
ভ্লগার সায়নীর রহস্যজনক মৃত্যুযাঁরা নিয়মিত সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় থাকেন, তাঁরা অনেকেই সুন্দরী নামের গরুর সঙ্গে বেশ পরিচিত। আর এই সুন্দরীকে নিয়ে ভিডিও বানিয়ে নেটপাড়ায় জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটার ও পশুপ্রেমী সায়নী চক্রবর্তী। কিন্তু আচমকাই সায়নীর রহস্য মৃত্যুর কথা সামনে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে শুধু তাঁকে নিয়েই আলোচনা হতে থাকে। জানা গিয়েছে, ভিডিওতে আদরের পোষ্য সুন্দরীকে নিয়ে হাসিমুখে সায়নীকে দেখা গেলেও, বাস্তবে নাকি একেবারেই ভাল ছিলেন না তিনি। সম্প্রতি পরিচালক অনীক দত্তের মৃত্যুতেও উঠে এসেছে এই মানসিক অবসাদ বা ডিপ্রশনের কথা। এবার সেই নিয়েই কথা বললেন গায়িকা তথা ইনফ্লুয়েন্সার দেবলীনা নন্দী।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের শুরুতেই সাংসারিক অশান্তির জেরে একাধিক ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছিলেন দেবলীনা। সায়নীর আকস্মিক মৃত্যুর কথা বলতে গিয়ে নিজের সেই রাতের কথাও তুলে ধরলেন গায়িকা। দেবলীনা লিখেছেন, এমন একটা ঘটনা ঘটেছে, যেটা নিয়ে আমার কিছু বলার নেই কারণ কী বলবো, সেটাই বুঝে উঠতে পারছি না। মেয়েটার সঙ্গে একদিনই দেখা হয়েছিল, তখন ওই ১০ মিনিটের কথাবার্তায় কেউ কারোর মনের অবস্থা বুঝতে পারিন। মানুষ বুকের ভিতর কতটা যন্ত্রণা পেলে এরকম করে সেটা আমি জানি, কিন্তু তারা জানে না যারা কটাক্ষ কর।
এরপর দেবলীনা বলেন, আজ সে নেই আমাদের মধ্যে, সবাই দুঃখ করছে, কিন্তু কোনওভাবে বেঁচে গেলে সারাজীবন কিছু মানুষ তাঁকে তিলে তিলে মেরে ফেলতো নানান বাজে কথা বলে, যেমনটা আমার সঙ্গে প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে। এরপরই গায়িকা তাঁর জীবনে ঘটে যাওয়া সেই ঘটনার কথা তুলে ধরেন। দেবলীনা বলেন, আমি কিছুক্ষণের জন্য মা-বাবা ভাই সবার কথা ভুলে গিয়ে একটা অকাজ করে ফেলেছিলাম, কিন্তু ওখানে উপস্থিত কিছু মানুষের জন্য আর আমাকে যারা নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসে, তাদের জন্য এখনও আছি, কিন্তু কিছু মানুষের সেটা নিয়ে সমস্যা, রোজ রোজ মারতে চাইছে আমাকে। গায়িকা আরও বলেন, সব কিছুর পরে একটাই কথা বলবো, শুধু একটা মানুষই আজ সব থেকে বেশি কষ্ট পাচ্ছে, সেটা হলো তার মা। কিছু মানুষ প্রচন্ড জাজমেন্টাল, ভালো তাও খারাপ খোঁজে। কিন্তু আমিও ভুল করতে যাচ্ছিলাম আর তুমিও ভুল করেছো বোন। মা বাবাকে কষ্ট দেওয়া ঠিক না সেটা আমি বুঝেছি। যেখানেই থাকো ভাল থাকো।

বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী জানা গিয়েছে যে ক্যামেরার সামনে হাসিমুখে দেখা গেলেও আদতে ভালো ছিলেন না সায়নী। বেশ কয়েকদিন ধরেই নাকি সম্পর্কের টানাপোড়েনে ভুগছিলেন। মানসিক অবসাদে ছিলেন। আর তাই তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিলেন। যদিও পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। সোশ্যাল মিডিয়ায় সায়নীর সঙ্গে দেখা যেত তাঁর মা মলি চক্রবর্তীকেও। দু’জনের আলাদা আলাদা পেজও রয়েছে। সেখানেই পোষ্য ‘সুন্দরী’র সঙ্গে কাটানো সুন্দর মুহূর্তের ভিডিও শেয়ার করতেন তাঁরা। বৃহস্পতিবার সকালেও মা মলি চক্রবর্তীর পেজ থেকে ভিডিও শেয়ার করা হয়। সেই সময় পর্যন্ত সম্ভবত সব কিছু ঠিকঠাকই ছিল। তবে তারপরই সব শেষ। যদিও সায়নীর চরম সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে মলি চক্রবর্তী সোশাল মিডিয়ায় এখনও পর্যন্ত কিছুই জানাননি।