Chandranath Rath Murder Case: খতরনাক! বলিয়ার 'শার্প শ্যুটার' রাজ সিংকে চিনে নিন, চন্দ্রনাথ খুনে ধৃতদের একজন

Chandranath Rath Murder Case: শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ খুনকাণ্ডে তদন্তে বড় সাফল্য পুলিশের। উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলিয়ার রাজ সিং ওরফে চন্দনকে। তদন্তকারীদের দাবি, এই খুনের ঘটনায় বিহার এবং পূর্বাঞ্চলের পেশাদার শ্যুটারদের বরাত দেওয়া হয়েছিল।

Advertisement
খতরনাক! বলিয়ার 'শার্প শ্যুটার' রাজ সিংকে চিনে নিন, চন্দ্রনাথ খুনে ধৃতদের একজনতদন্তকারীদের দাবি, এই খুনের ঘটনায় বিহার এবং পূর্বাঞ্চলের পেশাদার শ্যুটারদের ব্যবহার করা হয়েছিল।
হাইলাইটস
  • শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ খুনকাণ্ডে তদন্তে বড় সাফল্য পুলিশের।
  • উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলিয়ার রাজ সিং ওরফে চন্দনকে।
  • তদন্তকারীদের দাবি, এই খুনের ঘটনায় বিহার এবং পূর্বাঞ্চলের পেশাদার শ্যুটারদের ব্যবহার করা হয়েছিল।

Chandranath Rath Murder Case: শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ খুনকাণ্ডে তদন্তে বড় সাফল্য পুলিশের। উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলিয়ার রাজ সিং ওরফে চন্দনকে। তদন্তকারীদের দাবি, এই খুনের ঘটনায় বিহার এবং পূর্বাঞ্চলের(উত্তরপ্রদেশের) পেশাদার শ্যুটারদের বরাত দেওয়া হয়েছিল। বালি টোলপ্লাজায় ইউপিআই পেমেন্টের সূত্র ধরেই অভিযুক্তদের নাগাল পেয়েছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই কলকাতা পুলিশ এবং উত্তরপ্রদেশ পুলিশের যৌথ অভিযানে একাধিক সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে।

গত ৬ মে রাতে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে প্রকাশ্যে গুলি করে খুন করা হয় শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহকারী চন্দ্রনাথ রথকে। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, পুরো হামলাটি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছিল। মুখোশ পরা আততায়ীরা প্রথমে চন্দ্রনাথের এসইউভির পথ আটকে দেয়। তারপর এলোপাথাড়ি গুলি চালানো হয়। ঘটনাস্থলেই গুরুতর জখম হন চন্দ্রনাথ। পরে হাসপাতালে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। আহত হন তাঁর গাড়ির চালকও।

হামলার পর আততায়ীরা একটি রুপোলি রঙের গাড়িতে করে পালাচ্ছিল। পালানোর সময় বালি টোলপ্লাজায় ইউপিআইয়ের মাধ্যমে টোলের টাকা মেটানো হয়েছিল। সেখানেই বড় ভুল করে ফেলেছিল অভিযুক্তরা। তদন্তকারীরা ওই ডিজিটাল লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত মোবাইল নম্বর ট্র্যাক করে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পান। পাশাপাশি টোলপ্লাজার হাই ডেফিনিশন সিসিটিভি ক্যামেরাতেও ধরা পড়ে গাড়ি এবং যাত্রীদের ছবি। সেই ফুটেজ বিশ্লেষণ করেই তদন্ত এগোয়।

পুলিশ সূত্রে খবর, খুনে ব্যবহৃত গাড়িটিতে ভুয়ো নম্বর প্লেট লাগানো ছিল। তদন্তকারীদের দাবি, শিলিগুড়ির একটি আসল গাড়ির নম্বর নকল করে ‘ক্লোন নম্বর প্লেট’ তৈরি করা হয়েছিল। অনলাইন সেল পোর্টালে থাকা গাড়ির ছবি দেখে এই নম্বরপ্লেট বানানো হয়েছিল বলে অনুমান। উদ্দেশ্য ছিল তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করা। তবে প্রযুক্তিগত তথ্য এবং সিসিটিভি ফুটেজের জেরে সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।

অযোধ্যা থেকে ধৃত রাজ সিং ওরফে চন্দনের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক অপরাধমূলক অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২০ সালে এক ডিম ব্যবসায়ী খুনের মামলায় তাঁর নাম জড়িয়েছিল। বর্তমানে তিনি জামিনে ছিলেন। তদন্তকারীদের দাবি, রাজ সিংয়ের সঙ্গে বিহার এবং পূর্বাঞ্চলের অপরাধচক্রের যোগাযোগ রয়েছে। তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলেও একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে ছবি পাওয়া গিয়েছে।

Advertisement

এই ঘটনায় বিহারের বক্সার থেকেও দু’জন সন্দেহভাজনকে আটক করেছে পুলিশ। তাঁদের নাম ময়ঙ্ক রাজ মিশ্র এবং বিকি মৌর্য। তদন্তকারীদের অনুমান, পেশাদার শ্যুটার হিসেবেই তাঁদের ব্যবহার করা হয়েছিল। ধৃতদের কলকাতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। খুনের নেপথ্যে কারা রয়েছে এবং এই হামলার মূল চক্রী কে, তা জানার চেষ্টা চলছে।

পুলিশের একাংশের মতে, গোটা ঘটনাটি অত্যন্ত পেশাদার কায়দায় ঘটানো হয়েছে। ভুয়ো নম্বর প্লেট, ক্লোন গাড়ি, বাইক ব্যবহার এবং চেসিস নম্বর নষ্ট করে দেওয়া; সব কিছুই পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ডিজিটাল পেমেন্টই তদন্তকারীদের হাতে সবচেয়ে বড় সূত্র হয়ে দাঁড়াল। 

POST A COMMENT
Advertisement