
মনামী ঘোষ (ছবি: ইনস্টাগ্রাম) টেলিভিশনের জনপ্রিয় মুখ মনামী ঘোষ। সোস্যাল মিডিয়ায় খুবই সক্রিয় থাকেন অভিনেত্রী। বরাবর নজর কেড়েছেন তাঁর স্টাইল স্টেটমেন্ট দিয়ে। সম্প্রতি, শহরের এক অ্যাওয়ার্ড শোতে ফের নজরকাড়া 'টাপা টিনি গার্ল' মনামী। আবার আলোচনায় তাঁর পোশাক। 'ফিতে পোশাকে' ফ্যাশন দুনিয়ায় আলোড়ন ফেলেছেন। শুধু 'হাটকে' স্টাইল নয়, তাঁর সাজের পেছনে রয়েছে গভীর ও আবেগপ্রবণ ভাবনা। তবে এই প্রথম নয়, বারবার নতুন- নতুন লুক ক্রিয়েট করে বেশ শোরগোল ফেলেছেন।
মনামীর নিত্যনতুন ফ্যাশন
বরাবরই ফ্যাশন সচেতন মনামী। ইন্ডিয়ান হোক বা ওয়েস্টার্ন, শাড়ি থেকে বিকিনি, সব পোশাকেই ঝড় তোলেন টলিউড নায়িকা। নিত্যনতুন ভাবনার পোশাকে ফ্যাশনের নতুন সংজ্ঞা তৈরি করেন নায়িকা। গত বছর, এক অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে তিনি পরেছিলেন সাদা রঙা বার্বি ফ্রক। মনামীর হাতে ছিল একটি ট্রান্সপারেন্ট হ্যান্ডব্যাগ। যাতে ছিল জল ভরা আর সেখানে ছিল একটি মাছ।

তার আগে ২০২৪ সালে, অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে একটি তিনি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন 'ফিউশন' পোশাকে। মনামী তাঁর গাউন বানিয়েছিলেন নকশী কাঁথা দিয়ে। বাংলার সঙ্গে মিলিয়ে ছিলেন পাশ্চাত্যকে। সাদা লাল রঙের পোশাক, সঙ্গে বাংলার নকশী কাঁথা। শুধু তাই নয়, পিঠে লিখেছিলেন কবিতাও। সঙ্গে হেয়ারস্টাইল করেছিলেন বেড়া বিনুনি দিয়ে।
এছাড়াও বহুবার লাইমলাইট কেড়েছেন অভিনেত্রী। কখনও দড়ি দিয়ে তৈরি গাউন, তো কখনও পাটের শাড়ি, আবার তেলেঙ্গানা ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে তাঁর শাড়ির আঁচলজুড়ে ছিল মৃণাল সেনের অবয়ব। এক কথায় বলা যায়, সাজগোজে তাক লাগাতে তাঁর জুড়ি মেলা ভার! তবে তাঁর প্রতিটা লুকে থাকে কিছু বিশেষ ভাবনা, বার্তা।

ফিতে পোশাক চর্চায়
সম্প্রতি, হলুদ রঙের অফ-শোল্ডার পোশাক পরেছেন মনামী। এই পোশাকের বিশেষত্ব হল, তৈরি হয়েছে মেজারিং টেপ অর্থাৎ পোশাক মাপার ফিতে দিয়ে। পোশাকের ওপরের অংশে দেখা যাচ্ছে টেপের ওপরের অংশ। নিচের অংশে কয়েকশো টেপ ঝালরের মতো ঝুলছে। সঙ্গে নিয়েছেন একই উপাদান দিয়ে তৈরি বাক্স-সদৃশ একটি ব্যাগ। অভিনেত্রীর জুতোও ছিল মানানসই, টেপ থিমেই। মনামী জানান, আমাদের সবাইকে সুন্দর করে সাজিয়ে তোলার পেছনে দর্জিদাদাদের বা 'মাস্টারজি'-দের অক্লান্ত পরিশ্রম লুকিয়ে থাকে। ফিতে দিয়ে মাপ নিয়ে কাপড় কেটে পোশাক তৈরি করা, তাঁদের এই প্রতিদিনের সৃষ্টিশীল কাজকে সম্মান জানাতেই অভিনেত্রী এই পোশাক পরার সিদ্ধান্ত নেন।

'বাংলার উরফি জাবেদ'
মনামীকে অনেকেই 'বাংলার উরফি জাবেদ' বলে সম্বোধন করেন। আসলে উরফির মতোই লুক নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা চালিয়ে যান তিনি। তবে নেট দুনিয়ায় ট্রোলড হওয়ার থেকে সকলের ভালোবাসাই বেশি পান তিনি। ফ্যানেরা প্রতিটি পোস্টেই ভরিয়ে দেন ভার্চুয়াল ভালবাসায়। যদি কটাক্ষ প্রসঙ্গে, তাঁকে প্রশ্ন করায়, তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, 'ও তো বহু পুরনো বিষয়'।

সোশ্যাল মিডিয়ার মধ্যমণি
সোশ্যাল মিডিয়ার মধ্যমণি মনামী ঘোষ।এক কথায় টলিউডের ফ্যাশনিয়েস্তা তিনি। ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ারের সংখ্যা প্রায় ২.৩ মিলিয়ন। বিভিন্ন সময় তাঁর শেয়ার করা ফ্যাশনেবল লুকের প্রশংশায় পঞ্চমুখ ফ্যানেরাও। কখনও সাবেকী সাজে তো কখনও 'বোল্ড' তকমা জুড়ে দেন দেন নেটিজেনরা যায় তাঁর লুক দেখে। আর নিজের লুক নিয়ে নায়িকা করতে ভালবাসেন এক্সপেরিমেন্ট। সেই প্রমাণ মেলে, তাঁর সোশ্যাল পেজে চোখ রাখলেই।

প্রসঙ্গত, মাত্র ১৭ বছর বয়সে 'সাতকাহন' ধারাবাহিকের মাধ্যমে অভিনয় জগতে পা রাখেন মনামী ঘোষ। এরপর আর ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। ২৫- ৩০ টি ধারাবাহিকে মুখ্য চরিত্রে দেখা গিয়েছে তাঁকে। ছোট পর্দার পাশাপাশি বড় পর্দা ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও তিনি সকলের মন জয় করেছেন। এছাড়াও বাংলা নাচের রিয়্যালিটি শো-তেও তিনি বসেছেন বিচারকের ভূমিকায়। অভিনয় ছাড়াও নাচের মাধ্যমে বারবার সকলের মনের একেবারে কাছে পৌঁছেছেন 'ডান্সিং ক্যুইন' মনামী।