
শমীক অধিকারীসোশ্যাল মিডিয়ায় এখন কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের রমরমা বাজার। এ বলে একে দেখ আবার ও বলে আমায় দেখ। আর এই ব্যস্ততম বাজার থেকে যাঁরা দর্শকদের মজাদার কনটেন্ট নিয়ে মন জয় করতে সফল হয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন শমীক অধিকারী। যিনি নেটদুনিয়ায় পরিচিত yournonsanee নামে। আর তাঁর বিরুদ্ধেই উঠেছে যৌন নির্যাতন, মারধরের মতো গুরুতর অভিযোগ। সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার শমীক অধিকারীকে যৌন হেনস্থার অভিযোগে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাঁকে।
শমীক অধিকারী কে
কনটেন্ট ক্রিয়েটারদের দুনিয়ায় শমীক পরিচিত yournonsanee নামে। তাঁর কনটেন্ট বেশ মজাদার হয়ে থাকে। মা ও ছেলের কথোপকথন, দৈনন্দিন জীবনে মা-ছেলের মধ্যে ঘটা বিভিন্ন মজাদার বিষয়গুলিকেই তুলে ধরতেন শমীক। আর এই কনটেন্ট করেই তিনি বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। ফেসবুক, ইউটিউব ও ইনস্টাগ্রামেও তাঁর পেজ রয়েছে এবং তাঁকে ফলো করেন বহু মানুষ। শমীকের কনটেন্ট মানেই তা আপনাকে হাসাবেই। বাস্তব জীবনেও বেশ হাসিখুশি শমীক। হইচই-এর মতো প্ল্যাটফর্মেও কাজ করেছেন তিনি। এক কথায় শমীকের yournonsanee নেটপাড়ায় যথেষ্ট পরিচিত।
ফলোয়ার্স সংখ্যা
ইনস্টাগ্রামে শমীকের ফলোয়ার্সের সংখ্যা ৪ লক্ষের বেশি। ফেসবুকেও ৪ লক্ষের বেশি ফলোয়ার্স রয়েছে। আর ইউটিউবে ৩ লক্ষের বেশি সাবস্ক্রাইবার রয়েছে। এই তিন মাধ্যম থেকেই ভাল টাকা উপার্জন করেন শমীক। সম্প্রতি এক সংবাদমাধ্যমের অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে সেরা কনটেন্ট ক্রিয়েটরের পুরস্কারও জেতেন শমীক।

'বাটন' ভিডিও
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আবহে হঠাৎ করেই শমীক অধিকারীর পেজ থেকে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। 'বাটন' নামের সেই ভিডিও সরকার বিরোধী বলেই দাবি করেন সকলে। বিজেপির পেজ থেকেও সেই ভিডিও শেয়ার করা হয়। শমীকের এই ভিডিওর দাবি অনুযায়ী, এই বাংলা মেয়েদের জন্য নিরাপদ নয়। ইতিমধ্যেই এই ভিডিওতে লাইক সংখ্যা পড়েছে ৩ লক্ষের বেশি। ভিডিওতে ভিউ হয়েছে ২৯ লক্ষের কিছু বেশি, যা আগামী দিনেও বাড়বে। আর এই ভিডিও পোস্ট হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই শমীকের বিরুদ্ধে তাঁরই বান্ধবীকে যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠল।
শমীকের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ
২২ বছর বয়সী এক তরুণী বেহালা থানায় অভিযোগ করেন যে বেহালা এলাকার একটি ফ্ল্যাটে তাঁকে আটকে রাখা হয়েছিল। ২ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা পর্যন্ত তাঁকে সেখানে বন্দি করে রাখা হয় বলে অভিযোগ। বাড়ি বদলের সময় সাহায্য করার অজুহাতে তাঁকে নিজের ফ্ল্যাটে ডেকে পাঠানো হয়। অভিযোগ, এরপরই তরুণীর মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং সারা রাত ধরে তাঁর উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। কোনওভাবে পরিস্থিতি সামলে তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। শমীক গ্রেফতার হন এবং তাঁকে আদালতে তোলা হলে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অলিপুর আদালতে শুনানির সময় শমীকের আইনজীবীর বক্তব্যে আংশিক দায়স্বীকার বা দায়স্বীকারের সম্ভাবনার ইঙ্গিত পাওয়া যায় বলে আদালত সূত্রে খবর।