
দেবলীনা নন্দীগত কয়েকদিন ধরেই দেবলীনা নন্দীকে নিয়ে সরগরম নেট দুনিয়া। সম্প্রতি ফেসবুকে লাইভ ভিডিও করে নিজের ব্যক্তিগত জীবনের সমস্যার কথা বলেন তিনি। এই ভিডিও শেষ হওয়ার পর পরই তিনি কড়া ডোজের ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বর্তমানে কলকাতার একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে দেবলীনার। কিন্তু কে এই দেবলীনা, যাঁকে নিয়ে এত হইচই চলছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। পুরনো গানের রিমিক গেয়ে কিংবা নতুন গান গেয়ে বরাবর নজর কেড়েছেন দেবলীনা।

দেবলীনা গায়িকা তো বটেই, তার সঙ্গে অভিনেত্রী এবং সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েসার। তাঁর জনপ্রিয়তা অন্য ইনফ্লুয়েন্সারের চেয়ে কম কিছু নয়। তাঁর গানে মুগ্ধ সকলে। পাশাপাশি নিজের ডেইলি ভ্লগের মাধ্যমে দেবলীনা তাঁর ব্যক্তিগত জীবনকেও সকলের সামনে তুলে ধরেন। তাঁর ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ার্সের সংখ্যা ১ লক্ষ ৮৯ হাজারের বেশি আর তাঁর ফেসবুকে ২.৯ মিলিয়ন ফলোয়ার্স। ইউটিউবেও তাঁর অনুগামীর সংখ্যা নেহাত কম নয়। জনপ্রিয় এক রিয়্যালিটি শো থেকে দেবলীনা নন্দীর উত্থান। তারপর গায়িকার বেশ কিছু গান সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই তিনি রাতারাতি জনপ্রিয়তা পেয়ে যান।

প্রায় দুবছর বয়স থেকেই গান শিখতেন দেবলীনা। বরাবরই স্বপ্ন ছিল বড় গায়িকা হওয়ার। আসলে, দেবলীনার মা, নিজের স্বপ্নকেই, মেয়ের মধ্যে দিয়ে পূরণ করছিলেন। শত কষ্টেও গান ছাড়েননি। খুব ছোট থেকেই স্টেজ শো করতেন দেবলীনা। মা-বাবার হাত ধরেই নানা ব্যান্ডে গান গাইতে যেতেন। এরপরই তিনি গানের রিয়্যালিটি শো-তেও অংশ নেন। দেবলীনা শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে তালিম নিলেও তিনি আধুনিক ও লোকসঙ্গীতেও সমান পারদর্শী। তাঁর গাওয়া একাধিক গানের ভিডিও ইউটিউবে পাওয়া যাবে, যার ভিউ লক্ষাধিক। তবে গানের পাশাপাশি দেবলীনা ডেইলি ভ্লগও করতে শুরু করেন। বিয়ের আগে থেকেই তিনি এই ভ্লগ করতেন।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে দেবলীনা বিয়ে করেন পেশায় পাইলট প্রবাহ নন্দীকে। প্রবাহর বাড়ি চন্দননগরে হলেও দেবলীনার সঙ্গে নিউটাউনে আলাদা সংসার পেতেছিলেন। দেবলীনা-প্রবাহর বিয়ের আগের ফটোশ্যুট থেকে শুরু করে বিয়ের সময়কার নানান রীতি নেট দুনিয়ায় সেই সময় বেশ ভাইরাল হয়েছিল। গান এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসাবে দেবলীনার খ্যাতি ক্রমেই বাড়তে থাকে। এই মুহূর্তে ইউটিউবে তাঁর ১.২৮ মিলিয়ান। নানা প্রসাধনীর ব্র্যান্ডের মুখ তিনি।

দেবলীনার শৈশব কেটেছে প্রবল অর্থকষ্টের মধ্যে দিয়ে। বাঁশদ্রোণীর ভাড়া বাড়ি থেকে একসময় বেড়ার বাড়িতে আশ্রয় নিতে হয়েছিল তাঁদের পরিবারকে। বাবার হঠাৎ অসুস্থতায় সংসার প্রায় ভেঙে পড়েছিল। তখন সমস্ত দায়িত্ব একাই কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন তাঁর মা। পড়াশোনা চালাতে পাড়া প্রতিবেশীর সাহায্যের উপর নির্ভর করতে হয়েছে বহুদিন। বিয়ের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় বরের সঙ্গে হাসিখুশি ভিডিও দেখে সবাই ভেবেছিলেন দেবলীনার বিবাহিত জীবন সুখের। কিন্তু হঠাৎ করে যে এরকম ঘটনা ঘটতে পারে তা কেউ কোনওদিনই ভাবেনি।

ফেসবুক লাইভে জীবনের একাধিক সমস্যার কথা উগরে দিয়েই আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন দেবলীনা। তিনি এও অভিযোগ করেছেন, যে মা তাঁকে কেরিয়ার গড়তে সাহায্য করেছেন, তাঁকেই এখন ছেড়ে দিতে বলা হচ্ছে তাঁকে। ওই লাইভ শেষ হওয়ার পরেই নিজেকে শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা করেন দেবলীনা। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন তিনি।