ঘর খালি করতে নিজের মেয়েকেই খুন করেছেন এক বাবা।বাঁকুড়ায় হাড়হিম ঘটনা। অভিযোগ, ঘর খালি করতে নিজের মেয়েকেই খুন করেছেন এক বাবা। নিথর দেহ বস্তাবন্দি করে ফেলে দেওয়া হয়েছিল জঙ্গলের ভিতরের কুয়োয়। টানা ১৩ দিন নিখোঁজ থাকার পর কুয়ো থেকে উদ্ধার হল পচাগলা দেহ। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। অভিযুক্ত বাবাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সূত্রের খবর, ঘটনাটি বাঁকুড়ার সদর থানার অন্তর্গত শ্যামপুর গ্রামের। মৃতার নাম ভবানী মাল। বছর দুয়েক আগে তাঁর বিয়ে হয়েছিল বিকনা গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই স্বামীর সঙ্গে বনিবনা হয়নি। বিয়ের তিন মাসের মধ্যেই বাপের বাড়িতে ফিরে আসেন ভবানী। এরপর থেকেই বাপেরবাড়ির দু’টি ঘরের মধ্যে একটি ঘরে একাই থাকতে শুরু করেন তিনি।
অন্যদিকে, ভবানীর বাবা ঈশান মাল দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী ও চার সন্তানকে নিয়ে অপর একটি ঘরে থাকতেন। অভিযোগ, ছোট সেই ঘরে সকলকে নিয়ে থাকতে তাঁর অসুবিধা হচ্ছিল। সেই কারণেই বারবার মেয়েকে ঘর ছেড়ে দেওয়ার কথা বলছিলেন ঈশান। কিন্তু ভবানী ঘর ছাড়তে রাজি হননি। স্থানীয় সূত্রে খবর, হেলনা ও শুশুনিয়া গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করে নিজের সংসার চালাতেন ভবানী।
গত ১৪ ডিসেম্বর আচমকাই নিখোঁজ হয়ে যান তিনি। প্রথমে বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিলেও, নিখোঁজের প্রায় ১৩ দিন পর বাঁকুড়া সদর থানায় ডায়েরি করেন ভবানীর বাবা। এর মধ্যেই ৩১ ডিসেম্বর ওন্দা থানার অন্তর্গত দিগশুলির জঙ্গলে কাঠ কুড়াতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা পচা গন্ধ পান। তাঁরা একটি কুয়োর মধ্যে বস্তা ভাসতে দেখেন। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় ওন্দা থানায়।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কুয়ো থেকে বস্তাটি উদ্ধার করে। বস্তার ভিতর থেকে উদ্ধার হয় ভবানী মালের পচাগলা নিথর দেহ। এরপরই খুনের মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তে নেমে একাধিক সূত্র ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় পরিবারের সদস্যদের। তখনই পুলিশের সন্দেহ গিয়ে পড়ে ভবানীর বাবার দিকে।
পুলিশি জেরায় ঈশান মাল নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন বলে সূত্রের খবর। তদন্তকারীদের কাছে তিনি জানান, মেয়ের একা একটি ঘর দখল করে থাকায় তিনি ও তাঁর দ্বিতীয় পক্ষের পরিবার সমস্যায় পড়ছিলেন। সেই কারণেই ক্ষোভের বশে ইট দিয়ে থেঁতলে মেয়েকে খুন করেন তিনি। পরে প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে দেহ বস্তাবন্দি করে জঙ্গলের কুয়োয় ফেলে দেন।
ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিজের মেয়েকে খুনের অভিযোগে বাবার গ্রেফতারিতে হতবাক প্রতিবেশীরা। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতকে আদালতে পেশ করে হেফাজতে নেওয়া হবে। তদন্তে আর কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই নৃশংস ঘটনায় আবারও প্রশ্ন উঠছে, পারিবারিক অশান্তি ও সম্পত্তি-ঘর সংক্রান্ত বিবাদ কীভাবে এমন ভয়াবহ পরিণতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে মানুষকে।
সংবাদদাতা: নির্ভীক চৌধুরী