখতে পারবে ওরা। দু'জন সাহিত্য মননের পরস্পরের প্রতি সম্মান যে অভিজ্ঞতা লাভ করবে।

বলে রাখি, ১৯২৪ সালে জলপথে পেরুর উদ্দেশে যাচ্ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় মাঝপথে আর্জেন্টিনায় নামানো হয় কবিকে। আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস এয়ারেসের অভিজাত পরিবারের মেয়ে ওকাম্পোর সেই খবর পেয়ে নোবেলজয়ী সাহিত্যিককে নিজের ঘরে তোলেন। গীতাঞ্জলির ফরাসি অনুবাদ পড়ে আগেই কবির প্রতি তাঁর ভাললাগা ছিল। ওকাম্পোর সেবায় সুস্থ হয়ে ওঠেন রবীন্দ্রনাথ। তখন কবি ৬০ বছরের। আর ওকাম্পোর বয়স ৩৪। ১৯২৫ সালে আর্জেন্টিনা ছাড়েন কবি। তবে সেই বিদেশি বন্ধুকে ভুলতে পারেননি। ১৯২৫ সালের ২৯ অক্টোবর ওকাম্পোকে লেখা চিঠিতে তাঁকে বিজয়া বলে সম্বোধন করেছিলেন। 'পূরবী' কাব্যগ্রন্থ উৎসর্গ করেছিলেন তাঁকেই। কিন্তু বিজয়াকে নিয়ে নীরবই ছিলেন রবি। কবির মৃত্যুর অনেক পরে ১৯৬১ সালে তাঁর শতবার্ষিকীতে ওকাম্পোকে তাঁর আবেগ সাধারণ্যে প্রকাশ করেছিলেন বইয়ের মাধ্যমে। যে বইয়ে তিনি লিখেছিলেন, কবির দরজায় নিছক পোষ্যের মতো শুয়ে থাকতেন।

আরও পড়ুন- বিরল পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ, ক'দিন পরে আকাশে 'খুনি' চাঁদ-দর্শন