স্বামীকে খুন করে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা, বরেলিতে গ্রেফতার স্ত্রী-সহ তিন

তদন্তে নেমে পুলিশ জিতেন্দ্রর স্ত্রী জ্যোতি, তার বাবা কালিচরণ ও মা চামেলিকে গ্রেফতার করেছে। জেরায় উঠে এসেছে, অনলাইন জুয়ায় টাকা হারানো নিয়ে দাম্পত্য কলহ চরমে ওঠে। সেই সময়েই জ্যোতি স্বামীর গলা চেপে ধরেন।

Advertisement
স্বামীকে খুন করে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা, বরেলিতে গ্রেফতার স্ত্রী-সহ তিন

প্রজাতন্ত্র দিবসে উত্তরপ্রদেশের বরেলিতে যে মৃত্যুকে প্রথমে আত্মহত্যা বলে ধরা হয়েছিল, কিন্তু পরে তদন্তে তা খুন বলে স্পষ্ট হয়ে যায়। ইজ্জতনগর থানার কৈলাশপুরম কলোনিতে ২৬ জানুয়ারি জিতেন্দ্র যাদবের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার অনুমান করা হলেও, ময়নাতদন্তে শ্বাসরোধ করে খুনের প্রমাণ মেলায় ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায়।

তদন্তে নেমে পুলিশ জিতেন্দ্রর স্ত্রী জ্যোতি, তার বাবা কালিচরণ ও মা চামেলিকে গ্রেফতার করেছে। জেরায় উঠে এসেছে, অনলাইন জুয়ায় টাকা হারানো নিয়ে দাম্পত্য কলহ চরমে ওঠে। সেই সময়েই জ্যোতি স্বামীর গলা চেপে ধরেন। পরে খুনের প্রমাণ লোপাট করতে বাপের বাড়ির লোকজনের সঙ্গে মিলেই দেহটি মাফলার দিয়ে ঝুলিয়ে আত্মহত্যার রূপ দেওয়ার চেষ্টা হয়।

ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশের সন্দেহ বাড়ে দেহের অবস্থান দেখে। জিতেন্দ্রর দেহ ভেন্টিলেটর থেকে ঝুলছিল ঠিকই, কিন্তু পা রাখা ছিল নিচের টুলে যা আত্মহত্যার সম্ভাবনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। ফরেনসিক পরীক্ষায় এই অসঙ্গতি ধরা পড়ে। পাশাপাশি, কল ডিটেল রেকর্ডে দেখা যায়, ঘটনার পর জ্যোতি প্রথমে পুলিশ বা শ্বশুরবাড়িতে নয়, ফোন করেছিলেন নিজের বাপের বাড়িতে। কড়া জেরায় শেষ পর্যন্ত তিনি অপরাধ স্বীকার করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, জিতেন্দ্র ও জ্যোতির প্রেমবিবাহ হয় ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর। দীর্ঘ ৯ বছরের সম্পর্কের পর বিয়ে হলেও, অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই জ্যোতি স্বামীর উপর পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে তার নামে বাড়ি ও গাড়ি কেনার চাপ দিচ্ছিলেন। দাবি পূরণ না হলে মিথ্যা পণ নির্যাতনের মামলায় ফাঁসানোর হুমকিও দেওয়া হত। ২৬ জানুয়ারি অনলাইন জুয়ায় ২০ হাজার টাকা হারানো নিয়ে তীব্র ঝগড়ার জেরেই খুনের ঘটনা ঘটে বলে পুলিশের অনুমান।

এসএসপি অনুরাগ আর্যের নির্দেশে ইজ্জতনগর থানার পুলিশ তদন্ত জোরদার করে। প্রথমে ‘আত্মহত্যায় প্ররোচনা’ ধারায় দায়ের হওয়া মামলাটি পরে খুনের ধারায় রূপান্তরিত হয়। ৩১ জানুয়ারি কবরস্থানের কাছে থেকে তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। আদালত তাদের জেল হেফাজতে পাঠিয়েছে।

Advertisement

 

POST A COMMENT
Advertisement