Murder Case: নতুন বাথরুমের চকচকে টাইলস, ভাঙতেই বিকট গন্ধ! গ্রেফতার স্ত্রী

৪৫ দিন ধরে নিখোঁজ স্বামী। এদিকে স্ত্রীর হেলদোল নেই। পরিবারের সদস্যদের বলছিলেন, 'কোথাও গিয়েছেন, অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই ফিরে আসবেন।' কিন্তু শেষ পর্যন্ত যা হল, তা কোনও ক্রাইম থ্রিলারকেও হার মানাবে। 

Advertisement
নতুন বাথরুমের চকচকে টাইলস, ভাঙতেই বিকট গন্ধ! গ্রেফতার স্ত্রীশেষ পর্যন্ত যা হল, তা কোনও ক্রাইম থ্রিলারকেও হার মানাবে। 
হাইলাইটস
  • ৪৫ দিন ধরে নিখোঁজ স্বামী, স্ত্রীর হেলদোল নেই। 
  • শেষ পর্যন্ত যা হল, তা কোনও ক্রাইম থ্রিলারকেও হার মানাবে।
  • নতুন টাইলসের নিচেই মিলল ব্যক্তির পচাগলা দেহ। 

৪৫ দিন ধরে নিখোঁজ স্বামী। এদিকে স্ত্রীর হেলদোল নেই। পরিবারের সদস্যদের বলছিলেন, 'কোথাও গিয়েছেন, অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই ফিরে আসবেন।' কিন্তু শেষ পর্যন্ত যা হল, তা কোনও ক্রাইম থ্রিলারকেও হার মানাবে। বাড়ির বাথরুমের নতুন টাইলসের নিচেই মিলল ব্যক্তির পচাগলা দেহ। ঘটনায় স্ত্রীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উত্তরপ্রদেশের আগ্রার ঘটনায় চক্ষু চড়কগাছ পুলিশেরও।

প্রায় দেড় মাস ধরে এক ব্যক্তির নিখোঁজ হওয়াকে কেন্দ্র করে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করলেও তাঁর কোনও সন্ধান মেলেনি। শেষ পর্যন্ত পুলিশের তদন্তেই সামনে আসে ভয়ঙ্কর সত্য। বাড়ির বাথরুমের মেঝের নীচে পুঁতে রাখা হয়েছিল ওই ব্যক্তির দেহ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ মনে করছে, খুনের পর পরিকল্পিত ভাবে প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করা হয়েছিল।

মৃতের নাম সুরেন্দ্র কুমার শর্মা (৪৪)। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৮ মে থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। তাঁর স্ত্রী রুবি পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন এবং প্রতিবেশীদের জানিয়ে আসছিলেন, সুরেন্দ্র কোথাও চলে গিয়েছেন এবং কিছু দিনের মধ্যেই ফিরে আসবেন। পরে ২৬ মে একটি নিখোঁজ ডায়েরিও করা হয়।

তদন্তে রুবির বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। শুক্রবার ফের পুলিশ তাঁদের বাড়িতে যায়। সেই সময় রুবির আচরণ সন্দেহজনক বলে মনে হয় তদন্তকারীদের। একই সময়ে সুরেন্দ্রর ভাই অনিল শর্মাও পুলিশকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। এরপরই গোটা বাড়িতে তল্লাশি শুরু হয়।

তল্লাশির সময় বাথরুমের মেঝেতে নতুন টাইলস এবং সদ্য করা প্লাস্টারের চিহ্ন দেখতে পান তদন্তকারীরা। সন্দেহ হওয়ায় ওই অংশ খোঁড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিছু ক্ষণের মধ্যেই টাইলসের নীচ থেকে উদ্ধার হয় সুরেন্দ্রর পচাগলা দেহ। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। বাড়ির সামনে ভিড় জমাতে শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, খুনের পর দেহটি বাথরুমের মেঝের নিচে পুঁতে দেওয়া হয়। তার উপরে মাটি ফেলে প্লাস্টার করে নতুন টাইলস বসানো হয়েছিল, যাতে কেউ সন্দেহ না করে। এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত ছিলেন কি না, তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

Advertisement

জিজ্ঞাসাবাদের সময় রুবি খুনের কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশের দাবি। তদন্তে জানা গিয়েছে, ঘটনার আগেই তিনি বাথরুম সংস্কারের জন্য এক রাজমিস্ত্রি এবং কয়েক জন শ্রমিকের ব্যবস্থা করেছিলেন। তবে খুনের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং পুরো ঘটনার ক্রম এখনও তদন্তাধীন। সমস্ত প্রমাণ খতিয়ে দেখার পরই এই বিষয়ে নিশ্চিত হতে চাইছে পুলিশ।

মৃতের ভাই অনিল শর্মা জানিয়েছেন, সুরেন্দ্র নিয়মিত মদ্যপান করতেন। সেই কারণেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই অশান্তি হত। সুরেন্দ্র নিখোঁজ হওয়ার পর রুবিই প্রথম পরিবারের সদস্যদের খবর দেন এবং পরে নিখোঁজ ডায়েরিও করেন। দীর্ঘ দিন খোঁজাখুঁজির পরও তাঁর কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। শেষ পর্যন্ত পুলিশের তদন্তেই সামনে আসে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা।

পুলিশ দেহটি ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে। ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের দল ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করেছে। পাশাপাশি, এই খুনের ঘটনায় কোনও বৃহত্তর ষড়যন্ত্র ছিল কি না এবং অন্য কারও ভূমিকা রয়েছে কি না, তা-ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

হরিপর্বতের এসিপি হেমন্ত পটেল জানিয়েছেন, মৃতদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। সুরেন্দ্রর স্ত্রীকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এই ঘটনায় অন্য কেউ যুক্ত ছিলেন কি না, সেই বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। 

POST A COMMENT
Advertisement