দেবলীনা নন্দী- প্রবাহ নন্দী২০২৬-র শুরু থেকেই শিরোনামে দেবলীনা নন্দী। মধ্যরাতে লাইভ ভিডিও সামনে আসার পর থেকে শুরু হয় আলোচনা। সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে ছিলেন গায়িকা তথা ইউটিউবার। তাঁর জন্য চিন্তার ভাঁজ পড়েছিল নেটিজেনদের কপালে। সেসময় দ্রুত সুস্থ কামনা করে পোস্ট করেছেন বহু মানুষ। আবার অনেকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি। সকলের মনে একটাই প্রশ্ন ছিল, কীভাবে, কখন হল এসব? কারণ এই ঘটনার আগে পর্যন্ত নিজের ভ্লগিংয়ের মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়ায় একেবারে ভিন্ন চিত্র তুলে ধরতেন। ধীরে ধীরে সামনে আসে পর্দার পিছনের সত্যি। বাড়ি ফিরে নিজেই সবটা জানান দেবলীনা। যদিও এই ঘটনায় শুরু থেকে একেবারে চুপ গায়িকার স্বামী প্রবাহ নন্দী বা তাঁর পরিবার।
ধীরে ধীরে জীবনের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছেন দেবলীনা। নিয়মিত শো করছেন, ফ্যাশন শ্যুটেও যোগ দিয়েছেন। সম্প্রতি নতুন ফ্ল্যাটের গৃহপ্রবেশও করেছেন। এদিকে হঠাৎ ছড়িয়ে পড়ে অন্য খবর। জোর গুঞ্জন, প্রবাহর থেকে নাকি বিচ্ছেদ চেয়েছেন তিনি। আসলে, গায়িকার বেশ কিছু পোস্টে দেখা যায়, তাঁর সিঁথিতে সিঁদুর নেই। আর তা থেকেই ছড়ায় গুঞ্জন। যদিও এপ্রসঙ্গে মুখে কুলুপ এঁটেছেন দেবলীনা ও তাঁর পরিবার। এমনকী বন্ধু- বান্ধবেরাও কোনও মন্তব্য করছেন না।
তবে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সোনারপুর থানার পুলিশ সূত্রে খবর অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে স্বামী প্রবাহের বিরুদ্ধে থানায় বধূ নির্যাতনের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন দেবলীনা। এর পরে সোনারপুর থানা ২২ জানুয়ারি প্রবাহ এবং তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে ৪৯৮এ ধারায় বধূ নির্যাতনের মামলা দায়ের করে। নোটিস পাঠানো হয় নন্দী পরিবারকে।
পুলিশ সূত্রে আরও খবর, নোটিস পাওয়ামাত্র নাকি মা-বাবাকে নিয়ে থানায় হাজিরা দেন প্রবাহ। তাঁরা পুলিশি তদন্তে যথেষ্ট সহযোগিতা করছেন। ফলে আপাতত তাঁকে গ্রেফতার করা হয়নি। বধূ নির্যাতনের মামলাও এখনও আদালতে ওঠেনি। তবে পুলিশি তদন্ত চলছে। ইতিমধ্যেই 'স্ত্রীধন' হিসাবে বিয়ের সময়ে পাওয়া গয়না, টাকা-পয়সা, আসবাব পুলিশি সহযোগিতায় প্রবাহের বাড়ি থেকে ফেরত পেয়েছেন দেবলীনা। আপাতত উভয়েই আলাদা থাকছেন। শোনা যাচ্ছে, প্রবাহের কাছে খোরপোশ চেয়ে আবেদনও করেছেন।
কী হয়েছিল দেবলীনা নন্দীর?
দেবলীনা আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনা নিয়ে তোলপাড় হয় সোশ্যাল মিডিয়া। ফেসবুক লাইভে এসে দেবলীনা তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের কিছু সমস্যার কথা সকলের সামনে তুলে ধরেন। এরপরই তিনি ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তড়িঘড়ি তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলে। পরে, কলকাতার হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। দেবলীনার কাছের বন্ধু তথা অভিনেতা সায়ক চক্রবর্তীর ভ্লগে, হাসপাতালে থেকে দেবলীনা জানান ঠিক কী কী ঘটেছিল সেই রাত্রে তাঁর সঙ্গে।
দেবলীনা এবং তাঁর পরিবারের তরফে জানা যায়, মূলত গায়িকার মাকে নিয়ে আপত্তি ছিল তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির। সেই সঙ্গে কেরিয়ারেও বাঁধা আসা শুরু হয়। অভিযোগ ওঠে, দেবলীনাকে মারধর করতেন তাঁরা। একবার বাড়ি থেকেও বের করে দিয়েছিলেন। শারীরিকভাবে অনেকটাই সুস্থ হলেও, মানসিকভাবে বিধ্বস্ত অবস্থায় বাড়ি ফেরেন তিনি। সামান্য বিরতি নিয়েই কাজে ফেরেন। এমনকী, এই সময়কালেই জীবনের বড় ব্রেক পান তিনি। প্রথমবার প্লেব্যাকের সুযোগ পান। সেই সঙ্গে একটি ছবিতে অভিনয়ও করবেন তিনি।