Swastika Mukherjee On Oil Putting: নিকুচি করেছে ফ্যাশন! মাথায় তেল মেখে প্লেনে চড়লেন স্বস্তিকা, ভাঙলেন তথাকথিত ধারণা

Swastika Mukherjee News: আলোচনা শীর্ষ থাকলেও 'বোল্ড অ্যান্ড হট' অভিনেত্রী স্বস্তিকা, তাঁর ব্যক্তিত্বের জন্যে সবসময় ইন ও এভারগ্রীন। সেই সঙ্গে তাঁর স্টাইল স্টেটমেন্টও নজরকাড়া। নিত্য নতুন ফ্যাশন গোলস সেট করেন স্বস্তিকা।

Advertisement
মাথায় তেল মেখে প্লেনে চড়লেন স্বস্তিকা, ভাঙলেন তথাকথিত ধারণাস্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় (ছবি: ফেসবুক)

দুই দশকের বেশি সময় ধরে নিজের অসামান্য অভিনয় দক্ষতার জন্য সকলের মন জয় করছেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। একাধিক চ্যালেঞ্জিং চরিত্রের মাধ্যমে বারবার দর্শকদের মন ছুঁয়েছেন। বড়পর্দা থেকে শুরু করে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম- টলিউডের পাশাপাশি বলিউডেও দাপিয়ে কাজ করছেন অভিনেত্রী। মনের কথা অকপটেই বলে ফেলেন নায়িকা। সেজন্যে প্রায়শই থাকেন জল্পনার শীর্ষে। এমনকী ইন্ডাস্ট্রিতে 'ঠোঁট কাটা' নামেও পরিচিত সে। 
 
আলোচনা শীর্ষ থাকলেও 'বোল্ড অ্যান্ড হট' অভিনেত্রী স্বস্তিকা, তাঁর ব্যক্তিত্বের জন্যে সবসময় ইন ও এভারগ্রীন। সেই সঙ্গে তাঁর স্টাইল স্টেটমেন্টও নজরকাড়া। নিত্য নতুন ফ্যাশন গোলস সেট করেন স্বস্তিকা। তবে নেটমাধ্যমে কম ট্রোলিংয়ের শিকার হতে হয় না তাঁকে। পান থেকে চুন খসলেই, তাঁর দিকে ধেয়ে আসে কটাক্ষ। 

বাংলায় প্রচলিত প্রবাদ, 'তেলে চুল তাজা, জলে চুন তাজা'। ছোটবেলা থেকেই মা- ঠাকুমাদের মুখে শোনা যায়, তেলে- জলে চুল বাড়ে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ধারণা পাল্টেছে। একটু বয়স বাড়লেই চুলে তেল লাগিয়ে বেরনো 'আউট অফ ফ্যাশন' হয়েছে। বিশেষত মহিলাদের স্কুল- কলেজ বা কর্মক্ষেত্রে এজন্যে হাসির পাত্রও হতে হয়েছে। এবার ফ্যাশন নিয়ে সেই তথাকথিত ধারণা ভেঙেছেন স্বস্তিকা। সম্প্রতি নিজের সোশ্যাল পেজে, মেয়ে অন্বেষার সঙ্গে বেশ কিছু ছবি শেয়ার করেছিলেন নায়িকা। সেখানেই স্পষ্ট করেছেন তাঁর বক্তব্য।   

পুরনো দিনের স্মৃতিচারণ করে অভিনেত্রী লিখেছেন, "মানি যখন পুট্টাপার্থীতে হোস্টেলে পড়ত, সপ্তাহে দু’দিন ওদের অয়েল পুট ডে ছিল। ফোনে বলত, মা আজকে আমার অয়েল পুট হয়েছে। আর ওয়ার্ডেন আন্টি বলেছেন জ্যাসমিন অয়েল না দিতে। কারণ তাতে করে মাথায় উকুন হতে পারে, তাই শুধু কোকোনাট অয়েল। মানিকে যখন দেখতে যেতাম, দুটো লম্বা সুন্দর বিনুনি ঝুলিয়ে আসত, মাথায় নারকেল তেল দিয়ে পরিপাটি করে বাঁধা।" 

স্বস্তিকা যোগ করেন, "আমিও ছোটবেলায় এবং বড়বেলায় যতদিন লম্বা চুল ছিল, মাথায় তেল লাগিয়ে সর্বত্র গিয়েছি। সময়ের সঙ্গে কখন যে চুলে তেল মাখা বা তেলা মাথায় বাড়ি থেকে বেরনোটা গাইয়া ব্যাপার হয়ে গেল বুঝলাম না। মা মাসিরা তো সারাজীবন চুলে তেল দিয়ে অফিস, সংসার, বাজার, বেড়াতে যাওয়া সবই করল। আজকাল সবাই পার্লার এ গিয়ে অয়েল ম্যাসাজ নিয়েই শ্যাম্পু করে ফেলে। বাড়িতে তেল মাখার পাঠ চুকে গিয়েছে। পুরো জীবনটাই কেমন শুধু ইনস্টাগ্রামে দেওয়া যাবে তো - তাহলেই হল মার্কা হয়ে গিয়েছে।" 

Advertisement

অভিনেত্রী লেখেন, "রিসেন্টলি একটা কাজে পন্ডিচেরি গেছিলাম। ওরা এখনও কেমন নিজেদের স্বাভাবিক জীবনযাপন কে ধরে রেখেছে। সব করছে, বাড়িতে বাইরে কাজ, পড়াশোনা, আনন্দ হুল্লোর কিন্তু স্বাভাবিকতা রেখে। আমরা দিনে দিনে কেমন যেন একটা হয়ে যাচ্ছি আর এই শুধু লোক দেখানোর জন্য বেঁচে থাকা খুবই ক্লান্তিকর। সেদিন পন্ডিতে কাজ শেষে একটা আয়ুর্বেদিক জায়গায় গিয়ে খুব করে তেল মাখলাম। হলুদও মাখলাম। দোকানের মেয়েটি আমায় বারবার বলল ম্যাম শ্যাম্পু করে নেবেন? ভাবলাম না করব না। মাথায় তেল থাকুক। এরম করেই প্লেন ধরে ফিরব। তাতে আমার স্টাইল স্টেটমেন্ট কতটা নষ্ট হয় দেখি। লোকে আমার দিকে- 'আমি অন্য গ্রহ থেকে এসেছি' মার্কা দেখছে কিনা তাও দেখি। পরের দিন হোটেল থেকে বেরনোর সময় স্নান করে রেডি হচ্ছি, মানির সেই অয়েল পুট এর কথা মনে পরে গেল।" 

 

 

প্রসঙ্গত, নিন্দুকরা শত কটূকথা বললেও, 'কেয়ার নট অ্যাটিটিউটই' রাখতে পছন্দ করেন স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়। এই আচরণের জন্যেই তিনি বহু মানুষের মনের খুব কাছের। টলিউডের পাশাপাশি জমিয়ে কাজ করছেন বি- টাউনেও। এজন্যে মুম্বইতে তাঁর যাতায়াত লেগেই থাকে। মায়ানগরীতেও তাঁর কাজ যথেষ্ট প্রশংসিত। ১৯৯৮ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে বিখ্যাত রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী সাগর সেনের ছেলে, প্রমিত সেনের সঙ্গে স্বস্তিকার বিয়ে হয়। কিন্তু বৈবাহিক জীবন একদমই সুখকর হয়নি অভিনেত্রীর। গর্ভবতী অবস্থায়ও শিকার হতে হয়েছে নির্যাতনের। বিয়ের দু' বছরের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়ে যায় তাঁদের। প্রমিত- স্বস্তিকার একমাত্র মেয়ে অন্বেষা, নায়িকার সঙ্গেই থাকেন। মা- মেয়ের নানা মুহূর্তের সাক্ষী থাকে নেটিজেনরা। 

 

POST A COMMENT
Advertisement