
বিগ বাংলা সিজন ৩শুরু হয়ে গিয়েছে বিগ বস বাংলা সিজন ৩। আর এই সিজনের বিগ বস নিয়ে বহু আগে থেকেই দর্শকদের মধ্যে উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। ইতিমধ্যেই বিগ বাংলার ঘরে ১৫ জন চেনা মুখদের মধ্যে হালকা হালকা উত্তেজনা দেখা গিয়েছে। তবে বরাবরই দর্শকদের মনে একটা প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে থাকে, তা হল বিগ বস-এর ঘরে যে যাঁর গুরু-গম্ভীর গলার আওয়াজ শোনা যায় কিংবা যিনি গম্ভীরভাবে সকলকে কাজ করার নির্দেশ দেন, সোজা কথায় যাঁর ইশারায় বিগ বস হাউস পরিচালিত হয়, সেই কন্ঠস্বরের নেপথ্যে কে? প্রতিবারই এই প্রশ্নের উত্তর অধরা থাকে। তবে সম্প্রতি গত দুটো সিজনে বিগ বস-এর নেপথ্যের কন্ঠস্বর কার, তা সামনে এসেছে।
কার গলার স্বর শোনা যায় 'বিগ বস'-এ?
এই রিয়্যালিটি শোয়ের নাম অনুযায়ী ঘরের প্রতিটি সদস্যকে পরিচালনা করবেন বিগ বস। বিগ বস-এর নির্দেশ ছাড়া প্রতিযোগীরা এক পাও নড়বেন না। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর যাঁর কন্ঠস্বর শোনা যায় এবং ঘুমোতে যাওয়ার আগে পর্যন্ত যিনি প্রতিযোগীদের বিভিন্ন ধরনের টাস্ক দিয়ে থাকেন, সেই গুরু গম্ভীর কন্ঠস্বরের নেপথ্যে আসলে কে, তা নিয়ে দর্শকদের মধ্যে কৌতুহলের শেষ নেই। গত দুটো সিজনে অর্থাৎ ২০১৩ এবং ২০১৬ সালে হওয়া বিগ বস-এর ঘরে যাঁর কন্ঠস্বর শোনা গিয়েছিল, তিনি নিজেই জানিয়েছেন সেই কথা। যদিও এত বছর সেই কথা কেউ জানতেই পারেনি। সম্প্রতি সেই অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন টেলিভিশনের ভীষণ চেনা মুখ সোহন বন্দ্যোপাধ্যায়। যাঁকে একাধিক সিরিয়ালে বাবা-জ্যাঠার ভূমিকায় দেখা যায়।
'বিগ বস'-এর কন্ঠস্বর আসলে কার?
সোহন জানিয়েছেন, প্রথম ও দ্বিতীয় মরশুমে ‘বিগ বস’-এর কণ্ঠ ছিল তাঁরই। এক দীর্ঘ পোস্টে অভিনেতা সেই অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, খুব ঘনিষ্ঠ মানুষেরা ছাড়া হাজার চাপের মুখেও এতদিন কথাটা সরাসরি তিনি স্বীকার করেননি। বিভিন্নভাবে এড়িয়ে গিয়েছেন। যদিও কোনও লিখিত-পড়িত ‘নন ডিসক্লোসার ক্লজ’ (চুক্তি) কোনও দিনই ছিল না। তাও তিনি বলেননি। সোহনের কথায়, তবে প্রথম ২টো সিজনে (২০১৩ ও ২০১৬) যারা প্রতিযোগী ছিলেন, তাঁরা যখন শোয়ের শেষে আমায় দেখে ফেলেন, তখন তাঁদের পক্ষে বুঝে নেওয়াটা খুব একটা অস্বাভাবিক কিছু ছিল না। আর তাই, আমাদের তথাকথিত ‘ছোট ইন্ডাস্ট্রিতে’ কথা চালাচালি হওয়াও কিছু আশ্চর্যের নয়। সেই সব সূত্রেই কেউ কেউ কয়েক বছর ধরে জানেন বা আন্দাজ করতেই পারেন- আমিই ছিলাম ‘বিগ বস বাংলা’র ২০১৩ ও ২০১৬ সালে নামভূমিকার অভিনেতা। এটা নিয়ে অনেকের কৌতুহল ছিল- আজ সরাসরি জানিয়ে দিলাম।

কেন এত বছর পর প্রকাশ করলেন?
তবে এত বছর পর বিগ বাংলার বাচিক শিল্পী কেন নিজেকে প্রকাশ্যে আনলেন, সেটার পিছনেও রয়েছে কারণ। আসলে এই সিজনের বিগ বস বাংলায় বিগ বস-এর ভূমিকায় তিনি আর নেই। বাচিক অভিনয়টা তিনি আগে করলেও, এই বছর করছেন না। যদিও বিগ বস-এর প্রযোজনা সংস্থার পক্ষ থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হয়েছিল এবং তাঁরা চেয়েছিলেন ওই ভূমিকায় এবারেও যেন সোহন থাকেন। কিন্তু অভিনেতার কথায়, মাঝের দশ বছরের ব্যবধান অন্তরাল হয়ে দাঁড়ায়। তাঁর পরিচিতি, কাজের সংখ্যা, আর্থিক দাবি, পারিবারিক পরিবেশ অনেকটাই বদলে গিয়েছে। তাই তিনি তাঁর খুব প্রিয় কাজকে এবারে না বলতে বাধ্য হয়েছেন।

নতুন সিজনে কার গলা শোনা যাচ্ছে?
এবার তাহলে প্রশ্ন, সোহন বন্দ্যোপাধ্যায় বিগ বস-এর কন্ঠস্বর না হলে, তাহলে কার গলা শোনা যাচ্ছে ? শোনা যাচ্ছে, এই বছর বিগ বস-এর বাচিক শিল্পী অর্থাৎ যাঁর গলা শোনা যাচ্ছে, তিনি হলেন সব্যসাচী চক্রবর্তী। আসলে সব্যসাচী ভারী ও গুরু-গম্ভীর গলার জন্য বেশ পরিচিত। তাই সোহনের পরিবর্তে সব্যসাচীর গলা শোনা যাচ্ছে বিগ বস-এর ঘরে।