scorecardresearch
 
 

মা উড়ালপুলে গাড়ি রেখে নাইটি পরে উদ্দাম নাচ স্যান্ডির! জরিমানা চালককে

মা উড়ালপুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও বানাতে গিয়ে বিতর্কে ইউটিউবার স্যান্ডি সাহা। সোমবার সন্ধ্যে ছটা নাগাদ তাঁর ফেসবুক পেজে পোস্ট করা ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, একটি পাঁচতারা হোটেলের সামনে উড়ালপুলের ওপরেই, আচমকা গাড়ি দাঁড় করিয়ে বৃষ্টির মধ্যে উদ্দাম নৃত্যে মেতেছেন স্যান্ডি সাহা।

মা উড়ালপুলে স্যান্ডির সাহা। ছবি-ফেসবুক মা উড়ালপুলে স্যান্ডির সাহা। ছবি-ফেসবুক
হাইলাইটস
  • মা উড়ালপুলে নাইটি পরে উদ্দাম নেচে বিতর্কে স্যান্ডি
  • ক্ষুব্ধ কলকাতা পুলিশ
  • জরিমানা গাড়িচালককে

মা উড়ালপুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও বানাতে গিয়ে বিতর্কে ইউটিউবার স্যান্ডি সাহা। সোমবার সন্ধ্যে ছটা নাগাদ তাঁর ফেসবুক পেজে পোস্ট করা ওই ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, একটি পাঁচতারা হোটেলের সামনে উড়ালপুলের ওপরেই, আচমকা গাড়ি দাঁড় করিয়ে বৃষ্টির মধ্যে উদ্দাম নৃত্যে মেতেছেন স্যান্ডি সাহা। আর তার জেরেই আইনি প্যাঁচে পড়েছেন ওই গাড়ির মালিক এবং চালক দুজনেই। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ লালবাজার স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে মামলা রুজু করে ওই গাড়ির মালিককে মঙ্গলবার সকালেই নোটিশ ধরিয়েছে। ওই গাড়ির চালকসহ তাঁকে আগামীকাল ডেকে পাঠানো হয়েছে লালবাজারে। এদিনই ড্রাইভিং লাইসেন্স বাজেয়াপ্ত করে জরিমানা করা হয়েছে গাড়ির চালককে, লিখিয়ে নেওয়া হয়েছে মুচলেকাও। সোশ্যাল মিডিয়ায় স্যান্ডি সাহার পোস্ট করা ভিডিওটির পাশাপাশি ওই উড়ালপুলের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে গাড়ির মালিককে চিহ্নিত করেছে লালবাজারের ট্রাফিক কন্ট্রোল রুম। 

ঠিক কী অভিযোগ

সোমবার সন্ধ্যেয় স্যান্ডি সাহার ফেসবুক প্রোফাইল থেকে প্রকাশ্যে আসা ভিডিওটিতে দেখা যায়, মা উড়ালপুলের ওপর আচমকা গাড়ি দাঁড় করিয়ে দুই লেনের মাঝে ডিভাইডারের ওপর দাঁড়িয়ে নাইটি পড়ে নাচছেন স্যান্ডি। ব্যস্ততম সময়ে দুই পাশের লেন দিয়ে দ্রুত গতিতে ছুটে চলেছে গাড়ি, তার মধ্যেই একাধিকবার উড়ালপুলের উপরে রাস্তা পার হতে দেখা যায় স্যান্ডিকে। আর তার এই কৃতকর্মের জেরেই সমস্যায় পড়েছেন গাড়ির মালিক ও চালক। কারণ, উড়ালপুলের ওপর মাঝরাস্তায় এভাবে গাড়ি দাঁড় করানো আইনবিরুদ্ধ। মা উড়ালপুলে বিভিন্ন কারণে হামেশাই গাড়ি দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। এক্ষেত্রেও যে কোনো দুর্ঘটনা ঘটতেই পারতো বলে পুলিশ কর্তাদের দাবি।

কলকাতা ট্রাফিক পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার সকালে ট্রাফিক কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে লালবাজারের উচ্চপদস্থ কর্তাদের নজরে আসে স্যান্ডি সাহার এই ভিডিওটি। যা দেখে বেজায় চটেছেন ট্রাফিক পুলিশের আধিকারিকরা। এর পরেই মা উড়ালপুলের ওই অংশটি যে ট্রাফিক গার্ডের অধীনে পড়ে, সেই তিলজলা ট্রাফিক গার্ডকে অবিলম্বে স্বতঃপ্রণোদিত ভাবে মামলা রুজু করার নির্দেশ দেওয়া হয়। কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (ট্রাফিক) অরিজিত সিংহ জানান, লালবাজারের স্পেশাল রেইড সেকশন ওই গাড়ির মালিককে অবৈধ পার্কিং এর দায়ে ইতিমধ্যেই নোটিশ পাঠিয়েছে। 

কী জানাচ্ছে পুলিশ

পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার ঘটনাটি নজরে আসার পর খতিয়ে দেখা হয় মা উড়ালপুল এর সিসিটিভি ফুটেজ। শহরের যে কোনও উড়ালপুলে বিনাকারণে গাড়ি দাঁড় করানোয় নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও, পুলিশের নজর এড়িয়ে কিভাবে দিনের প্রকাশ্য আলোয় ঘটনাটি ঘটে গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে পুলিশ মহলেই। পুলিশ সূত্রে খবর, প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে খতিয়ে দেখা হচ্ছে উড়ালপুলের সিসিটিভি ফুটেজ। পুলিশ সূত্রে দাবি, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ইতিমধ্যেই ওই গাড়ির মালিককে চিহ্নিত করে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। পানিহাটির বাসিন্দা রবীন্দ্রনাথ নন্দী নামে ওই গাড়ির মালিককে আগামীকাল বুধবার লালবাজারে ডেকে পাঠানো হয়েছে। নোটিশ পেয়ে মঙ্গলবার দুপুরেই লালবাজারে হাজির হন গাড়ির চালক গৌরাঙ্গ জানা। সূত্রের খবর, অভিযুক্ত চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স বাজেয়াপ্ত করে তাকে জরিমানাও করেছে পুলিশ। 

ক্ষোভ প্রকাশ গাড়ি চালকের

মঙ্গলবার লালবাজার থেকে বেরিয়ে ওই গাড়ির চালক গৌরাঙ্গ জানা বলেন, "আমি একটি অ্যাপ ক্যাব চালাই। সোমবার ওনারা ৩ ঘণ্টার জন্য আমার গাড়িটি ভাড়া নেন। এরপর আমাকে মা উড়ালপুলের ওপর গাড়ি দাঁড় করাতে বললে আমি নিষেধাজ্ঞার কথা বলি। তখন প্রথমে আমাকে বলা হয় ওনাদের নাকি কিছু বলে না, অনুমতি নেওয়া আছে। কিন্তু আমি পুলিশের ঝামেলার কথা বললে আমাকে স্যান্ডি সাহা বলেন, পুলিশ এসে পড়লে একটু গাড়ি খারাপ হয়ে যাওয়ার নাটক করেতে"। লালবাজার সূত্রে খবর, এদিন জরিমানা ও লাইসেন্স বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি দ্বিতীয়বার এই ভুলের পুনরাবৃত্তি হবে না তার মুচলেকাও লিখিয়ে নেওয়া হয়েছে চালক গৌরাঙ্গ জানার থেকে। অন্যের ভুলে মুচলেকা ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পর গৌরাঙ্গ বাবুর আক্ষেপ, "দিনে সামান্য যে কটা টাকা কামাই, তা চলেই গেল। ক্ষতিপূরণ চাইতে স্যান্ডি সাহাকে ফোন করেছিলাম কিন্তু ফোন না ধরলে কি করব? আমি তো আর ওনার সাথে ঝগড়া করতে পারবোনা!" এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে আজ তক বাংলার তরফে স্যান্ডি সাহার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তাঁর ফোন সুইচ অফ ছিল।