টক্সিক ছবির দৃশ্যযাঁরা যশ ভক্ত, তাঁরা এইদিনটার জন্য অপেক্ষা করেছিলেন এতদিন। ‘টক্সিক:আ ফেয়ারি টেল ফর গ্রাউন-আপস’ মুক্তি পেয়েছে। একদিকে দক্ষিণী সুপারস্টার যশ। অন্যদিকে ‘হট অ্যান্ড সিজলিং’ কিয়ারা আদবাণী। মুক্তির আগেই এই ছবির ট্রেলার-গান দর্শকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস সৃষ্টি করেছে। ফার্স্ট ডে ফার্স্ট শো একেবারে হাউসফুল। কিন্তু আদৌও যশ-কিয়ারার এই ছবি কতটা দর্শকদের মন জয় করল আসুন দেখে নিন।
গীতু মোহনদাস পরিচালিত এই সিনেমার মাধ্যমে ‘কেজিএফ: চ্যাপ্টার ২’-এর ব্লকবাস্টার সাফল্যের চার বছর পর যশ বড় পর্দায় ফিরলেন। 'টক্সিক' ছবিতে কিয়ারা আদবাণী, নয়নতারা, হুমা কুরেশি, তারা সুতারিয়া এবং রুক্মিণী বসন্ত সহ একাধিক তারকারা রয়েছেন। সিনেমাটিকে অ্যাকশন, ড্রামা এবং ফ্যান্টাসি উপাদান সহ একটি ডার্ক গ্যাংস্টার ছবি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। এটি 'এ' সার্টিফিকেট পেয়েছে এবং এর দৈর্ঘ্য তিন ঘণ্টার বেশি। এই ছবি মুক্তির আগেই ছবিটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে এবং বিদেশের প্রিমিয়ারের ফলে সোশ্যাল মিডিয়ায় দর্শকদের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়াও পাওয়া যাচ্ছে। বহু দর্শক যশের পর্দায় উপস্থিতি, অ্যাকশন দৃশ্য, ভিজ্যুয়াল এবং গানের প্রশংসা করেছেন। ৫০০ কোটি টাকারও বেশি বিশাল বাজেট, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, ভয়ংকর অ্যাকশন, রহস্যময় চরিত্র এবং যশের দ্বৈত ভূমিকা ইতিমধ্যেই ছবিটিকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি করেছ। তাই প্রশ্নটা সহজ: ' টক্সিক ' কি শুধুমাত্র যশের তারকাখ্যাতির ওপর নির্ভর করছে, নাকি এতে এমন কিছু আছে যা 'কেজিএফ'-এর স্মৃতিকে ছাপিয়ে যাবে?
রায়া (যশ), যিনি একজন আলফা পুরুষ, যাঁর সবচেয়ে প্রিয় আভূষণই হল রক্তের ছিটে, বিশেষ করে তখন, যখন সেই রক্ত কারোর সদ্য হাত-পা কাটা হলে সেখান থেকে পড়ে। বলা চলে এটাই টক্সিকের পুরো কাহিনী বলা চলে। স্বাধীনতা-পরবর্তী যুগের গ্যাংস্টার জগতের এই গল্পটি দর্শকদের জন্য ৩ ঘন্টা ১৫ মিনিটের এক রক্তাক্ত প্রেক্ষাপটকে তুলে ধরে। এখানে নায়ক যত বেশি খুন করে, ততই সে মজা পেতে থাকে। বিশেষ করে তার আগের ব্লকবাস্টার ‘কেজিএফ’ এবং ‘কেজিএফ ২’-এ এই ফর্মুলাটি এত ভালোভাবে কাজ করতে দেখার পর। কেজিএফ-এর মতো ‘টক্সিক’-ও একটি পিরিয়ড ফিল্ম। গল্পটি ১৯৪৭ সালে গোয়ায় শুরু হয় এবং প্রায় ২০ বছর এগিয়ে যায়। ছবিটিতে পুরনো হলিউডের গ্যাংস্টার ক্লাসিক, বিশেষ করে দ্য গডফাদার-এর প্রচুর প্রভাব রয়েছে। আঁটসাঁট স্যুট, সাইডবার্ন, ফেডোরা-টুপি পরা পুরুষ, ঝলমলে নারী, সরু সিগারেট হোল্ডার এবং ধোঁয়ায় ভরা নাইটক্লাব। এই ছবিটি দর্শকদের অ্যানিমালের কথা মনে করিয়ে দেবে।
তবে ছবিটিতে দুর্বল চিত্রনাট্য, ধীরগতির কাহিনি এবং আবেগের অভাব রয়েছে। টক্সিক-এর গল্প দর্শকের মন ছুঁতে ব্যর্থ হবে। কারণ রোম্যান্সের দৃশ্যগুলিতেও অতিরিক্ত যৌনতা দেখানোর ফলে, সেটাও খুব একটা মন পসন্দ হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। অভিনয়ের দিক থেকে যশ, কিয়ারা, তারা সুতারিয়া, নয়নতারা ও হুমা কুরেশি যে যাঁর চরিত্র অনুযায়ী ভাল অভিনয় করেছেন। ছবিতে কিয়ারার গ্ল্যামারস লুক দেখানোয় কোনও খামতি দেওয়া হয়নি।
রায়ার চরিত্রে যশকে যেভাবে উপস্থাপনা করা হয়েছে, তাতে যেমন সোয়াগও রয়েছে তেমনি রায়ার ভয়ঙ্কর দিকটাও তুলে ধরা হয়েছে। হাত, মুখ, পা... চারদিক থেকে গুলি ছোড়া হয়। অ্যাকশন প্রচুর, কিন্তু অবিরাম হিংসার কারণে গল্পের আবেগঘন মূল ভাবটি ঢাকা পড়ে গেছে বলে মনে হয়। ফলে প্রশ্ন উঠছে, আদৌ কি প্রত্যাশিত বক্স অফিস পাবে ‘টক্সিক:আ ফেয়ারি টেল ফর গ্রাউন-আপস’? প্রশ্নটা উঠছে প্রথম শোয়ের পর থেকেই।