
ছেলের সঙ্গে মানসী সেনগুপ্ত (ছবি: ফেসবুক) বাংলা টেলিভিশনের জনপ্রিয় মুখ মানসী সেনগুপ্ত। গত বছর, দ্বিতীয়বার মা হয়েছেন অভিনেত্রী। কন্যার পরে, তাঁর কোলে এসেছে পুত্র সন্তান। সোশ্যাল মিডিয়ায় একরত্তির নানা আদুরে মুহূর্ত নিয়মিত শেয়ার করেন মানসী। ১৯ মার্চ, ছেলে- গোল্লার (অধ্যায়) এক বছর পূর্ণ হল। সন্তানের উদ্দেশ্যে, এদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বিশেষ পোস্ট করেন টেলি অভিনেত্রী। আর সেখান থেকেই শুরু হয়েছে নয়া জল্পনা।
ফের চর্চায় মানসী সেনগুপ্ত। আলোচনার বিষয়বস্তু একই। স্বামীর সঙ্গে কি এবার পাকাপাকি বিচ্ছেদ হয়েছে তাঁর? নতুন করে বিতর্কের কারণ তাঁর পোস্টের ক্যাপশন। আসলে গোল্লার একটি ছবি শেয়ার করেন তিনি। যেখানে দেখা যাচ্ছে, তাঁর বড় মেয়ের হাতে ধরা একটি বেন্টো কেক। আর বার্থডে বয়ের হাতে কেক একেবারে মাখামাখি। ক্যাপশনে অভিনেত্রী লিখেছেন, "জীবনের প্রতিটি প্রথম বিশেষ, কিন্তু তুমি আমাকে বুঝিয়েছ যে প্রতিটি শেষও বিশেষ—কারণ তুমি আমার শেষ ভালোবাসা। তোমার প্রথম জন্মদিনে আমি তোমাকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, আমি সারাজীবন তোমার হিরো হয়ে থাকব। আমি কথা দিচ্ছি, তোমার মা সবসময় তোমার জন্য মা ও বাবা—দুই-ই হবে। আর সবসময় জগন্নাথের উপর বিশ্বাস রাখবে। কোনও চিন্তা নেই, তোমার মা সবসময় তোমার পাশে আছে।" ছেলের ক্ষেত্রে নিজের পদবি ব্যবহার করেছেন মানসী। যদিও মেয়ে বাবার পদবিই ব্যবহার করে। নিজেকে সন্তানের বাবা ও মা বলার পরই মানসী ও তাঁর স্বামীর বিচ্ছেদের জল্পনা নতুন করে শুরু হয়েছে।

এর আগে এক পডকাস্টে মানসীকে বলতে শোনা গিয়েছিল, "বিয়ে না করাই ভালো। আমি যদি ফিরে যেতে পারতাম আগেকার সময় তাহলে আমি বিয়ে করতাম না একদম। আমি লিভ ইন করতাম কিন্তু বিয়ে করতাম না। আমি কাউকে বিয়ে করার সাজেশন দেবো না। আর সন্তান জন্মের জন্য যে বিয়েটা প্রয়োজন সেটা আমি মনে করি না। আমার যদি আমার বরের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপও হয়, সেটা আমার নিজস্ব ব্যাপার। আমার যদি নে হয় আমি পাবলিক করব, সেটা আমার যখন মনে হবে তখন করব। যে আমি একসঙ্গে থাকছি না! অনেকে আমাকে বলে, তুমি কেন ওর বাবার সঙ্গে ছবি দিচ্ছ না! কেন দেব? যারা আমাকে বাজে কথা বলছে তাদের কেন এত গুরুত্ব দেব আমি?" তিনি যোগ করেন, "সম্পর্ক যেমনই হোক, আমি তো কাউকে বাধ্য করতে পারি না আমার সঙ্গে ফোটো বা ভিডিওতে আসার জন্য। সে আমার পার্টনার, আমার চাকর নয়। সে যদি ক্যামেরা দেখলে লজ্জা পায়, সে যদি ভিডিওতে আসতে না চায়, আমি তাঁকে কখনও জোর করতে পারি না। আমি আমার মেয়েকেও অনুমতি ছাড়া ভিডিওতে নেই না।"
দ্বিতীয় সন্তান জন্মানোর আগে, স্বামীর সঙ্গে অনেকটাই দূরত্ব তৈরি হয়েছিল মানসীর। এমনকী বিষয়টি এতটা বড় হয়েছিল যে, আলাদা থাকছিলেন তাঁরা। তবে ধীরে ধীরে মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে সমস্যা মিটিয়ে, আবার একসঙ্গে থাকা শুরু করেন তাঁরা। তিক্ততা ভুলে সম্পর্ক অনেকটা মধুর হয়। দু'জনে সিদ্ধান্ত নেন, দ্বিতীয় সন্তান নেবেন। তবে সাধভক্ষণ অনুষ্ঠান হোক কিংবা ছেলের অন্নপ্রাশন, মানসীর স্বামীকে দেখা যায়নি। এই নিয়েও চরম কটাক্ষের শিকার হতে হয় তাঁকে।
সেসময় সংবাদমাধ্যমকে মানসী বলেছিলেন, "দ্বিতীয় বার মা হওয়ার কথা ঘোষণার পর কম কটাক্ষ ধেয়ে আসেনি। একটা করে ছবি দিয়েছি, বেনো জলের মতো মন্তব্য আছড়ে পড়েছে। কম বেশি একটাই প্রশ্ন সকলের, আমার স্বামী কোথায়? তাঁর সঙ্গে কি আবার ঝামেলা হয়েছে? একটা সময় সত্যিই আমাদের মধ্যে সমস্যা দেখা দিয়েছিল। সে কথা কোনও দিন লুকোইনি। মেয়ের মুখ চেয়ে আমরা সে সব মিটিয়েও নিয়েছি। তার পর দ্বিতীয় মাতৃত্বের সিদ্ধান্ত। আমার স্বামী প্রচারবিমুখ। ফলে, সমাজমাধ্যমেও তাঁকে দেখা যায় না। এ সব কি জোর করে কাউকে দিয়ে করানো যায়? তার মানেই স্বামীর সঙ্গে আমার ঝামেলা! এক এক সময় মনে হয়, আগামীতে আমার সন্তানের পিতৃত্ব নিয়ে না প্রশ্ন তৈরি হয়।"
অভিনেত্রী আরও বলেন, "শ্বশুর-শাশুড়ি খুবই অল্পবয়সে মারা গিয়েছেন। ফলে, যে কোনও পারিবারিক অনুষ্ঠানে আমার বাবার বাড়ির সদস্যদের উপস্থিতি। আমার সাধের সময়েও তাই-ই। তাতেও যেন সকলের সমস্যা। প্রশ্ন ওঠে, কেন শ্বশুরবাড়ি থেকে সাধ খাওয়ানো হয়নি! নিন্দুকদের জানাতে চাই, ওঁদের কী করে ফিরিয়ে আনব বলুন তো? এই প্রসঙ্গে আরও একটা কথা, সাধভক্ষণ অনুষ্ঠানে সাধারণত ছেলেরা আমন্ত্রিত থাকেন না। এমনই রীতি। আমাদের বাড়িতে অন্তত সেটা পালন হয়। আমার বাবা পর্যন্ত ছিলেন না। সেখানে বরকে কী করে নিমন্ত্রণ করি? এ সব নেটাগরিকদের কী করে বোঝাই!"