সংস্থার অফিসে হানা দিয়ে কয়েক জন মহিলাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। Burdwan Cyber Fraud: ঋণ দেওয়ার নাম করে ফোন। তার পর নানা কৌশলে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য। সেই তথ্য ব্যবহার করেই হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। দীর্ঘদিন চলছিল কারবার। বর্ধমান শহরে এক Loan কোম্পানির আড়ালে চলা প্রতারণা চক্রের পর্দাফাঁস করল পুলিশ। সংস্থার অফিসে হানা দিয়ে কয়েক জন মহিলাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ধরা পড়েছেন চক্রের মূল পাণ্ডাও।
পুলিশ সূত্রে খবর, ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো (NCRB)-এর পোর্টালে জমা পড়া অভিযোগের সূত্র ধরে এই তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে উঠে আসে একটি কল সেন্টারের বিষয়ে জানা যায়। অভিযোগ, পূর্ব বর্ধমান ছাড়াও রাজ্যের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দাদের ফোন করা হত ওই কেন্দ্র থেকে। ঋণ পাইয়ে দেওয়ার টোপ দেওয়া হত। তারপর নানা অছিলায় তাঁদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নেওয়া হত।
জামতাড়া কায়দায় লোনের টোপ!
তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, প্রতারণার কৌশল অনেকটা জামতাড়া গ্যাংয়ের ধাঁচের। প্রথমে ফোন করে বলা হত, সহজেই ঋণ মিলবে। খুব কম কাগজপত্রে এবং কম সময়েই টাকা পাওয়ার আশ্বাস দেওয়া হত।
এরপর শুরু হত আসল খেলা। ঋণ দেওয়ার আগে বিভিন্ন তথ্য চাওয়া হত। কখনও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য। কখনও পরিচয়পত্রের বিবরণ। আবার কখনও অন্য কোনও নথির তথ্য নেওয়া হত বলে অভিযোগ।
এর পর সেই তথ্য ব্যবহার করে প্রতারণা করা হত বলে অভিযোগ। কত জন এই চক্রের শিকার হয়েছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
বর্ধমান শহরেই চলছিল ‘কল সেন্টার’
বর্ধমান শহরের তিনকোনিয়া বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন গুডস শেড রোডের একটি বহুতলের দোতলায় এই কারবার চলছিল।
বাইরে থেকে দেখে সেটিকে সাধারণ অফিস বা কল সেন্টার বলেই মনে হতে পারে। কিন্তু পুলিশের অভিযোগ, সেই অফিস থেকেই বিভিন্ন মানুষকে ফোন করে ঋণের প্রস্তাব দেওয়া হত।
এই অফিস থেকে বিপুল পরিমাণে ফোন নম্বর এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার হয়েছে বলে খবর।
৫৮০০ মোবাইল নম্বরের তালিকা উদ্ধার
পুলিশের অভিযানে উদ্ধার হওয়া জিনিসপত্রের তালিকাও বেশ লম্বা। তদন্তকারীদের হাতে প্রায় ৫৮০০ মোবাইল নম্বরের একটি লিস্ট এসেছে বলে জানা গিয়েছে।
এছাড়াও উদ্ধার হয়েছে ১২টি সিম কার্ড। একটি ল্যাপটপ। চারটি ডেস্কটপ কম্পিউটার। আটটি মোবাইল ফোন। বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ।
পুলিশের অনুমান, একটি বড় ডেটাবেস হাতে নিয়ে বিভিন্ন নম্বরে ফোন করা হত। ঋণের প্রয়োজন রয়েছে এমন মানুষকে টার্গেট করেই ফোন করা হত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।